বড় বড় কথা বলে মূল বিষয়টাকে ঘেঁটে দেবেন না, প্লিজ।
বিজেপি একটি আপাদমস্তক বাংলাবিদ্বেষী বাঙালি বিরোধী রাজনৈতিক দল।
এবং রামের প্রথম পুটকিটা সরালেই বাম হয়। অর্থাৎ, সেদিনকার বাম আর আজকের রামের পার্টিতে বড় একটা ফারাক নেই।
প্রথমে আসা যাক, বিজেপির বঙ্গ বিদ্বেষী আখ্যানে।
বিজেপি যদি পুরোদস্তুর বাংলাবিরোধী না হত, তাহলে এসআইআর-এর নামে এই মানুষ মারা যজ্ঞের ঋত্বিক হত না।
কী চলছে আজ পশ্চিমবঙ্গে? এক কথায়, নির্বাচন তালিকা সংশোধনের অজুহাতে নরমেধ যজ্ঞ।
এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন মানদণ্ড স্থির করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই, বিহারে এসআইআরের ক্ষেত্রে বংশতালিকাকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রহণ করা হলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না। বংশতালিকাকে পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রহণ না-করার নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। কেন? যাতে অনিয়মের অভিযোগ আদালতে দায়ের করা না যায়, সেজন্য?
প্রথাগত বিজ্ঞপ্তি বা বিধিবদ্ধ নির্দেশিকা ছাড়াই কমিশন হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিদিন নিত্যনতুন নির্দেশ দিচ্ছে। এবং বহু সময়েই দেখা যাচ্ছে কমিশনের দু’টি নির্দেশ একটি অপরটির পরস্পরবিরোধী। এরকমটা হবে কেন?
বাংলাবিরোধী চক্রান্তে বিজেপির নির্দেশে ভ্যানিশ কুমারের ভোট কাটা কমিশন শামিল হয়েছে বলেই না এটা করা হচ্ছে! বৈষম্যমূলক অবস্থান বিহার ও বঙ্গের ক্ষেত্রে, নির্দেশিকা আনার ব্যাপারে! অস্বীকার করতে পারবেন ভ্যানিশ কুমার? সত্যি কথা বলার দম আছে ওই সংঘীর?
নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-দের অনুমতি ছাড়াই কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা (আইটি সিস্টেম)-র অপব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। পর্দার আড়ালে খেলাটা খেলছেন সীমা খান্না। দিল্লি আইআইটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই বিজেপির মহিলা-দালাল এক সময় জাতীয় তথ্যকেন্দ্রের বা এনআইসি-র ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন। এখন তিনিই বিভিন্ন সরকারি আধিকারিকের আইডি, পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে যে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, সেই অপকর্মের মূল হোতা ওই রহস্যময়ী। ২০২১ সালে তাঁকে জাতীয় তথ্যকেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হিসাবে নিয়োগ করেছিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। একটি বিশেষ সফট্অয়্যারের মাধ্যমে এই সীমা নামের মহিলা এক কোটি ৩৬ লক্ষ বাঙালিকে সন্দেহের তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে, ইআরও-র অজ্ঞাতে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া যায় না। অথচ, এই সীমা সীমাহীন কারচুপি করে সেটাই করেছেন।
সবাই জানি, গোটা প্রক্রিয়ায় কোনও অবৈধ কাজ হয়ে থাকলে তার দায় কমিশনের উপরেই বর্তায়। তাই, এই কারচুপির জন্য ভ্যানিশ কুমারের কমিশন ছাড়া অন্য কেউ নয়।
আরও পড়ুন-অভিষেকের দেওয়া কথা রাখতে মিলার বাড়িতে গিয়ে রূপশ্রীর আবেদনপত্র সংগ্রহ বিধায়কের
তা হঠাৎ জ্ঞানেশ কুমার ভ্যানিশ কুমার হয়ে উঠলেন কেন? কোটি খানেক জলজ্যান্ত ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে ভ্যানিশ করে দেশের সেরা ম্যাজিশিয়ান হয়ে ওঠার জন্য কেন তাঁর প্রাণান্তকর প্রয়াস?
