নতুন বছরে সন্তানকে দিন নতুন পথের দিশা

শুরু হল আরেকটি নতুন বছর। আর তার সঙ্গে শুরু হল অভিভাবকদেরও আরও একটি বছরের পথচলা। এই পথচলায় শিশুর মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে চাই পজিটিভ পেরেন্টিং। বছরভর কীভাবে সন্তানের মধ্যে গড়ে তুলবেন ইতিবাচক মনোভাব, পরামর্শ দিলেন পেরেন্টিং কনসালটেন্ট পায়েল ঘোষ

Must read

আপনার সন্তানকে সহজ এবং সুন্দরভাবে বড় করে তোলার জন্য লাগে মূলত তিনটি উপাদান।
বাড়ির ইতিবাচক পরিবেশ
নিয়মানুবর্তিতা
দায়িত্বশীলতার পাঠ
এই তিনটি বিষয়ে বাচ্চাকে সমৃদ্ধ করার জন্য প্রয়োজন পজিটিভ পেরেন্টিং (parenting)।
অভিভাবক হিসেবে সন্তানের জন্য কীভাবে পজিটিভ করে তুলবেন বাড়ির পরিবেশ। আজ রইল সেই পরামর্শ।
বাড়িতে সবসময় ইতিবাচক পরিবেশ থাকা খুব জরুরি। বাচ্চা যদি সবসময় অভিভাবকদের নেগেটিভ বা হতাশাব্যঞ্জক কথা বলতে শোনে তাহলে তার মনের মধ্যেও পজিটিভ ইমোশন বা আবেগগুলো চাপা পড়ে যায়। অনেকসময় বিভিন্ন রকম দাম্পত্যকলহে বাচ্চাদের নিয়ে বিভিন্ন আবেগপ্রবণ সংলাপের সূচনা করেন অভিভাবকেরা। তার পরিবর্তে সহজ রাখুন বাড়ির পরিবেশ। প্রাপ্তবয়স্কজনিত তিক্ত সংলাপ এড়িয়ে চলুন বাচ্চাদের কাছ থেকে। একটু চেষ্টা করলেই সেটা সম্ভব। ওদের মন থাকুক নির্ভার।
বাচ্চা ভয় পাবে, এই ভেবে মা-বাবারা (parenting) অনেক কিছু মিথ্যে বলে থাকেন। কিন্তু যখন বাচ্চা সে-সমস্যার মুখোমুখি হয়, তখন সে বুঝতে পারে তাকে ভুল বোঝানো হয়েছিল। তখন থেকে প্রায় প্রতিটি বিষয়েই মা-বাবার প্রতি সে অবিশ্বাস করা শুরু করে।
বাচ্চাকে দিনের কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে রাখুন। কখনও ওকে নিয়ে একটু নেচার ওয়াকে গেলেন, কখনও-বা মাঠে বসে গল্প করলেন। এতে বাচ্চার মানসিক চাপ অনেক কমে যায়।
যেকোনও প্রতিযোগিতায় বাচ্চাকে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহ দিন। কিন্তু কখনই পুরস্কার-সংক্রান্ত ব্যাপারে চাপ দেবেন না। এতে প্রতিযোগিতায় যোগ দেবার ইচ্ছে বা আনন্দ দুটোই চলে যাবে।
বাচ্চাকে ছবিআঁকা, গানবাজনা এসব শিখতে উৎসাহ দিন। তাহলে দেখবেন ওর মনের সতেজতা অনেক বাড়বে। অনেক বেশি ইতিবাচক বা পজিটিভ হবে ওর জীবন।
গুণগত সময় খুব দামি বাচ্চাদের জন্য।। অভিভাবকদের প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝে একটি নির্দিষ্ট সময় রাখতেই হবে, যেখানে নিশ্চিন্তমনে আপনারা সন্তানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামনে গল্প করতে বা শুনতে পারেন। এটা দু-পক্ষের জন্যই খুব জরুরি।
বাড়ির পরিবেশে সংযমের অভ্যাস থাকা খুব জরুরি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কেনা, তা নিজেদের জন্য ই হোক বা বাচ্চার জন্য, বাচ্চার সামনে লাগামছাড়াভাবে অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ বা তর্কাতর্কি, রাগের ভয়ঙ্কর প্রকাশ… এসব (parenting) কিছুই সুস্থ অভিভাবকত্বের প্রতিবন্ধক। নতুন বছর থেকে এসবের মেরামতি শুরু হোক।

