বৃহস্পতিবার প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতর থেকে বেরিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দলের নির্বাচনী কৌশলের তথ্য ‘ট্রান্সফার’ করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এদিন এমনটাই অভিযোগ করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে এসআইআরের শুনানিতে সাধারণ মানুষ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে ফের অভিযোগ তুললেন তিনি।
আরও পড়ুন-প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি! প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে আইপ্যাকের অফিসে মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে। লড়াই করার সাহস হচ্ছে না, এখন লুট করতে নেমেছে। হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতক কাগজ, পার্টির কাগজ নিয়ে নিয়েছে। বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখনি। ভোর থেকে অপারেশন চালু করেছে। সকাল ৬টার সময়ে এখানে শুরু হয়েছে। আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে মেনে নেব না।’’ এরপরেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, ‘‘আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দেওয়াই? সেটা ঠিক হবে? আমি সৌজন্যতা দেখাব। কিন্তু এটা আমার দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন। আমার সব আপনি লুট করবেন আর আমি কি চুপ করে বসে থাকব? আমি মনে করি এটা একটা ক্রাইম। মার্ডার অফ ডেমোক্রেসি। আমাদের সব নির্বাচনী কাগজ চুরি করা হয়েছে। হিম্মত থাকলে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করুন। তা না করে ইডিকে দিয়ে আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি চুরি করছেন? বৃহস্পতিবার বিকালে রাজ্যজুড়ে সব ব্লকে মিছিল, ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিল হবে লুটের বিরুদ্ধে। পার্টির কাগজপত্র নিয়ে চলে গিয়েছে। টেবিলগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে। আমি যখন খবর পেলাম যে এজেন্সি এসেছে, তখন খোঁজ নিলাম কেন এসেছে? তার পর শুনি আমাদের দলের ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি লুট করতে এসেছে। এটা গণতন্ত্রে হতে পারে না। পার্টি অফিসে ঢুকে এটা করা যায় না। তার পর আমি আসার সিদ্ধান্ত নিই।’’
আরও পড়ুন-আজব দাবি! বিজেপি রাজ্যে সরকারি গুদামের ২৬ হাজার কুইন্টাল ধান খেয়েছে ইঁদুর, উইপোকা
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি। ইডি আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি শুরু করার সময় থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী গোটা বাড়ি ঘিরে রেখেছিল। সময়ের সাথে সেখানে বাহিনী বাড়াতে শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারটেও। মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছনোর পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে এবং অন্যদিকে বাহিনী বাড়িয়ে দেয় বিধাননগর পুলিশও।

