পাখি ছাড়া বাস্তুতন্ত্র অচল
ডানা মেলে উড়ে যায়। বহু বহু দূরে যায়। পাখি। প্রকৃতির অন্যতম সুন্দর সৃষ্টি। প্রায় প্রতিটি মানুষই পাখি ভালবাসে। মনেপ্রাণে পাখি হতে চায়। ছাত্র হতে চায় পাখিদের পাঠশালায়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘুম ভাঙে পাখির ডাকে। তাদের রংবেরঙের ডানা মন কেড়ে নেয়। নানা প্রজাতির পাখি। বাস্ততন্ত্রেও তাদের রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই পাখি ছাড়া বাস্তুতন্ত্র কার্যত অচল। এটা ঠিক, গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। তবে গাছকে রক্ষা করে পাখি। পাখিরা যদি সাহায্য না করত, তাহলে এই পৃথিবীতে মানুষের বসবাস করাই দায় হয়ে পড়ত। খেতখামার, বনজঙ্গল, ফল ও ফুলের বাগানে অসংখ্য ছোটবড় নানান জাতের পোকামাকড় রয়েছে। তারা গাছপালা খেয়ে নষ্ট করে। সংখ্যায় তাড়াতাড়ি বাড়ে। তাদের এভাবে বাড়তে দেওয়া কোনওভাবেই উচিত নয়। বাড়তে থাকলে তারা গাছপালা খেয়ে উজাড় করে দেবে। হারিয়ে যাবে সবুজ। মরুভূমি হয়ে যাবে পুরো বিশ্ব। এইসব পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গকে নিয়ন্ত্রণে রাখে পাখি।
আবাবিল ও বাতাসি পাখির কথা অনেকেই জানি। কীটপতঙ্গ শিকার করতে তাদের জুড়ি নেই। শূন্যে উড়ে উড়ে বিচিত্ররকম ভঙ্গি করে উড়ন্ত পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ ধরে ধরে খায়। অল্পসময়ের মধ্যে অনেক পোকা ধরে খেয়ে ফেলতে পারে। একটি ছোট পাখি ঘণ্টায় প্রায় বারোশো পোকা ধরে খেয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখে। ঘরের আশপাশে থাকে যেসব বিষধর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ, তাদের ধরে ধরে খায় চড়ুই এবং দোয়েলরা।
আরও পড়ুন-কেন ওদের হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনে বিবেকানন্দই ঢাল আমাদের?
ফুলের পরাগ সংমিশ্রণে পাখিরা সবচেয়ে সক্রিয়। নানান রকম মৌটুসি, দুর্গা-টুনটুনি, ফুলঝুরি ইত্যাদি পাখি ফুলের ভেতর থেকে মধু বার করে খায়। মধু খাওয়ার সময় ফুলের কিছু রেণু ওদের মাথায় কিংবা পালকে কিংবা ঠোঁটের চারপাশে আটকে যায়। শরীরে রেণুমাখা পাখিটি যখন অন্য ফুলে গিয়ে বসে, তখন তার বয়ে আনা রেণু অন্য ফুলের রেণুর সঙ্গে মিশে ফল ফলাবার কাজে লাগে।
অপছন্দের পাখিও উপকার করে। চিল, ঈগল, বাজ এবং অন্যান্য শিকারি পাখিকে মানুষ পছন্দ করে না। কারণ তারা পোষা হাঁস-মুরগির ছানা খেয়ে ফেলে। কিন্তু এই কথাও সত্য, তারা মেঠো ইঁদুর, নেংটি ইঁদুর ইত্যাদি শিকার করে ফসলের খেতের উপকারও করে। পাখির ডিম-বাচ্চা খেয়ে ফেলে এমন সাপ ও অন্যান্য প্রাণীকেও ওরা শিকার করে। ফণা-তোলা বিষধর সাপকে খায় ঈগল।
মশামাছি, কীটপতঙ্গ বিষাক্ত জীবাণু ছড়িয়ে দেয় মানুষের মধ্যে। এসব মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গের হাত থেকে বিপন্ন মানুষকে রক্ষা করে পাখিই। ভুবনচিল, শঙ্খচিল আর কাকেরা ময়লা খেয়ে শহর পরিচ্ছন্ন রাখে। মরা জন্তু ও অন্যান্য ময়লা খেয়ে গ্রামাঞ্চলের পথঘাট আর মাঠ পরিষ্কার রাখে শকুনরা। দেশে দুর্ভিক্ষ হলে, বন্যা হলে শকুনেরা ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসে নিচে। চারপাশে ছড়ানো মরা জন্তুদের খেয়ে ফেলে অল্পসময়ের মধ্যে। শকুনেরা এত তাড়াতাড়ি খাবার গিলতে পারে যে দেখলে চমকে উঠতে হয়।