নিয়মানুবর্তিতা কীভাবে শেখাবেন
বাচ্চাকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বড় করার প্রধান উপায় ওকে একটা ডিসিপ্লিন বা নিয়মানুবর্তিক জীবন দেওয়া। তা না হলে ওর মানসিক ও শারীরিক অবনতি হতে বাধ্য। শুধু তাই নয়। বাচ্চা পড়াশোনায় বা খেলাধুলোয় সাফল্য পাওয়ার জন্যও দরকার নিয়মঘেরা জীবনযাত্রা। কিন্তু সেই নিয়মকানুনও তৈরি করতে হবে অনেক ভেবে চিন্তে। তা না হলে বাচ্চার পক্ষে নিজস্বতা বিকাশ করার পথ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

মা-বাবাই রোল মডেল
বাড়িতে একটা স্ট্রাকচারড বা নিয়মমাফিক জীবনযাত্রা মেনে চলা খুবই প্রয়োজন। আমরা সবাই এ ব্যাপারটা জানি, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে অনেকসময়ই তা মেনে চলি না। কিন্তু চেষ্টা করি বাচ্চাদের ওপর সেগুলো আরোপ করতে। ফলত ওদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, মা-বাবা (parenting) যদি রুটিন না ফলো করে তাহলে আমরা করব কেন? এই প্রসঙ্গে একটা উদাহরণ দিই। একটি পরিবারে তিনজন সদস্য। মা-বাবা ও তাদের পাঁচ বছর বয়সি একটি মেয়ে। রাত্তিরে খাওয়াদাওয়া করার সময় রোজই সমস্যা। টেবিলে খাবার সার্ভ করা হলেও বাচ্চাটির বাবা খাবারের প্লেট নিয়ে সোজা টিভি-র সামনে চলে যান। কিছুদিন বাদে থেকে দেখা গেল বাচ্চাটিও একই নিয়ম ফলো করছে। আরও কিছুদিন বাদে বাচ্চা টিভি না চালালে খাবার মুখেই দিচ্ছে না। তখন বাচ্চাটির বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি বাচ্চার সামনে আর নিজে খেতে খেতে টিভি দেখবেন না। কিছুদিন বাদেই দেখা গেল বাচ্চাটির মধ্যে খেতে খেতে টিভি দেখার অভ্যেসটাই চলে গেছে। বাড়ির ডিসিপ্লিন সব সদস্য মেনে চলুন। আপনি হলেন আপনার বাচ্চার রোল মডেল। তাই আপনি যদি নিয়মমাফিক চলেন আপনার বাচ্চার মধ্যে সেই হ্যাবিট তৈরি হতে বাধ্য।

রেসপেক্টফুল ব্যবহার করুন
বাচ্চাদের সঙ্গে রেসপেক্টফুল ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত বকুনি বা মারধর করে সেসব শেখানো যায় না। তাই সবসময় চেষ্টা করবেন বাচ্চার (parenting) সাথে রেসপেক্টফুলভাবে কথা বলতে। যদি আমরা ওদের সঙ্গে খুব ঔদ্ধত্য নিয়ে কথা বলি তাহলে সেভাবেই বাচ্চারা কথা বলাটা রপ্ত করে নেবে। অনেকসময় একটু বড় হয়ে গেলে বাচ্চারা আপনার কথার অবাধ্যও হতে পারে।

ডিসিপ্লিন শেখান
বাচ্চাকে ডিসিপ্লিন শেখান ন্যাচারাল ও লজিকাল কনসিকুয়েন্সের মাধ্যমে। একটি উদাহরণ দিই ব্যাপারটা সমন্ধে। একটি বাচ্চা প্রায়ই তার পেন্সিল বক্সটি স্কুলে ফেলে আসত। ফলে প্রায় প্রতিদিন স্কুল যাবার আগে তার মাকে দৌড়তে হত নতুন পেন্সিলবক্সের জোগাড় করতে। এই নিয়ে তার মা-বাবাও খুব বকুনি দিত, কিন্তু কোনওভাবেই কিছু লাভ হল না। একদিন ওরা পেন্সিল বক্স ছাড়াই ওকে স্কুলে পাঠালেন। বাচ্চাটি সেদিন প্রথম সমস্যার মুখোমুখি হল। প্রথমদিন তাও বন্ধুদের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে কাজ হল। কিন্তু প্রায়ই যখন ও পেন-পেন্সিল চাইতে লাগল কোনও বন্ধুই আর বিশেষ রাজি হল না। একদিন এমন দাঁড়াল ও ক্লাস ওয়ার্ক পর্যন্ত করতে পারল না!
সেদিন ও নিজে অনুভব করল নিজের জিনিস বাড়ি থেকে গুছিয়ে আনা ও নিয়ে যাওয়ার কতটা প্রয়োজন। তারপর থেকে বাচ্চাটির পেন্সিল বক্স নিয়ে আর কোনও সমস্যা হয়নি।

