হয়রানি-সংবেদনহীনতা-রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারকে চতুর্থ চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর

Must read

রাজ্যে চলতি এস আই আর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘হয়রানি’, ‘সংবেদনহীনতা’ এবং ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতের’ অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন। শনিবার ওই চিঠিতে এসআইআর প্রক্রিয়াকে গণতন্ত্র ও সংবিধানের মূল ভিত্তির উপর আঘাত বলে চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata banerjee_Gyanesh Kumar) অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া এখন আর গঠনমূলক বা সংশোধনমূলক নেই, বরং তা শুধুই নাম বাদ দেওয়া ও ভোটার বঞ্চনার অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার জেরে ইতিমধ্যেই ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, ৪ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এবং ১৭ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভয়, ভীতি ও অযাচিত কাজের চাপ থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের মতো বর্ষীয়ান ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিকেও পরিচয় প্রমাণের জন্য নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কবি জয় গোস্বামী, সাংসদ ও অভিনেতা দীপক অধিকারী, ক্রিকেটার মহম্মদ শামি ও ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও একই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata banerjee_Gyanesh Kumar) প্রশ্ন, এ কি নির্বাচন কমিশনের ‘দুঃসাহসী ঔদ্ধত্য’ নয়?

রাজ্যের বাইরে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও সমান সংবেদনহীনতার অভিযোগ উঠেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বহু অনুরোধের পর কমিশন পরিবারের মাধ্যমে শুনানির অনুমতি দিলেও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশনের অনুধাবনের অভাব স্পষ্ট বলে মত নবান্নের।

আরও পড়ুন- মার্চের মধ্যে ২৫ হাজার কর্মসংস্থান: আশ্বাস অভিষেকের, ডিজি মাইনিং-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ, যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাঁদের কাজে নামানো হয়েছে। কোথাও কোথাও সাধারণ নাগরিকদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে গালিগালাজ করার অভিযোগও উঠেছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহৃত এসআইআর পোর্টাল অন্য রাজ্যের তুলনায় ভিন্ন এবং পিছন দিক থেকে অপশন বদলে দেওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তুচ্ছ বানান বা বয়সগত অমিলের জন্য নাগরিকদের বারবার শুনানিতে ডেকে হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। ‘মমতা’ বনাম ‘মমতা’, ‘কুমার’ বনাম ‘কোমার’—এই ধরনের সামান্য ভুলকে কেন্দ্র করে শুনানির ডাক দিয়ে মানুষের দৈনন্দিন রোজগার নষ্ট করা হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, এই ‘স্বৈরাচারী পদক্ষেপে’ ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, এখনও সময় আছে সঠিক বোধোদয় ঘটার এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে কমিশন প্রয়োজনীয় সংশোধনী পদক্ষেপ নেবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত আরও প্রকাশ্য হল এই চিঠির মাধ্যমে।

Latest article