এই নিয়ে পাঁচ বার! দু’দিনের মধ্যেই ফের একবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবারের চিঠিতে এসআইআর-এর শুনানি-পর্বে মানুষের হয়রানির কথাই আরও একবার তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুনানিতে গিয়ে মানুষ ষে সব নথিপত্র জমা দিচ্ছেন, তার কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। অতএব আরো একবার হয়রানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আগের ভোটার তালিকার সূত্রে নির্বাচন কমিশনের কাছেই যে তথ্য থাকার কথা, সেই তথ্য আবার ভোটারদের কাছে চাওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন-বৈদেশিক বাণিজ্যে ধারাবাহিকতা পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগমনের অনন্যতা
এদিনের চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে ২০০২ সালের মূল ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁদের অনেককেই ফের শুনানিতে ডাক পাঠানো হচ্ছে। কমিশনের কাছে তথ্য ঠিকমতো না-থাকায় সফ্টঅয়্যারে সেটা ধরা পড়ছে না, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ জনতাকে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন নোটিশ দিতে গিয়ে কমিশনের প্রতিনিধিরাও অস্বস্তিতে পড়ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিনা কারণে শুনানিতে তলব করা হচ্ছে। এছাড়া এভাবে যথেচ্ছ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না দেওয়ার জন্যও সিইসি-র কাছে ফের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন-সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন ইডি-র
আগেও অনেক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে পুরনো নথি স্ক্যান ও অনুবাদের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় নাম, বয়স, লিঙ্গ, সম্পর্ক বা অভিভাবকের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে গুরুতর ভুল হচ্ছে। এর ফলেই বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ দেখিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গত ২৩ বছরে অসংখ্য ভোটার ফর্ম-৮ জমা দিয়ে সরকারি নথির ভিত্তিতে তাঁদের তথ্য সংশোধন করিয়েছেন এবং তার ভিত্তিতেই বর্তমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়াকে ধূলিস্যাৎ করে আবার নতুন করে পরিচয় ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য ভোটারদের বাধ্য করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-স্বামী বিবেকানন্দর জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রীর
এরপরেই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন ইলেকশন কমিশন কি তাহলে নিজস্ব আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়াকেই অস্বীকার করছে? গত দু’দশকে হওয়া সব সংশোধনকে অবৈধ মনে করা হচ্ছে? তিনি স্পষ্ট জানান এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ হঠকারিতার বশে করা হয়েছে এবং সংবিধানের চিন্তাধারার পরিপন্থী।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন দ্রুত এই বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করবে বলেই তিনি আশাবাদী। জানিয়েছেন, শুধু সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করাই নয়, প্রশাসনিক পদ্ধতিকে চাপমুক্ত রাখা এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