ভাল কাজের প্রশংসা করুন
বাচ্চা যদি একটা গোটা দিন নিয়মমাফিক নিজের কাজ সারে ওর প্রশংসা করুন। কোনও ছোট্ট উপহার (আপনার নিজের হাতে বানানো কার্ডও হতে পারে) দিতে পারেন। দেখবেন ওর মধ্যে একটি সুন্দর ইতিবাচক পরিবর্তন চলে এসেছে।

আত্মবিশ্বাসের পাঠ
ইতিবাচক অভিভাবকত্বের একটি অন্যতম জরুরি উপাদান হল সন্তানকে আত্মবিশ্বাসের পাঠ দেওয়া।
আত্মবিশ্বাস বা সেল্ফ রিলায়েন্স আসলে কী? একজন মানুষ যখন স্বাধীনভাবে চিন্তা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সুষ্ঠুভাবে নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারে তাকে আত্মবিশ্বাসী বা সেল্ফ রিলায়েন্ট বলা হয়। একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে চালিত করতে পারে তা যত বিপর্যয়ই আসুক না কেন।

অতিরিক্ত প্রোটেক্টিভ হবে না
খুব ছোট বয়স থেকেই মা-বাবাদের উচিত বাচ্চাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা। কিন্তু তার জন্য বাচ্চাদের প্রোটেকটিভ পেরেন্টিংয়ের (parenting) মধ্যে রাখলে হবে না। আস্তে আস্তে তাদের চিন্তা-ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে তারা মা-বার ওপর ক্রমান্বয়ে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন- যোগীরাজ্যে সরকারি হাসপাতালে নার্সিংছাত্রীকে যৌন হেনস্থা ইন্টার্নের

নিজের কাজ করতে দিন
বাচ্চার (parenting) তিনবছর বয়স হলেই ওকে আস্তে আস্তে বিভিন্ন রকম রোজকার কাজ করতে শেখান। শুরু করুন চুল আঁচড়ানো দিয়ে। ওর পছন্দমতো রঙের চিরুনি কিনে আনুন। ওকে খুব ভাল করে নিজে দেখিয়ে দিন কীভাবে কাজটা করতে হবে। তারপর ওকে উৎসাহ দিন নিজে কাজটা করার জন্য। প্রথমদিন নিশ্চয় আপনার মতন সুন্দর করে কাজ করতে পারবে না। কিন্তু তার জন্য কখনই ধৈর্য হারাবেন না বা বকাবকি করবেন না। তা হলে ওর নিজের কাজ করার ইচ্ছেটাই চলে যাবে। কিছুদিন ওকে সময় দিন কাজটা শেখার জন্য। একদিন দেখবেন ও নিজেই সুনিপুণভাবে কাজটা শিখে ফেলেছে। ওকে সেদিন যেন পুরস্কৃত করতে ভুলবেন না। এভাবেই ক্রমান্বয়ে ওকে নিজে নিজে দাঁতমাজা, হাত-মুখ ধোয়া, টয়লেট করতে যাওয়া, খাওয়া, জুতোর ফিতে বাঁধা— ইত্যাদি শেখাবেন। দেখবেন, এক-দু’বছরের মধ্যেই ও যথেষ্ট আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

সন্তানকে ভরসা করুন
আপনার সন্তানকে ভরসা করুন। এর জন্য অভিভাবকদেরও ধৈর্যশীল হওয়া প্রয়োজন। ভুলভ্রান্তি হলেও কাজের উদ্যোগকে সমর্থন করুন। এতে ওর মধ্যে সহজেই আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। ধীরে ধীরে নিপুণভাব কাজ করার অভ্যািস তৈরি হবে ওদের মধ্যেম।

উৎসাহ দিন কাজে
বাচ্চাকে বিভিন্ন রকম গ্রুপ অ্যাকটিভিটি করতে উৎসাহ দিন। এতে ওর যে শুধু একাকিত্ব ঘুচবে তা নয়। বরং ওর মধ্যে সংগঠনমূলক কাজ করার প্রবণতা বাড়বে। নিজস্ব চিন্তাশক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতাও বাড়বে।