কাঠঠোকরারা পাখি গাছের ডাল এবং গুঁড়ি থেকে পোকা খুঁটে খুঁটে খায়। কৃষক যখন জমিতে লাঙল দেন, তখন গো-বক, ছোট সাদা বক, গো-শালিক, ফিঙে ইত্যাদি পাখি নানাবিধ পোকামাকড় খেয়ে হালের গরুকে পোকার জ্বালাতন থেকে রক্ষা করে। গরু এবং ছাগল মাঠে ঘাস খাওয়ার সময় জোঁকসহ নানাবিধ পোকা আক্রমণ করে। ফিঙে এবং শালিকের দল সেই আক্রমণ থেকে গরু-ছাগলকে রক্ষা করে। গরু ও ছাগলের লোমের ভেতর এক ধরনের পোকা বাসা বাঁধে। পাখিরা সেইসব পোকাও খুঁটে খুঁটে খায়।
নানা রঙের ফল ও ফুলে ভরা গাছপালায় পাখিরা ভিড় করে সবসময়। কারণ হল খাদ্য সংগ্রহ। ওদের এই খাদ্য সংগ্রহ গাছের এবং মানুষের জন্য বিস্ময়করভাবে উপকারী। পাখিরা পাকা ফল খাওয়ার সময় বীজটিও খেয়ে ফেলে। পরে সেই বীজ তার বর্জ্য হয়ে বেরিয়ে যায়। এতে দেখা যায়, একটি গাছের বীজ নানা স্থানে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই বীজগুলো যদি পাখিরা না খেত, তাহলে সমস্ত বীজ বড় গাছের নিচে পড়ত। হাজার হাজার গাছ জন্মাত। এসব গাছ না পেত আলো, না পেত বাতাস, না পেত জল এবং না পেত বেড়ে ওঠার জন্যে প্রয়োজনমতো জায়গা। ফলে শুকিয়ে মরে যেত। বীজ ভালভাবে ছড়িয়ে দিতে এবং গাছকে ভালভাবে বড় করে তুলতে পাখিরাই সবচেয়ে যোগ্য। শুধু তাই নয়, অনেক ছোট ছোট বীজ পাখিদের কাদামাখা পায়ে অথবা পালকে আটকে যায়। এভাবে দূর দেশে পাখির সঙ্গে চলে যায় গাছের বীজ। আমাদের দেশে এমন অনেক বিদেশি গাছ আছে, যা অতিথি পাখিরা নিয়ে এসেছিল বীজ অবস্থায়। আমাদের দেশের অনেক গাছের বীজ ওরা নিয়ে গেছে বিদেশে। এভাবে একটি গাছের বীজ শুধু কয়েক মাইলের মধ্যে নয়, কয়েক হাজার মাইল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন-পুত্র সন্তানের মা হলেন অদিতি মুন্সী
শীতের অতিথি
শীত এলেই জলাভূমি, হাওর-বাঁওড়, নদীর চর ও খোলা মাঠে ভিড় করে অচেনা অতিথিরা। এরা পরিযায়ী পাখি। ঋতু-পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এক দেশ, এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে ছুটে আসে। প্রকৃতির এই নিয়মিত অভিবাসন শুধু সৌন্দর্যই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ। পরিযায়ী পাখিরা মূলত পৃথিবীর উচ্চ অক্ষাংশের ঠান্ডা অঞ্চল থেকে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উত্তর ইউরোপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়া, রাশিয়ার উত্তরাংশ, সাইবেরিয়া ও মধ্য এশিয়া, উত্তর আমেরিকার কানাডা ও আলাস্কা অঞ্চল, উত্তর এশিয়ার আর্কটিক উপকূল। এই সব অঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত কমে যায়। জলাশয় বরফে ঢেকে যায়। খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। তাই টিকে থাকার জন্য পাখিরা অপেক্ষাকৃত উষ্ণ অঞ্চলের পথে পাড়ি জমায়।

