কুণাল ঘোষ, লন্ডন (মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী): অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে লন্ডন এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, সোমবার থেকেই তাঁর টানা কর্মসূচি। এখানে ভারতীয় হাই কমিশনের আমন্ত্রণে তাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Mamata banerjee)। রবিবার সকাল সাতটায় (ভারতীয় সময় বেলা সাড়ে বারোটা) যখন পৃথিবীর বৃহত্তম যাত্রীবাহী বিমান এ ৩৮০ এয়ারবাস লন্ডনের মাটিতে নামছে তখন এখানে তুমুল বৃষ্টি চলছে। তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে ঠান্ডা। একটু পর বৃষ্টি ধরে এলেও লন্ডনের আকাশের মুখ গোমড়া। দিনভর মেঘলাই রইল। তবে বেলা বাড়তে ঠান্ডা একটু গা সওয়া হল। কিন্তু এসবে ভ্রুক্ষেপ নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata banerjee)। তিনি বৃষ্টিভেজা লন্ডনে পা রেখেই কার্যত ডুবে গিয়েছেন কাজে। তাঁর পাখির চোখ বাংলার উন্নয়ন। বাংলায় বিনিয়োগ। চলতি বছরে সফলতম শিল্প সম্মেলন করার পর এই প্রথম বিদেশ সফর। ফলে বাংলার বিনিয়োগ মানচিত্রে নতুন পালক যোগ করতে যথেষ্ট উৎসাহী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই রবিবার লন্ডন পৌঁছে বাকিংহাম প্যালেসের ঢিলছোঁড়া দূরত্বে একটি হোটেলে নিজের রুমে বসে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছেন একটার পর একটা ফাইলে। আজ ২৪ মার্চ সোমবার ভারতীয় হাই কমিশনের অনুষ্ঠানের পরদিন ২৫ মার্চ রয়েছে ব্রিটিশ বণিকসভার সঙ্গে শিল্পপতিদের নিয়ে লগ্নি বৈঠক। ২৬ তারিখ সরকারি স্তরে বাণিজ্য বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। আর ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে ‘বাংলার নারীর ক্ষমতায়ন ও সাফল্য’ নিয়ে বক্তৃতা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৮ তারিখ রওনা হয়ে ২৯ মার্চ কলকাতায় ফিরবেন তিনি। কলকাতা থেকে প্রস্তুতি হোমওয়ার্ক করেই এসেছেন। তবুও লন্ডনে পৌঁছে চলছে শেষ দফায় একবার ঝালিয়ে নেওয়া। দিনভর ফাইলে চোখ রাখতে গিয়ে দফায় দফায় ডেকে নেন তাঁর সঙ্গে আসা মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, শিল্পসচিব বন্দনা যাদব, প্রিন্সিপাল সচিব গৌতম সান্যালদের। ফাইল ধরে ধরে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে চলে প্রস্তুতি বৈঠক। কারণ, সামনের তিন-চারটে দিনের একাধিক কর্মসূচিতে বাংলাকে তুলে ধরাই হবে প্রধান কাজ। ফলে বাংলার শিল্প-বাণিজ্য থেকে শুরু করে অর্থনীতি, সংস্কৃতি সবকিছু নিয়েই একটা ভাল রকম প্রস্তুতি রাখা। কারণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলা এখন অন্যতম সেরা গন্তব্য হয়ে উঠেছে। শনিবার কলকাতা থেকে রাত ৮.২০-র বিমানে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। মাঝরাতে দুবাই পৌঁছন। সেখান থেকেই লন্ডনের বিমান ধরেন। দুবাইয়ে বিমানে ওঠার পর তাঁর সম্মানে একটি বিশাল কেক উপহার দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। যাত্রীদের মধ্যেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে যথেষ্ট ঔৎসুক্য ছিল। এই লন্ডন সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এসেছেন একটি শিল্পপ্রতিনিধি দল, সাংবাদিক এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টরা। দীর্ঘদিন বাদে বিলেতের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার জয়গান করতে শোনা যাবে। এদেশের প্রবাসী ভারতীয় এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাঙালিরা মুখিয়ে আছেন মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনতে। তাঁদের প্রাণের বাংলাকে এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মা-মাটি মানুষের সরকার কীভাবে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাচ্ছে তা তাঁরা লন্ডনে বসে খবরে কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছে শোনেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি শুনবেন। অপেক্ষায় লন্ডন।
আরও পড়ুন-দিদির আবদার, দুবাই বিমানবন্দরে নাচে মাতালেন দুই গুজরাতি তরুণী