বঙ্গ

কেন্দ্রের কীর্তি! জালিয়াতদের ১৪ লক্ষ কোটি ঋণ মকুব করে দিল সরকার

প্রতিবেদন : বিদেশে গচ্ছিত টাকা ফিরিয়ে দেশবাসীর প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi Government)। নয়া পয়সাও পায়নি দেশবাসী। কালো টাকা উদ্ধার করতে রাতারাতি নোট-বন্দি করেছিলেন। কোনও কালো টাকা উদ্ধার হয়নি! বলেছিলেন আচ্ছে দিন আনবেন। কিন্তু কোথায় আচ্ছে দিন? দেশের সাধারণ মানুষ মূল্যবৃদ্ধির কোপে হাঁসফাঁস করছেন। সেই ২০১৪ থেকে ১১ বছর হতে চলল ক্ষমতায় নরেন্দ্র মোদি। প্রতিশ্রুতি তো রক্ষা হয়ইনি, উপরন্তু মোদি জমানায় গায়েব হয়ে গিয়েছে দেশের ১৪ লক্ষ কোটি টাকা। সম্প্রতি এক আরটিআইয়ের জবাবে এমনটাই জানিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া।
সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আচ্ছে দিন আনতে পারেননি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি দরাজহস্ত রাঘব-বোয়ালদের ঋণ মকুবে। মোদি জমানায় বিগত ১১ বছরে তাঁর ঋণ মকুবের ঠেলায় দেশের ব্যাঙ্কগুলি বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকার মুনাফা থেকে।

এই পরিসংখ্যান সামনে এসেছে তথ্য জানার অধিকার আইনে। পরিসংখ্যান দিয়েছে খোদ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। তথ্য বলছে, ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১৬ লক্ষ ৬১ হাজার ৩১০ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ রয়েছে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে। এই অনাদায়ী ঋণের মধ্যে মাত্র ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ১৩ লক্ষ ৯১ হাজার ৫১২ কোটি টাকা এখনও অনাদায়ী। এই অনাদায়ী ঋণ মকুব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার।

আরও পড়ুন- এক্তিয়ার ছাড়িয়ে রাজনীতি করছেন মৃতার অভিভাবক, কড়া মন্তব্য ফিরহাদের

সম্প্রতি নাগরিক অধিকার আন্দোলনকর্মী প্রফুল্ল পি সারদা এই মর্মে একটি আরটিআই করেন। তার জবাবেই আরবিআই জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে সবচেয়ে বেশি ঋণ অনাদায়ী। তার পরিমাণ হল ১২ লক্ষ ৮ হাজার ৬২১ কোটি টাকা। আর বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে অনাদায়ী ৪ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা ও আরবান কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কগুলিতে ৬ হাজার ২০ কোটি টাকা। হিসেবের খাতা থেকে এই ঋণ মুছে ফেলা হয়েছে মোদি জমানায়। মকুব করা এই টাকার বেশিরভাগই কর্পোরেট ঋণ। সরকার (Modi Government) প্রত্যক্ষ কর বাবদ এক অর্থবর্ষে যে টাকা আয় করেছে, তার সমান অর্থই হারিয়েছে ব্যাঙ্কগুলি। এখানে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি যে ইউপিএ সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে থাকেন, তো এখন নিজেদের ক্ষেত্রে কী বলবেন? ইউপিএ আমলে ব্যাঙ্কগুলির মকুব করা অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লক্ষ কোটি টাকা। সেখানে মোদির রাজত্বে ৮ গুণ বেশি অনাদায়ী ঋণ। একই সঙ্গে মিথ্যাচার করতেও পিছপা নয় কেন্দ্রীয় সরকার। সরকার একদিকে বলছে, অনাদায়ী ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া চলবে। অন্যদিকে, ঋণ ‘রাইট অফ’ করা হয়েছে ব্যাঙ্কগুলিতে। লক্ষ্য, ব্যাঙ্কের ব্যালান্স শিটে ‘নন-পারফর্মিং অ্যাসেট’ কম দেখানো। ব্যাঙ্কের আর্থিক স্বাস্থ্য ভাল দেখানোর জন্য এই দ্বিচারিতা বলে অভিযোগ বিরোধীদের। আর তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই আরটিআই।

Jago Bangla

Recent Posts

নিজের কেবিনে একাধিক মহিলার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, সাসপেন্ড পুলিশকর্তা

এক নয়, একাধিক! নিজের দফতরে মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর শাস্তি পেলেন সেই পুলিশ আধিকারিক। কর্নাটক…

1 hour ago

রাজ্যে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

প্রতিদিন ১ ডিগ্রি করে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা (Kolkata) থেকে আগামী কয়েকদিনে প্রবল শীতের কনকনানি…

1 hour ago

সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি, নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

নয়াদিল্লি : অভূতপূর্ব ঘটনা বিজেপিতে (BJP)। মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই বিজেপি সভাপতি পদে বসলেন নীতিন…

2 hours ago

সিআরপিএফ ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার নাবালিকা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল ক্ষুব্ধ তৃণমূল

নয়ডা : ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে এখন নারী-নিরাপত্তার নামে যে কতবড় প্রহসন চলছে তা আরও…

2 hours ago

‘তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি’

দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতেই হত। এত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন সহ্যের সব…

2 hours ago

হাড় নিরাময়কারী আঠা

অর্থোপেডিক সার্জারির এক নতুন দিগন্ত। হাড় বা অস্থি, দেহের অন্যতম শক্ত অংশ যা আমাদের শরীরের…

2 hours ago