শীতের সময় পরিযায়ী পাখিরা সাময়িকভাবে ঠাঁই নেয় সাধারণত এশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, ইউরোপ থেকে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায়, উত্তর আমেরিকা থেকে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়, উত্তর এশিয়া থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ, চিন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায়। তারা শীত অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের মধ্যে। ঘরে ফিরে যায় ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে। যাত্রাপথে অনেকটাই সময় লাগে। পাখির প্রজাতি ও পথভেদে যাত্রার সময় ভিন্ন হয়। কেউ কয়েক দিন টানা উড়ে আসে। কেউ ২-৬ সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে আসে। অনেক পাখি পথে পথে জলাভূমি ও উপকূলে বিশ্রাম ও খাদ্য সংগ্রহ করে। কিছু প্রজাতি দিনে শত শত কিলোমিটার উড়তে সক্ষম। পরিযায়ী পাখিরা সাধারণত শীতকালীন আশ্রয়স্থলে ডিম পাড়ে না। তারা বসন্তকালে নিজেদের আদি ঠান্ডা অঞ্চলে ফিরে যায়। সেখানেই বাসা তৈরি করে। ডিম পাড়ে। কারণ ঠান্ডা অঞ্চলের গ্রীষ্মকালে দিন বড় হয়, খাদ্য প্রাচুর্য থাকে এবং বাচ্চা লালন-পালনের জন্য পরিবেশ অনুকূল থাকে। শীতকালে যে সব পাখি মহাদেশ পাড়ি দেয়, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— হাঁস ও রাজহাঁস, চখাচখি ও গাংচিল জাতীয় পাখি, বালিহাঁস ও জলচর পাখি, স্যান্ডপাইপার ও প্লোভার, সাইবেরিয়ান ক্রেন, ফ্ল্যামিঙ্গো। আর্কটিক টার্ন সবচেয়ে দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াতকারী পাখিদের একটি। এদের অনেকেই হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া বা দক্ষিণ আমেরিকায় শীত কাটায়।
পরিযায়ী পাখিরা পরিবেশের স্বাস্থ্য নির্দেশক। জলাভূমি ধ্বংস, দূষণ ও অবৈধ শিকার তাদের জন্য বড় হুমকি। নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্য নিশ্চিত করতে পারলে এই অতিথিরা প্রতি বছরই ফিরে আসবে। পরিযায়ী পাখির শীতকালীন যাত্রা প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়। ডানায় ভর করে তারা শুধু দেশ-মহাদেশ নয়, মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্ককেও জুড়ে দেয়। এই শীতে তাদের আগমন আমাদের মনে করিয়ে দেয়— প্রকৃতি বাঁচলে, আমরাও বাঁচব।

পাখি দেখে আনন্দ
পাখির টানে বেরিয়ে পড়েন বহু মানুষ। ছুটে যান দূরে। তাঁদের বলা যায় পক্ষীপ্রেমী বা পক্ষী পর্যবেক্ষক। পাখির রঙের বাহার, ওড়ার কৌশল পর্যবেক্ষণের জন্যেই তাঁরা মূলত বেরিয়ে পড়েন ক্যামেরা সঙ্গে নিয়ে। চেনা থেকে অচেনা, পাখি দেখলেই যেন এক অনাবিল আনন্দ। তার ডানা ঝাপটানো, হাঁটার স্টাইল, দীর্ঘক্ষণ ধরে পর্যবেক্ষণেই যেন এক পরম সুখ। কেউ পাখি দেখেন শখে। আবার কেউ পেশাগত ভাবেও। তাঁদের পর্যবেক্ষণেই জানা যায়, কোন পাখি কমছে, আবার কোন অঞ্চলে নতুন কোন প্রজাতির পাখির সন্ধান মিলেছে। এই পাখি দেখার সঙ্গেই জুড়ে যায় আনন্দ। নতুন কিছু চেনা ও শেখা। শুধু পাখি দেখা নয়, একসঙ্গেই প্রকৃতির সান্নিধ্য, গাছের পাতা থেকে ফুল চিনে নেওয়া আসলে মনের মধ্যে থাকা চোরাগোপ্তা মুক্তির আনন্দ, স্বল্প সময়ের জন্য হলেও এনে দেয়। হয়তো বইয়ের পাতায় দেখা কোনও একটা পাখি চাক্ষুষ করার ইচ্ছা ছিল। সেই পাখির দেখা মিললে প্রাপ্তির আনন্দে নেচে ওঠে মন। পাখি দেখতে যাওয়া মানেই প্রকৃতির আরও কাছে আসা। কংক্রিটের শহরাঞ্চলের বাইরে খুঁজে নেওয়া কোনও বড় জলাশয়, গাছপালা। প্রকৃতির এই সংস্পর্শে মনের দুশ্চিন্তা, খারাপ লাগা দূর হতে পারে এক নিমেষে। গাছপালা, বন্যপ্রাণ, পাখির প্রতি তৈরি হয় ভালবাসা। যা প্রকৃতিকে বাঁচাতেও