কথা রাখলেন, সন্দেশখালি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জানালেন আগামী কর্মসূচি

আজ বৃহস্পতিবার নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠক করে নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের কর্মসূচির জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Must read

আজ বৃহস্পতিবার নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠক করে নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের কর্মসূচির জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আগামী সোমবার সন্দেশখালি যাচ্ছেন তিনি। লোকসভা ভোটের আগে ওই এলাকা ঘিরে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, বসিরহাটে তৃণমূল কংগ্রেস জিতলে তিনি সন্দেশখালি যাবেন। বছর ঘোরার আগেই কথা রাখলেন তিনি। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”নির্বাচনের আগে অনেকে আমায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন, দিদি আপনি সন্দেশখালি গেলেন না? আমি বলেছিলাম, যাব, পরে যাব। ৩০ ডিসেম্বর যাব।”

আরও পড়ুন-মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এবং সুর করা গান নিয়ে কনসার্ট কসবায়

এদিন তিনি জানান আগামী ৩০শে জানুয়ারি বেলা ১টায় সন্দেশখালিতে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। এরপর ২রা ২০২৫ জানুয়ারি প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করবেন। ৬ই জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে যাবেন। সেখানে তিনি প্রথমে ভারত সেবাশ্রম সংঘ, পরে কপিলমুনির আশ্রম পরিদর্শন করবেন। ৮ই জানুয়ারী বাবুঘাটে গঙ্গাসাগরের ক্যাম্প দেখতে যাবেন। সেখানে ই-ভেসেলের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া ৫ ও ৬ই ফেব্রুয়ারী বেঙ্গল বিজনেস সামিটের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

এবছর ৫ জানুয়ারি থেকে খবরের শিরোনামে উঠে আসে সন্দেশখালি। লোকসভা ভোট পর্যন্ত খবরের শিরোনামে ছিল সন্দেশখালি। একে হাতিয়ার করতে চেয়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু
লাভ হয়নি। বসিরহাট লোকসভা যার মধ্যে সন্দেশখালি পড়ে- সেখান থেকেও জিতেছিল তৃণমূল। এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “নির্বাচনের আগে অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, দিদি আপনি সন্দেশখালি গেলেন না? আমি বলেছিলাম, সময়মতো যাব। ৩০ ডিসেম্বর বেলা ১টায় সরকারি ডিস্ট্রিবিউশন কর্মসূচিতে সন্দেশখালি যাব। সরকারের বিভিন্ন পরিষেবা মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে।” জানান, দুপুর একটায় সন্দেশখালির সরকারি বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তিনি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে উপভোক্তাদের সরকারি সাহায্য করা হবে। নিজে শতাধিক মানুষের হাতে পরিষেবা তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ২০ হাজার উপভোক্তা উপকৃত হবেন।

আরও পড়ুন-উত্তরপ্রদেশের পুত্রবধূর উপর দু’বার অ্যাসিড হামলা

এর পাশাপাশি ৬ জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি দেখতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সবদিক খতিয়ে দেখবেন। প্রথমেই তিনি যাবেন ভারত সেবাশ্রম সংঘে। এরপরে কপিলমুণির আশ্রমে যাবেন।

৮ তারিখ মিলেনিয়াম পার্কের বিপরীতের মেলায় যাবেন মমতা। ই-ভেসেল পরিষেবার উদ্বোধন করবেন। আইটিসি-র এআই-র হাব তৈরি হয়েছে। সেটাও মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্বোধনের জন্য সংস্থার তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেখানে যাবেন কি না তা নিয়েও এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান মমতা। একই সঙ্গে জানান, ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গল বিজনেস সামিট রয়েছে। সব কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে কালীঘাটের স্কাইওয়াকের উদ্বোধন হতে পারে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের তারিখ আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন-গত এক দশকে উষ্ণতম বড়দিন

একই সঙ্গে ১ জানুয়ারি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস। মমতা বলেন, তিনি প্রশাসনিক ভবন থেকে দলের কথা বলেন না। তবে, এদিন রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিষয়ে মমতা জানান, ২৬ পূর্ণ হয়ে ২৭-এ পা দিচ্ছে তৃণমূল। এই দিনটি মা-মাটি-মানুষ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সেই উপলক্ষ্যে রক্তদান শিবির করা হবে রাজ্যজুড়ে। সেই রক্ত আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জীবনদায়ী হয়ে কাজে দেয়।

Latest article