১ জানুয়ারি বাঙালির কাছে কল্পতরু উৎসবের সঙ্গে সমার্থক। কাশিপুর উদ্যানবাটি থেকে দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ, কামারপুকুর ভোর থেকে ভক্ত সমাগমে ভরে ওঠে। প্রবল ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কল্পতরু উৎসবের (Kalpataru utsav) শুভেচ্ছা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
২০২৫ এর শেষটা হয়েছে প্রবল শৈত্য প্রবাহের মধ্যে দিয়েই। অথচ ১ জনুয়ারির ভোরে কাশিপুর উদ্যানবাটিকে দেখে তা বোঝারই উপায় নেই। ভোর থেকে ভিড় ভক্তের। উদ্যানবাটিতে প্রথা অনুযায়ী শুরু হয় পূজাপাঠ। অন্যদিকে মন্ত্রোচ্চারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন কাশিপুর উদ্যানবাটিতে।
ভক্তের ঢল দক্ষিণেশ্বরেও। ভোররাত থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের লম্বা লাইন। বেলুড় মঠেও অগণিত ভক্তের উপচে পড়া ভিড়। আয়োজন করা হয়েছে প্রথা অনুযায়ী বিশেষ পূজার। কল্পতরু উৎসবের (Kalpataru utsav) দিন পরমহংসদেবের কাছে মন থেকে চাইলে সে ইচ্ছা পূরণ হয়, সেই বিশ্বাস থেকেই সাতসকালে মন্দিরের বাইরে ভক্তের ঢল।
আরও পড়ুন: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস: গণতন্ত্র রক্ষায় বার্তা দলনেত্রী ও অভিষেকের
১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি রোগে আক্রান্ত অবস্থায় যখন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের চিকিৎসা চলছিল কাশীপুর উদ্যানবাটিতে, সেই সময় তিনি ভক্তদের বলেছিলেন তোমাদের চৈতন্য হোক। চৈতন্য হওয়া মানে সব বিষয় সচেতন হওয়া। আত্ম শ্রদ্ধা, আত্ম সম্মানবোধ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্বন্ধে সচেতন হওয়া। রামচন্দ্র দত্ত এই ঘটনাকে বলেছিলেন – ঠাকুর সেদিন কল্পতরু হয়েছিলেন।
বাঙালির সেই চৈতন্যের প্রার্থনায় প্রতিবছর একইভাবে পালিত কল্পতরু উৎসব। আর সেই উৎসবে শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি জানান, সকলকে জানাই পবিত্র কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা।

