গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি হলে ইতিহাস রচনা হবে। বৃহস্পতিবার, আউটরাম ঘাটে গঙ্গাসাগর মেলার অস্থায়ী শিবিরের উদ্বোধনে গিয়ে একথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবারই, গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন কেন্দ্রের নিন্দা করে মমতা বলেন, দশ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারকে বলছি। কুম্ভমেলায় সব টাকা দেয়, এখানে একপয়সাও দেয়নি।
আরও পড়ুন-”আঘাত করলে প্রত্যাঘাত হবে”, আইপ্যাকে ইডি হানার প্রতিবাদে কাল রাস্তায় মুখ্যমন্ত্রী
গঙ্গাসাগরে স্থায়ী সেতুর জন্য অনেক লড়াই করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের কাছে দরবারও করেছেন। কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণের কাছে হার না মেনে অবশেষে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকেই নিজের স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্পূর্ণ রাজ্যের নিজস্ব টাকায় তৈরি হবে এই সেতু। এদিন গঙ্গাসাগর মেলার শিবির উদ্বোধনে গিয়ে কেন্দ্রের নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১০ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারকে বলছি। কুম্ভমেলায় সব টাকা দেয়, এখানে একপয়সাও দেয়নি। মানুষের জন্য আমাদের লড়াই জারি থাকবে। ৩৪টা ব্রিজ আমরা এদিক-ওদিক বানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু গঙ্গাসাগরের উপর ব্রিজের দাবি ছিল। তার জন্য অনেক বিশেষজ্ঞ দরকার।“ গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাস-ট্রাম, খাওয়া দাওয়া, সবকিছুর জন্য ব্যবস্থা করেছি আমরা। অন্যান্য কোনও সরকার এরকম করে না। কেন্দ্রের কাছে আমরা অনেকবার চেয়েছি তারা দেয়নি, তাই আর চাই না। এখন গঙ্গাসাগর কত সুন্দর হয়ে গিয়েছে। পুরো এলাকা খুব সুন্দর লাগছে। তিনটে হেলিপ্যাড বানিয়েছি। কলকাতা থেকে ৬-৭ জন মন্ত্রী গঙ্গাসাগরে ডিউটিতে থাকে। পূর্ব প্রশাসন থেকে ৩-৪ দিন আগে থেকে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ডিউটি করে। মহাকুম্ভর মতো ট্রেনে যাওয়া যায় না। জল পেরিয়ে যেতে হয়। আমি বারবার বলছি আপনারা আস্তে আস্তে আসুন। পুলিশের পরামর্শ শুনে আস্তে আস্তে আপনারা আসুন। পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। কেউ বদমাইশি করে যদি বলে এটা হচ্ছে ওটা হচ্ছে তোমরা দৌড়াও সেই সবে কান দেবেন না।। শান্তিতে যাবেন শান্তিতে আসবেন। এরকম বললে, কপিলমুনিও তাকে মাফ করবে না। এটা ধর্মীয় স্থান। গঙ্গা মায়ের জন্য যিনি যান তাঁকে সাহায্য করা আমাদের কাজ।“
আরও পড়ুন-”প্রত্যুত্তর জনগণ দেবে”, আইপ্যাক অফিস থেকে বেরিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “পিডব্লিউডিকে দায়িত্ব দিয়েছি। ওরা টেন্ডার করেছে। টেন্ডার এলএনটিকে দেওয়া হয়েছে। ১৭০০ কোটি টাকা খরচ করে দু-তিন বছরের মধ্যেই ব্রিজ হয়ে যাবে। তখন ইতিহাস তৈরি হবে। আর জলে যেতে হবে না। গাড়ি করে যেতে পারবেন আপনারা। যেমন দিঘার জগন্নাথধাম বানিয়েছি। দুর্গা অঙ্গন বানাচ্ছি, এত সতীপীঠ তৈরি হয়েছে। সব ধর্মের জন্য আমরা কাজ করি। যারা ধর্মের নামে ঝগড়া করে ভাগাভাগি করে আমরা তাদের মানি না। সেটা ধর্ম না সেটা বিধর্ম।“
প্রথম দিকে এই প্রকল্পের বাজেট ছিল ১,০০০ থেকে ১,২০০ কোটি টাকার মধ্যে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭০০ কোটিতে। সম্পূর্ণ হলে এটি হবে রাজ্যের নদীর উপর নির্মিত সবচেয়ে বড় সেতু।
শিবিরে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নজর রাখবেন কেউ যেন আগুন না জ্বালায়। কেউ আগুন জ্বালালে তাদেরকে আমরা ছেড়ে দেব না। পুরোটা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হচ্ছে। অনেকেই কথায় কথায় আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে গরিব মানুষদের লোকসান হচ্ছে।“

