জাতীয়

আয়করে ছাড় দেওয়া আসলে বড় জাগলারি

প্রতিবেদন : আয়করে ছাড় দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার দেখাতে চাইছে কী না কী করেছে। কিন্তু তা আসলে ভয়ঙ্কর জাগলারি। এটা ফের একবার প্রমাণ করছ, কেন্দ্রীয় সরকার মুখে এক কথা বলে, আর কাজে এক করে। কথায়-কাজে কোনও মিল নেই। এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে আয়করে ছাড়ের মধ্যে ছদ্মবেশী অস্ত্র লুকিয়ে রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিল তৃণমূল। এদিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, এবার বাজেটে যে আয়কর ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হচ্ছে, তাতে প্রকৃত উপকারিতা মানুষ পাবেন না। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের কথায়, আয়কর ছাড় নিয়ে যেসব কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতারা বলছেন, তার কোনও সুযোগ-সুবিধা দেশের আমজনতা পাবেন না। কারণ প্রথমত, কথায়-কাজে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী কেন্দ্রের সরকার। তাই বাস্তবায়নের ভয়ঙ্কর আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তারপর ছাড় বাড়িয়েছেন ঠিক কথা। কিন্তু বর্ধিত ছাড়ের উপর ভয়ঙ্কর জাগলারি হয়েছে। বাস্তবে তা মানুষের উপকারে লাগবে না। একদিকে বলা হচ্ছে আয়করে ছাড়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কোনও ব্যবস্থা নেই। যেভাবে মুদ্রাস্ফীতির কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তাতে কী লাভ হবে? বাজেটে কর্মসংস্থানের কোনও দিশা নেই, সমাজকল্যণে বরাদ্দ ছাঁটাই হয়েছে। বোঝানো হচ্ছে আপনি ছাড় পাচ্ছেন। কিন্তু সেই সঞ্চয় বেরিয়ে যাচ্ছে। প্র্যাক্টিক্যালি কিছুই বাঁচাতে পারছেন না আমজনতা। রাজ্যের অর্থ উপদেষ্টা অমিত মিত্র আয়কর ছাড় নিয়ে বলেন, বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে কোনও দিশা নেই। ফলে যে করের টাকা বাঁচবে, সেটা গিলে নেবে মুদ্রাস্ফীতি। ফলে মধ্যবিত্তের হাতে পেন্সিল। কর ছাড়ের সুবিধা পাবে না মধ্যবিত্ত।

আরও পড়ুন-সামাজিক প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দ কমিয়ে দিল কেন্দ্র

তারপর প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, আয়কর ক’জন দেন। দেশের মাত্র ৮ কোটি মানুষ আয়কর দেন। মোট যে দেশের জনসংখ্যা, তার তুলনায় নগণ্য। অর্থাৎ বৃহত্তর মানুষ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাঁদের কল্যাণের কোনও বিষয় নয় এটা। এ-প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, ৮ কোটি মানুষকে সুবিধা দিয়ে কথার জাগলারি করা হচ্ছে। কতজন মানুষ ১ লক্ষ করে বেতন পান মাসে। সেই সংখ্যা তো অতি নগণ্য। দেশের বেশিরভাগ মানুষই কোনও উপকারিতা পাচ্ছেন না। তার কারণ বহু খাতে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেখানে সাধারণ মানুষ সুবিধা পেতেন তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, না হলে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে বরাদ্দ। ফলে পরিষেবা মিলছে না। এটা একটা মারাত্মক প্রবণতা।

Jago Bangla

Recent Posts

নিজের কেবিনে একাধিক মহিলার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, সাসপেন্ড পুলিশকর্তা

এক নয়, একাধিক! নিজের দফতরে মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর শাস্তি পেলেন সেই পুলিশ আধিকারিক। কর্নাটক…

3 hours ago

রাজ্যে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

প্রতিদিন ১ ডিগ্রি করে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা (Kolkata) থেকে আগামী কয়েকদিনে প্রবল শীতের কনকনানি…

4 hours ago

সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি, নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

নয়াদিল্লি : অভূতপূর্ব ঘটনা বিজেপিতে (BJP)। মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই বিজেপি সভাপতি পদে বসলেন নীতিন…

4 hours ago

সিআরপিএফ ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার নাবালিকা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল ক্ষুব্ধ তৃণমূল

নয়ডা : ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে এখন নারী-নিরাপত্তার নামে যে কতবড় প্রহসন চলছে তা আরও…

4 hours ago

‘তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি’

দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতেই হত। এত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন সহ্যের সব…

4 hours ago

হাড় নিরাময়কারী আঠা

অর্থোপেডিক সার্জারির এক নতুন দিগন্ত। হাড় বা অস্থি, দেহের অন্যতম শক্ত অংশ যা আমাদের শরীরের…

4 hours ago