সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর : কথায় আছে গান-বাজনা মতিচুর, এই তিন নিয়ে বিষ্ণুপুর। এবার সেই বিষ্ণুপুরের মুকুটে জুড়ল নয়া পালক। মল্লরাজাদের এক সময়ের জনপ্রিয় মিষ্টি মতিচুর পেল জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগের স্বীকৃতি। প্রায় হাজার বছর আগে মল্লরাজাদের রাজধানী ছিল বিষ্ণুপুর। প্রায়শই মল্লরাজাদের দরবারে গানের আসর বসত বিনোদনের জন্য। সেই সময় বিষ্ণুপুরের মিষ্টান্নশিল্পীরা নিজেদের হাতে তৈরি করতেন পিয়াল ফলের বীজ দিয়ে মতিচুর লাড্ডু। রাজাদের গানের আসরে আসত থালা ভর্তি সেই লাড্ডু। লাড্ডু খেয়ে বাহবা দিতেন সকলেই। বংশ পরম্পরায় বিষ্ণুপুরের মিষ্টান্নশিল্পীরা সেই লাড্ডু তৈরি করে আসছেন আজও।
আরও পড়ুন-প্রথম বাঙালি-মহিলা হিসেবে ইন্ডিয়ান আইডল কি মানসীই
যদিও মল্লদের রাজত্ব চলে গেলে ধীরে ধীরে এই লাড্ডুও বিলুপ্ত হতে থাকে। তবে গত ৫-১০ বছর ধরে ফের বিষ্ণুপুরের মিষ্টিশিল্পীরা এই লাড্ডু তৈরির উপর জোর দিয়েছেন। জিআই স্বীকৃতির জন্য তাঁরা দ্বারস্থ হন সরকারি বিভিন্ন দফতরে। অবশেষে তাঁদের অক্লান্ত প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিল ভারত সরকার। তৈরি করা হল সুন্দর একটি লোগো। এই লাড্ডুর উপকরণ হিসাবে পিয়াল ফলের বেসন, দেশি ঘি, চিনি ও মগজ বীজ ব্যবহার হয়। আগে বিষ্ণুপুরের জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দারা পিয়াল ফল তুলে তা ঢেঁকিতে গুঁড়িয়ে বেসন তৈরি করতেন। বর্তমানে পিয়াল ফল এলাকায় পাওয়া যায় না। ঝাড়খণ্ডের কিছু কিছু জায়গায় পাওয়া যায়। জলে এই বেসন গুলে তা দিয়ে মিহিদানার চেয়ে বড় তবে বোঁদের চেয়ে ছোট দানা তৈরি করে ঘিয়ে ভেজে চিনির রসে ডোবানো হয়। ছেঁকে শুকনো পাত্রে রেখে মগজ বীজ মেশানো হয়। গোল করে পাকিয়ে তা থেকেই হয় মতিচুর লাড্ডু। জিআই স্বীকৃতির খবর পাওয়ার পর খুশির হাওয়া বিষ্ণুপুরের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। সকলেই মনে করছেন, এর ফলে মতিচুরকে এবার বিষ্ণুপুরের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা দেশ-বিদেশে পরিচিত করতে সক্ষম হবেন।