শুনানির নামে হেনস্থা, অভিযোগ শুনলেন কুণাল

Must read

প্রতিবেদন : কোথাও নামের বানানে সামান্য ভুল, কোথাও বিবাহিত মহিলাদের পদবিতে বদল, কোথাও উচ্চারণে সামান্য তফাত— এইরকম ছোটখাটো ভুলের কারণে শুনানির(SIR-Hearing) নামে বৈধ ভোটারদের সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে! এসআইআর-শুনানি নিয়ে কমিশনের উদ্দেশ্যে ফের তোপ দাগল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার দুপুরে জোড়াসাঁকো ও চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ভাঙা পা নিয়েই এলাকার ৩৮ এবং ৩৯ নং ওয়ার্ডের এসআইআর হেল্পডেস্ক পরিদর্শন করলেন। সমস্যায় পড়ে শিবিরে আসা মানুষের থেকে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। কোথায় কোন গলদের জন্য শুনানিতে ডেকে কীভাবে বৈধ ভোটারদেরও হেনস্থা করা হচ্ছে, সবটা শুনে কোন সমস্যার ক্ষেত্রে কী করা উচিত— সেই অনুযায়ী নির্দেশও দেন জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর কুণাল ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক বিবেক গুপ্ত, স্থানীয় কাউন্সিলর-সহ অন্য নেতৃত্ব। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, মূলত শিবিরগুলি থেকে উঠে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নামের বানানে কোনও ছোট্ট ভুলের জন্য তলব করা হয়েছে। বিবাহিত মহিলাদের জন্মগত ও বিবাহিত পদবি আলাদা হয়। সেকারণেও অনেককে ডাকা হয়েছে। কারও নামের উচ্চারণে তফাতের কারণে একটি-দুটি অক্ষর বদলে গিয়েছে, তাঁদের শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে! আমাদের দলের কর্মীরা ভোটারদের পাশে রয়েছেন যেকোনও সাহায্যের জন্য। সব জায়গাতেই শিবির চলছে। কর্মীরা পার্ট ধরে ধরে ভোটার লিস্ট নিয়ে শিবিরে বসে আছেন। সেখানেই প্রতিদিন বিভিন্নরকমের সমস্যা নিয়ে আসছেন মানুষ। বিশেষ করে বয়স্করা ভয় পাচ্ছেন, এই বয়সে যদি ভোটার লিস্ট থেকে নাম কাটা যায়!

আরও পড়ুন-ইস্ট-মোহন-বেগান আর এসআইআর সমাচার

শুনানিতে (SIR-Hearing) বিএলএ-২-দের থাকতে না দেওয়া নিয়ে কুণাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হল শুনানিতে বিএলএ-২-দের থাকতে না দেওয়া। বিএলএ-২-রা বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন। তাঁরা ভোটারদের তথ্য জানেন। কোথায় কোন নথি লাগবে, তাঁরা ভাল বলতে পারেন। এখন শুনানিতে তাঁদের থাকতে দেওয়া হল না। ফলে শুনানির সময় যে নথি দিচ্ছেন, তা মান্যতা পেল কিনা সেটা একজন ভোটার কী করে বুঝবেন! সব হয়ে যাওয়ার পর দেখা গেল চূড়ান্ত তালিকায় কোনও বৈধ ভোটারের নাম নেই। তখন তো আইনি পথে যেতে হবে। এখন বিএলএরা যদি থাকতেন তাহলে এই সমস্যা হত না। ২০২৫ সালে ভোট দিয়েছেন, এমন ব্যক্তিকেও স্ক্রুটিনির জন্য ডাকা হয়েছে। বাদ যায়নি তাঁর পরিবারও। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে একই ঠিকানায় থাকেন। ভোটার তালিকায় বাবা-মায়ের নাম রয়েছে, তাঁকেও প্রমাণ দিতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে নির্বাচন কমিশন যে পদ্ধতিতে শুনানি চালাচ্ছে তাতে বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে। শুনানিতে যা চলছে তাতে ভোটারদের নাম বাদের দিকে ঠেলে দেওয়া ও হেনস্থা করাই কমিশনের উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Latest article