বঙ্গ

মুখ্যমন্ত্রীর জনহিতকর প্রকল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন স্বাস্থ্যসেবায়

প্রতিবেদন : বাংলার মা-মাটি-মানুষের সরকারের সৌজন্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তন শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত বিভিন্ন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নই বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নয়নের দিশা দিয়েছে।
বাংলায় স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পগুলি বিপ্লব এনেছে জনস্বাস্থ্যে। এই সব প্রকল্পের হাত ধরে আজ কোটি কোটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে চলেছে নিরন্তর। শুধু স্বাস্থ্যসাথীই নয়, চোখের আলো, শিশুসাথী, ন্যায্যমূল্যের ওষুধ বিপণি, ফেয়ার প্রাইস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টেলিমেন্টাল হেলথ প্রকল্প চালু করা হয়েছে বাংলার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা দিতে। আর সব উদ্যোগই নিয়েছেন বাংলার মানবিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন-মদ্যপ পরিচালকের গাড়িতে পিষে মৃত্যু, চুপ কেন টলিউডের বিপ্লবীরা?

পরিসংখ্যান বলছে, স্বাস্থ্যসাথীতে ২.৪৫ কোটি পরিবারের ৮.৫১ কোটি মানুষ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তার মধ্যে ৮৫ লক্ষের বেশি উপভোক্তা ১১,০৯৮.৪৬ কোটি টাকার পরিষেবা পেয়েছেন। চোখের আলোয় ১.৩৫ কোটি মানুষের চক্ষু পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ১২.৪৫ লক্ষ মানুষের ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। ১৪.৪৮ লক্ষ মানুষকে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়েছে। শিশুসাথী প্রকল্পে ৩২,০০০ জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা করা হয়েছে।
১০,০০০টি ক্লেফট লিপ বা প্যালেট ও ক্লাব ফুটের চিকিৎসা করা হয়েছে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে রাজ্য। ৯৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হচ্ছে। মাতৃ মৃত্যুহার কমে এখন ১০৩। ২০১১ সালে ছিল ১১৩। শিশু মৃত্যুহার কমে ১৯। ২০১১ সালে ছিল ৩৪। শিশু টিকাকরণ ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ। ২০১১ সালে ছিল ৬৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য ইঙ্গিত প্রকল্পে ৪.৭৩ কোটি টেলি-পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ৭০,০০০ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। ১১৭টি ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান পরিষেবা দিচ্ছে। সেখানে মূল দামের ওপর ৪৮ থেকে ৮০ শতাংশ ছাড় মিলছে। ৩,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে সাধারণের। ফেয়ার প্রাইস ডায়াগনস্টিকের ১৭০টি ইউনিট কার্যকর রয়েছে রাজ্যে। সেখানে ২.৬৮ কোটি রোগীকে পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে ১,৭৮৫.২৫ কোটি টাকার। এছাড়া ৩১টি ব্লাড ব্যাঙ্ক তৈরি হয়েছে মা-মাটি-মানুষের সরকারের আমলে। ২০১১ সালে ছিল ৫৮টি। মোট ৮৯টি ব্লাড ব্যাঙ্ক কাজ করছে রাজ্যে। ৪০টি ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট চালু হয়েছে। ৬৯টি ব্লাড স্টোরেজ ইউনিট নিকটবর্তী ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত।
টেলিমেন্টাল হেল্থে ৮৩,৬৫৯ জন রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের কাউন্সেলিং করা হয়েছে। ৫ লক্ষ রোগীর চিকিৎসা হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে।

Jago Bangla

Recent Posts

রাজ্যের কৃষি গবেষণায় বড় সাফল্য, উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের কৃষি গবেষণায় বড় সাফল্যের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নিজের…

1 hour ago

আরও একধাপ এগোলেন! ভ্যান্স-রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখল ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ড (Greenland_Donald Trump) দখলে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার একধাপ এগিয়ে মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর…

4 hours ago

নিজের কেবিনে একাধিক মহিলার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, সাসপেন্ড পুলিশকর্তা

এক নয়, একাধিক! নিজের দফতরে মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর শাস্তি পেলেন সেই পুলিশ আধিকারিক। কর্নাটক…

7 hours ago

রাজ্যে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

প্রতিদিন ১ ডিগ্রি করে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা (Kolkata) থেকে আগামী কয়েকদিনে প্রবল শীতের কনকনানি…

7 hours ago

সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি, নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

নয়াদিল্লি : অভূতপূর্ব ঘটনা বিজেপিতে (BJP)। মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই বিজেপি সভাপতি পদে বসলেন নীতিন…

7 hours ago

সিআরপিএফ ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার নাবালিকা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল ক্ষুব্ধ তৃণমূল

নয়ডা : ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে এখন নারী-নিরাপত্তার নামে যে কতবড় প্রহসন চলছে তা আরও…

7 hours ago