উদ্যোগী করে তোলে। পক্ষী পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজন মনোসংযোগ, ধৈর্যশক্তি। পাখি দেখা সাধনার চেয়ে কম নয়। কাঙ্ক্ষিত প্রজাতির পাখি দেখতে, তার ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিঃশব্দে অপেক্ষা করতে হয়। কখনও পাখির ছবি তুলতে তার দিকে নজর রেখে এ-দিক থেকে ও-দিক ছুটে বেড়াতে হয়। তাই পাখি দেখার আগ্রহ তৈরি হলে, মনকে কেন্দ্রীভূত করার অভ্যাসও ধীরে ধীরে তৈরি হবে। পাখি চিনতে শেখা, পাখির প্রজাতি আর আনাগোনা সম্পর্কে শিক্ষা একটা বড় লাভ এই ক্ষেত্রে। শুধু পাখি নয়, পাখি দেখতে গিয়ে চিনে নেওয়া যায় গাছ, প্রজাপতি, পতঙ্গও। প্রকৃতির কাছে যেতে যেতে বাড়তে থাকে শিক্ষার পরিধিও। কোথায় কোন পাখি কত ছিল, এখন কত আছে, কোন পরিযায়ী পাখি কোন ঝিলে আসছে, এই সংক্রান্ত সব তথ্যও লিপিবদ্ধ হয় এই শিক্ষা থেকেই। ক্ষণিকের জন্য হলেও রোজের কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি থেকে মুক্তির পথ খুলে যায়। পছন্দের কোনও কিছু সব সময়ই খুশি দেয়। পাখি দেখার ক্ষেত্রেও সেই ভাললাগাই কাজ করে। যা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, পাখি দেখার জন্য প্রচুর হাঁটহাটিতে শরীরও ভাল থাকে। সাঁতরাগাছি ঝিল হাওড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়। শীতকালে সাইবেরিয়া ও মধ্য এশিয়া থেকে আসা অসংখ্য পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। এখানে লেসার হুইসলিং ডাক, গ্যাডওয়াল, নর্দান পিনটেল, কমন মুরহেন, সোয়াইনস স্নিপ, ফেরুগিনাস পোচার্ড-এর মতো নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায়, যা পক্ষীপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ আকর্ষণ।
কলকাতার রবীন্দ্র সরোবরে প্রতি বছর শীতকালে সাইবেরিয়া ও মধ্য এশিয়া থেকে বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি আসে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরোবরের পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এদের সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলে পাখিপ্রেমীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবুও কিছু নতুন প্রজাতিও দেখা যাচ্ছে
মহাসংকটে পাখি
বর্তমানে মহাসংকটে রয়েছে পাখি। শিকার, দূষণ-সহ একাধিক কারণে প্রকৃতি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা বড় চিন্তার বিষয়। তাই বাস্তুতন্ত্রের সমতা বজা রাখতে পাখি সংরক্ষণের উপর জোর দিতে হবে। এই বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ২০০২ সাল থেকে আমেরিকায় পাখি দিবস পালন করা হচ্ছে। আমেরিকার পর ভারতেও প্রতি বছর ৫ জানুয়ারি পালন করা হয় পাখি দিবস। পাখিদের কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, প্রতি বছর এই দিনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সদ্য পেরিয়ে এসেছি সেই দিন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও গোটা দেশ জুড়ে পালিত হয়েছে জাতীয় পাখি দিবস। পাখিদের খাঁচায় বন্দি না রেখে, তাদের বিক্রি না করে খোলা আকাশে উড়তে দিতে হবে। ডানা মেলে আপনমনে উড়ুক তারা। বুঝতে হবে খাঁচার পাখি এবং বনের পাখির তফাত। মনে রাখতে হবে, পাখি বাঁচলেই আমরা বাঁচব।


