এসআইআর মৃত্যুমিছিলে শরিক আরও চার নাগরিক

Must read

ব্যুরো রিপোর্ট : ফের কেন্দ্রের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের বলি বাংলার আরও চার নাগরিক। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, দিনহাটা ১ ব্লকের বামনহাট ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সাবেক ছিটমহল পোয়াতুরকুঠি এবং নন্দীগ্রামে। বারাসতে এসআইআরের শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু হল রমজান আলি নামে বছর ৪৫-এর ব্যক্তির। রায়গঞ্জে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে আত্মহত্যা করেন বাবলু পাল নামে এক বৃদ্ধ। আর কর্মসূত্রে এক মাস আগে বিহারে গিয়েছিলেন নূর হোসেন মিঞা। গতকাল এসআইআর হেয়ারিংয়ে উপস্থিত হতে তাঁকে ফোন করে বাড়ির লোক ডাকেন। পরিবারের অভিযোগ, হিয়ারিংয়ের কথা শুনেই মানসিক চাপে পড়েছিলেন নূর। বিহার থেকে দিনহাটায় ফিরে গাড়ি থেকে নামার পরেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ভাই দিনহাটা হাসপাতাল নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। নন্দীগ্রামে ফের দেশছাড়া হওয়ার আতঙ্কে মৃত্যু হল ৮১ বছরের এক বৃদ্ধের, নাম কাশীনাথ জানা। নথি-সংক্রান্ত সমস্যার জন্যে বারাসতের রমজানকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সকাল থেকেই বিডিও অফিসে লাইন দেন তিনি। সেখানেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। কিছুটা সুস্থ হয়ে আবার লাইনে দাঁড়িনোর পর ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। রায়গঞ্জে মৃত বৃদ্ধের পরিবারের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সংশয়ে চরম উদ্বেগে ছিলেন বাবলু। শুনানিতে যাওয়ার পর থেকে আতঙ্ক আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে শৌচকর্মের নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি আমগাছে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখা যায়। মৃতের স্ত্রী ননীবালা পালের অভিযোগ, দুশ্চিন্তাই কেড়ে নিল স্বামীর প্রাণ। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃতের বাড়িতে যান রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান। কাশীনাথের আসল বাড়ি হাওড়ার বাগনানে। তবে দীর্ঘদিন দিদির বাড়ি নন্দীগ্রামের ভেকুটিয়ার বাসিন্দা। সেখানে ভোটার, আধার, রেশন কার্ড সবই ছিল। তবে ২০০২ তালিকায় নাম ছিল না। তাতেই এসআইআর শুরু হতে আতঙ্কে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নন্দীগ্রাম- ১ ব্লক তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গ বলেন, ৮১ বছর বয়সেও প্রমাণ দিতে হচ্ছিল এই মাটি তাঁর। সেই আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে। এর জন্য বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে দায়ী।

আরও পড়ুন-জুরেলের সেঞ্চুরি, হাজারে ট্রফি থেকে বিদায় বাংলার

Latest article