নয়াদিল্লি : ২০২৬ সালের শুরুটাও ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য সুখকর হল না। বছরের মাত্র প্রথম দুটি লেনদেনের অধিবেশনে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (এফপিআই) ভারতীয় ইক্যুইটি বাজার থেকে ৭,৬০৮ কোটি টাকা (প্রায় ৮৪৬ মিলিয়ন ডলার) তুলে নিয়েছেন। ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরি লিমিটেড (এনএসডিএল)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ ও ২ জানুয়ারির মধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে, যা গত বছরের ধারাবাহিক বিক্রির ধারাকেই বজায় রেখেছে। ২০২৫ সালেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা রেকর্ড পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করেছিলেন, যার মোট অঙ্ক ছিল প্রায় ১.৫৮ লক্ষ কোটি টাকা। মূলত রুপির ক্রমাগত দরপতন, আমদানি শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভারতীয় শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্যায়নের আশঙ্কাই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই লাগাতার বিক্রির চাপ সরাসরি প্রভাব ফেলেছে ভারতীয় মুদ্রার ওপর। ২০২৫ সালে ডলারের তুলনায় রুপির মান প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
আরও পড়ুন-আইএসএল শুরু ১৪ ফেব্রুয়ারি
অর্থনীতিবিদদের মতে, যখনই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে টাকা তুলে নেন, তখন তাঁরা তাঁদের অর্জিত টাকাকে ডলারে রূপান্তরিত করে নিজেদের দেশে ফেরত নিয়ে যান। এর ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায় এবং বিপরীতে টাকার চাহিদা কমে গিয়ে তার বিনিময় মূল্যে ধস নামে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কেবল মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত—অর্থাৎ বছরের মাত্র চারমাস নিট ক্রেতা হিসেবে ছিলেন। ঘরোয়া বাজারে খরচ এবং কর্পোরেট মুনাফায় উন্নতির লক্ষণ থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার অনীহা স্পষ্ট ধরা পড়েছে।
গত বছর বিশ্বের প্রধান শেয়ার বাজারগুলোর মধ্যে ভারতের পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে দুর্বল। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দ্রুত তাঁদের পুঁজি ভারত থেকে সরিয়ে অন্য লাভজনক এবং নির্ভরযোগ্য বাজারে সরিয়ে নিচ্ছেন। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এফপিআই-রা সাধারণত ‘রিস্ক-অন’ এবং ‘রিস্ক-অফ’ কৌশলে বিশ্বাসী। বর্তমানে অন্য দেশগুলো যেখানে দ্রুত এবং আকর্ষণীয় রিটার্নের সুযোগ দিচ্ছে, সেখানে ভারতীয় বাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ধরে রাখার কোনো জোরালো যুক্তি তাঁরা খুঁজে পাচ্ছেন না। এই প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী দিনে ভারতীয় শেয়ার বাজার এবং টাকার স্থিতিশীলতা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