এই প্রশ্নের একটাই উত্তর, স্বজনপোষণ করবেন বলে।
জ্ঞানেশ কুমার আগে অমিত শাহর সঙ্গে কাজ করতেন। তাঁর মেয়ে মেধা রূপমকে ডিএম নয়ডা পদে বসানো হয়েছে ২৮ জুন। জামাই মণীশ বনশল ডিএম সাহরানপুর পদে বসানো হয়েছে ২৫ জুন। এসআইআর প্রথম পর্যায়ের ঘোষণা করার পরে এইগুলি করা হয়েছে। তাঁরা অনেক শিক্ষিত, নিশ্চয়ই যোগ্যতার ভিত্তিতে পদ পেয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি খুবই কাকতলীয় বলা যায়! জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে এবং জামাই বিজেপি সরকারের অধীনে কাজ করছে। এতেই স্পষ্ট তাঁকে বিশেষ কোনও কাজের ভিত্তিতে এখানে পাঠানো হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগ করেছিলেন। সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিলেন, তাঁর বক্তব্যে কোনও ভুল থাকলে সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের জন্য সংঘী জ্ঞানেশ কুমার এফআইআর করতে পারেন। সেটা করার এক্তিয়ার তাঁর পুরোমাত্রায় আছে। কিন্তু জ্ঞানেশ সে সাহস দেখাননি। সে মুরোদ তাঁর হয়নি।
ফলত প্রমাণিত এটাই যে ডাল মে কুছ কালা নয়, ডালটা পুরোপুরি কালা।
মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অভিষেকের তাই মনোনীত সরকারি পদাধিকারী জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “আজ নয়তো কাল সরকার কিন্তু বদলাবে। জ্ঞানেশবাবু দেশ ছেড়ে পালাবেন না। বিজেপি থাকবে না। অমিত শাহ থাকবে না। দেশের সংবিধান থাকবে। যেখানে যাবেন খুঁড়ে নিয়ে আসব। মানুষের কাছে জবাব দিতে হবে।”
আর এইসব নোংরা ষড়যন্ত্রের ফল ভুগতে হচ্ছে মানুষকে।
ভোটারদের নির্দিষ্ট কারণ না-জানিয়েই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এর ফলে কোনও কারণ ছাড়়াই ভোটারদের মনে ভয় তৈরি হচ্ছে এবং তাঁরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। কারও নামের বানান ভুল থাকলে কিংবা বয়সের ফারাক থাকলেও ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে। শুনানির সময় কোন কোন নথি লাগবে, তা ভোটারদের জানানো হচ্ছে না। আবার নথি জমা পড়ার কোনও প্রমাণপত্রও শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের দিচ্ছে না কমিশন।
এহ বাহ্য! শুনানি কেন্দ্রে বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ)-দের ঢুকতে দিচ্ছে না কমিশন। অথচ, বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়া এবং নেওয়ার ক্ষেত্রে বিএলএ-রা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে থাকেন। তাঁরা স্বচ্ছতা রক্ষা করতেই কাজ করেন। তাই বিএলএ-রা শুনানি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না-পারায় এসআইআর প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
আসলে এসআইআর-এর পুরো প্রক্রিয়াটি একটি ঘাপলা।
কোনওরকম প্রস্তুতি ছাড়াই এই প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব থাকলেও তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। মাইক্রো-অবজার্ভাররা রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনা না-করেই কাজ করছেন।
কেন এসব হচ্ছে, তার কোনও পরিষ্কার জবাব ভ্যানিশ কুমারের কাছে নেই। বিজেপির দালাল এই ব্যক্তির জন্য একের পর এক বঙ্গবাসী মারা যাচ্ছেন, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে।
যেমনটা ঘটল রবিবার নাজিতুল মোল্লার ক্ষেত্রে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের গড়দেওয়ানি পঞ্চায়েত এলাকার উত্তর ঠাকুরের চক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তিনি আতঙ্কে ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় ২০ ডিসেম্বর তাঁকে প্রথমে ডায়মন্ড হারবারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর নাজিতুলকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। তখন পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের বন্ডে স্বাক্ষর করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ৩১ ডিসেম্বর, অসুস্থ অবস্থায় নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থাতেই নাজিতুল শুনানি কেন্দ্রে হাজির হন। শুনানির পরে বাড়ি ফেরার পরই তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতরভাবে খারাপ হয়ে যায়। ২ জানুয়ারি তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আর শুভেন্দু নামক অমানবিক বিজেপি নেতাকে এ-বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তাঁর প্রতিক্রিয়া, এমন তো হয়েই থাকে।
মনে পড়ে যাচ্ছে, বাংলার জ্যাঠামশাই একদা অনিতা দেওয়ান ধর্ষণ মামলায় এভাবেই উদ্ধত স্বরে বলেছিলেন, এরকম তো হয়েই থাকে।
বুঝতে পারছেন, পুটকির পার্থক্য ক্রমশ মুছে যাচ্ছে।
বঙ্গ-বিরোধীদের চিনে নিন। ওদের ঝেঁটিয়ে বাংলা ছাড়া করুন।

