বঙ্গ

প্ররোচনায় পা দিয়ে অশান্তি নয়: বিপর্যস্ত এলাকায় গিয়ে সংযমের আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর

কারও প্ররোচনায় পা দিয়ে অশান্তি ছড়াবেন না। এমন কোনও কাজ করবেন না যা কাম্য নয়। উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্ত এলাকা নাগরাকাটা পরিদর্শনে গিয়ে এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারই বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে। এরপরেই এই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Mamata banerjee)।

এদিন উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে আক্রান্ত হন খগেন মুর্মু (Khagen Murmu) ও শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)। নির্বাচনের সময় দেখা যায় কিন্তু অন্য সময় বিজেপিকে দেখা যায় না- এই ক্ষোভ উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের। এদিন বিপর্যস্ত এলাকায় প্রচুর গাড়ি নিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষ ক্ষুব্ধ হন। সেই রোষ আছড়ে পড়ে এই দুজনের গাড়ির উপর। রীতিমতো লাঠি, ঝাঁটা, জুতো নিয়ে হামলা করেন স্থানীয়রা। আহত হন খগেন মুর্মু। শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তলে বিজেপি।

আরও পড়ুন- নির্বাচন কমিশনকে ঘুষ না দিয়ে উন্নয়ন করলে উত্তরবঙ্গ বিপর্যস্ত হত না: কেন্দ্রকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে পরিদর্শনে গিয়ে ঘটনার কথা উল্লেখ না করলেও এই বিষয়টি নিয়ে সংযত থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি (CM Mamata banerjee) স্পষ্ট জানান, “কারও প্ররোচনায় পা দিয়ে অশান্তি ছড়াবেন না। এমন কোনও কাজ করবেন না- যা কাম্য নয়।” রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কথায়, “সবারই যে কোনও জায়গায় যাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু ৩০-৪০ টি গাড়ি নিয়ে বন্যা কবলিত এলাকায় যাওয়া দুর্গত মানুষের ক্ষোভ হতে পারে। তবে, কাউকে আঘাত করা কাম্য নয়।”

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বার্তা, যে যাঁর মতো আসুক, কথা বলুক। কারও উপর আঘাত যেন না আসে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনও দুর্গত এলাকায় এলে সেখানকার মানুষের কথা শুনতে হবে। তাঁরা বিপর্যস্ত। ক্ষোভ জানাতেই পারেন। শোনার মানসিকতা নিয়ে আসতে হবে।

এর আগে বিজেপির সংসদ ও বিধায়ক এর উপর হামলার ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের তরফ থেকে কুনাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, “প্রথমেই আমরা স্পষ্ট জানাতে চাই — আমাদের দল কোনও ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করে না। আজ যা ঘটেছে, তা সম্পূর্ণভাবে বিজেপির নিজের কর্মফল। যখন সাধারণ মানুষ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, তখন বিজেপি নেতারা গাড়ির কনভয় নিয়ে শুধুমাত্র ফটোশুটের জন্য এলাকায় গিয়েছিলেন, কোনো ত্রাণ কার্যক্রম ছাড়াই। এতে স্থানীয় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাটি ঘটে। এটি বিজেপির দীর্ঘদিনের অন্যায় ও মানুষের প্রতি অবহেলার ফল। মানুষকে আগে বঞ্চিত করুন, তারপর তাদের দুঃসময়ে গিয়ে ফটো-অপস করুন — এটাই বিজেপির কাজের ধারা। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা শুরু থেকেই মাটিতে থেকে নিরলসভাবে মানুষকে সাহায্য করে চলেছেন — বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া যোদ্ধাদের মতো কেবল পোস্ট দিয়ে নয়, বাস্তবে পাশে থেকে।”

Jago Bangla

Recent Posts

আরও একধাপ এগোলেন! ভ্যান্স-রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখল ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ড (Greenland_Donald Trump) দখলে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার একধাপ এগিয়ে মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর…

59 minutes ago

নিজের কেবিনে একাধিক মহিলার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, সাসপেন্ড পুলিশকর্তা

এক নয়, একাধিক! নিজের দফতরে মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর শাস্তি পেলেন সেই পুলিশ আধিকারিক। কর্নাটক…

4 hours ago

রাজ্যে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

প্রতিদিন ১ ডিগ্রি করে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা (Kolkata) থেকে আগামী কয়েকদিনে প্রবল শীতের কনকনানি…

5 hours ago

সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি, নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

নয়াদিল্লি : অভূতপূর্ব ঘটনা বিজেপিতে (BJP)। মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই বিজেপি সভাপতি পদে বসলেন নীতিন…

5 hours ago

সিআরপিএফ ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার নাবালিকা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল ক্ষুব্ধ তৃণমূল

নয়ডা : ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে এখন নারী-নিরাপত্তার নামে যে কতবড় প্রহসন চলছে তা আরও…

5 hours ago

‘তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি’

দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতেই হত। এত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন সহ্যের সব…

5 hours ago