কেন শুনানিতে থাকবে না বিএলএ-২, জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর

Must read

প্রতিবেদন : অপরিকল্পিত ও প্রস্তুতিহীন এসআইআর প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশাসনিক গাফিলতিতে ভরা! ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনে একগুচ্ছ অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। চার পাতার চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট প্রশ্ন, এনুমারেশন ফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এসআইআরের শুনানিতে বিএলএদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে না কেন?
এদিনের চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, এর আগেও তিনি ২০ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর এই বিষয়ে চিঠি পাঠিয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কিন্তু ত্রুটি সংশোধনের বদলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কোনও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই তড়িঘড়ি এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তৃণমূলস্তরের আধিকারিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি, ব্যবহৃত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাও ত্রুটিপূর্ণ, অস্থির ও অবিশ্বস্ত এবং কমিশনের একের পর এক নির্দেশ পরস্পরবিরোধী। এর ফলে গোটা প্রক্রিয়াটাই মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

পরিকল্পনাহীন, ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশাসনিক গাফিলতিতে ভরা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে চিঠিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (CM Mamata Banerjee) লিখেছেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের তরফে হোয়াটসঅ্যাপ ও মৌখিক বার্তার মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে। অথচ এত বড় সাংবিধানিক গুরুত্বের প্রক্রিয়ার জন্য কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি বা আইনি নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। এর ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নষ্ট হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি প্রকৃত ভোটারদের বঞ্চিত করার পথ খুলে দিচ্ছে, যা সাংবিধানিক গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

আরও পড়ুন- লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক মহিলাদের ঘরে বন্দি করো! বিজেপিকে তোপ দাগলেন অভিষেক

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে ব্যাক এন্ড থেকে ভোটারদের নাম মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ইআরওদের অনুমতি বা অজান্তেই এই কাজ হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। কোন আইনি ক্ষমতায় এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এক রাজ্যে যে নথি বৈধ হিসেবে গৃহীত হচ্ছে, অন্য রাজ্যে সেটিই বাতিল করা হচ্ছে। বিহারে যে ফ্যামিলি রেজিস্টার পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য, বাংলায় তা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে অস্বীকার করা হচ্ছে। একইভাবে স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্রও গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর ফলে ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের বারবার শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে।

শুনানি প্রক্রিয়া নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটারদের আগাম জানানো হচ্ছে না কেন যে তাঁদের ডাকা হচ্ছে, কোন নথি লাগবে বা শুনানির পরে কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। বহু ক্ষেত্রে প্রবীণ, অসুস্থ মানুষদেরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শুনানিতে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিকেন্দ্রীকৃত শুনানি হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমত বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত অবজারভার প্যানেল উপেক্ষা করে অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে এবং মাইক্রো অবজারভারদের অনেকেরই এই সংবেদনশীল কাজের অভিজ্ঞতা নেই। এমনকী বুথ লেভেল এজেন্টদের শুনানি প্রক্রিয়ায় ঢুকতে না দেওয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বর্তমান অবস্থায় এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোর উপর আঘাত করছে। চিঠির শেষে তিনি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এই প্রক্রিয়ার ত্রুটি সংশোধন করার আর্জি জানিয়েছেন। তা না হলে এই অনিয়ন্ত্রিত ও তড়িঘড়ি চালানো প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি তুলেছেন তিনি।

Latest article