বঙ্গ

আবাস যোজনা নিয়ে জেলা প্রশাসনকে মুখ্যসচিবের কড়া নির্দেশ

প্রতিবেদন : দু’দিনের মধ্যে আবাস যোজনা প্রকল্পের ৮৪ শতাংশ বাড়ির অনুমোদন দিতে হবে জেলাগুলিকে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে এই প্রকল্পে সুবিধা প্রাপকদের নামের চূড়ান্ত তালিকা আবশ্যিকভাবে পাঠানোর জন্য সব জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী (Awas Yojana- Harikrishna Dwivedi)। বুধবার আবাস প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মুখ্যসচিব বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেখানেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত আবাস যোজনার অধীনে ১ লক্ষ ৮১ হাজার বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে বাকি ৮৪ শতাংশ বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যসচিব (Awas Yojana- Harikrishna Dwivedi)। কারণ কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের ৩১ মার্চ অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যেই আবাস যোজনার অধীনে রাজ্যে ১১ লক্ষ ২৪ হাজারেরও বেশি বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্দিষ্ট। সূত্রের খবর, সংশোধন করে এই মুহূর্তে ৩৯ লক্ষের মতো উপভোক্তার নাম যোগ্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঠাঁই পেয়েছে। কিন্তু তার ভিতর থেকে সমস্ত শর্তপূরণ করে মাত্র ১১ লক্ষ ৩৬ হাজার উপভোক্তা বাড়ি পাবেন। বুধবার পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ উপভোক্তার আবেদন মঞ্জুর করেছে জেলাগুলি। তাই যুদ্ধকালীন তত্পরতায় কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। ঝাড়গ্রাম, উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে আবাস যোজনার আগের তালিকার ৪০ শতাংশেরও বেশি নাম বাদ গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যসচিবের বার্তা, দু’দিনের মধ্যেই আপনারা দ্রুত কাজ শেষ করুন। প্রয়োজন হলে দিনরাত জেগে কাজ করুন। রাজ্য জুড়ে আবাস যোজনা বিক্ষোভের আবহে মুখ্যসচিবের এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যের বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় গ্রামান্নোয়ন মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে প্রকল্প রূপায়ণের রূপরেখাও তৈরি করে ফেলেছে রাজ্য। এ জন্য এখন থেকেই পঞ্চায়েত স্তরে বাড়ি নির্মাণের জন্য ইটভাটা থেকে সরাসরি উপভোক্তাদের ইট সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যান্য কাঁচামাল সরাসরি ডিলার বা সাপ্লায়ারের কাছ থেকে কেনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণের কাজ নজরদারি করতে ব্লক স্তরে কন্ট্রোল রুম চালু করে প্রত্যেক মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখ আবাস সপ্তাহ পালন নির্মাণের তদারকি করতে হবে। গৃহহীনদের জন্য সরকারি জমি চিহ্নিতকরণের কাজ বিএলএলআরওদের দ্রুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের অগ্রগতি ব্লক থেকে মহকুমা ও জেলাশাসক স্তরে নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। বরাদ্দ টাকা খরচের আগে বাড়ি ধরে ধরে জিও ট্যাগিং বাধ্যতামূলক। তিন দফায় টাকা দেওয়া হবে। প্রত্যেক বাড়িতে স্বচ্ছ ভারত মিশন বা মনরেগার টাকায় শৌচালয় তৈরি করে দিতে হবে। বাড়ির চার দিকে বায়ো ফেন্সিং বা গাছ দিয়ে বেড়া দিতে হবে। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের টাকায় এই কাজগুলি করতে হবে।

আরও পড়ুন-নববর্ষে বৃষ্টির সম্ভাবনা, বাড়বে ঠান্ডার প্রকোপ

Jago Bangla

Recent Posts

নিজের কেবিনে একাধিক মহিলার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, সাসপেন্ড পুলিশকর্তা

এক নয়, একাধিক! নিজের দফতরে মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর শাস্তি পেলেন সেই পুলিশ আধিকারিক। কর্নাটক…

2 hours ago

রাজ্যে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

প্রতিদিন ১ ডিগ্রি করে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা (Kolkata) থেকে আগামী কয়েকদিনে প্রবল শীতের কনকনানি…

2 hours ago

সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি, নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

নয়াদিল্লি : অভূতপূর্ব ঘটনা বিজেপিতে (BJP)। মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই বিজেপি সভাপতি পদে বসলেন নীতিন…

2 hours ago

সিআরপিএফ ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার নাবালিকা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল ক্ষুব্ধ তৃণমূল

নয়ডা : ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে এখন নারী-নিরাপত্তার নামে যে কতবড় প্রহসন চলছে তা আরও…

2 hours ago

‘তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি’

দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতেই হত। এত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন সহ্যের সব…

2 hours ago

হাড় নিরাময়কারী আঠা

অর্থোপেডিক সার্জারির এক নতুন দিগন্ত। হাড় বা অস্থি, দেহের অন্যতম শক্ত অংশ যা আমাদের শরীরের…

2 hours ago