খুব বেশি চয়েস দেবেন না
বাচ্চাকে লিমিটেড চয়েসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। রূপম তার বন্ধুর বার্থডে পার্টিতে যাবে। পাঁচ বছরের রূপম তার জন্যর খুবই আহ্লাদিত। রূপমের মা ওকে তিনটে অপশন দিলেন— বই, খেলনা, আঁকার জিনিস। তিনি রূপমকে বললেন এর মধ্যে যে কোনও একটি উপহার বন্ধুর জন্য সে নিয়ে যেতে পারে। রূপম খুব খুশি বন্ধুর জন্য নিজে গিফ্ট পছন্দ করবে। এতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা ধারণা তৈরি হল জন্মদিনে কী ধরনের উপহার দেওয়া হয়। আপনার বাচ্চাকে বিভিন্ন রকম জায়গায় এই লিমিটেড চয়েসের অপশন দিয়ে দেখুন। ওর মনোবল অনেক বাড়বে।

দায়িত্ববোধ তৈরি করুন
বাচ্চাকে ছোটখাটো ঘরোয়া কাজের দায়িত্ব দিন। এতে ওর নিজেকে পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মনে হবে। তার ফলে ওর মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে।

অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করবেন না
বাচ্চাকে অন্যদের সাথে তুলনা করতে যাবেন না। এটা পেরেন্টিংয়ের (parenting) সবচেয়ে বড় ভুল পদক্ষেপ। এতে বাচ্চা শুধু যে কষ্ট বা আঘাত পায় তা নয় বরং নিজের কর্মক্ষমতা সমন্ধে নিজেই দ্বিধায় থাকে। এছাড়া ওকে সবার সামনে বকাবকি করলে বা ‘বোকা’, ‘গাধা’— এসব আখ্যা দিলে ওর পক্ষে আত্মবিশ্বাসী হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।

নিজের ইমেজ ঠিক রাখুন
বাচ্চারা মা বাবার প্রতিটা আচরণ অনুকরণ করে। তাই নিজের ইমেজকে সবসময় পজিটিভ রাখুন। কোনওভাবেই বাচ্চার সামনে নিজেরা ভেঙে পড়বেন না। এটা বাচ্চার মনে চরম দুর্বলতা তৈরি করে। বরং বাচ্চারা আপনাকে শান্ত, সংযমী সহিষ্ণু দেখে বড় হোক। দেখবেন ওর মধ্যে এমনিতেই আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।

লক্ষ্য রাখুন
বাচ্চার বন্ধুবান্ধবদের মনিটর করুন। অনেক সময় দেখা যায় বাড়ির আবহাওয়া পজিটিভ থাকলেও স্কুলের বন্ধুবান্ধবদের প্রভাবে আপনার বাচ্চা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছে। ওর সঙ্গে কথা বলুন। গল্পচ্ছলে জানতে চান স্কুলের বন্ধুদের গল্প। ও কোনও সমস্যায় পড়লে সেটা মোকাবিলার পরামর্শও দিন। দেখবেন, ধীরে ধীরে ও শিখবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে। এ প্রসঙ্গে ওর সঙ্গে প্রিটেন্ড গেম ও খেলতে পারেন।

অনাবিল আনন্দর
সময় থাক
অনেক অভিভাবক (parenting) মনে করেন বাচ্চাকে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকটিভিটি ক্লাসে ভর্তি করলেই দায়িত্ব সারা হয়ে গেল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সপ্তাহে প্রায় সাত দিনই বাচ্চার আঁকাঝোঁকা, নাচ, গান, সাঁতার কবিতা শেখা এসব রুটিন রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাচ্চারা সব অ্যাকিটিভিটি নিজের ইচ্ছায় করে না, চাপিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাচ্চার জীবন বড্ড যান্ত্রিক হয়ে যায়। বর্তমানে কিছু সমীক্ষা থেকে জানা গেছে বাচ্চাদের প্রতিদিনই কিছুটা সময় ফ্রি আনস্ট্রাকচারড সময় দেওয়া দরকার। সেটা তাদের মনে শুধু যে অনাবিল আনন্দ দেবে তা নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বাচ্চারা নিজেরা মাথা খাটিয়ে অনেক নতুন ধরনের খেলা তৈরি করছে। নিজেদের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্নরকম জিনিস বানাচ্ছে। এভাবেই মনের গভীর স্তরে ওরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে।

নিয়মিত ব্যায়াম করান
বাচ্চার শারীরিক গঠনের ওপর জোর দিন। ওকে নিয়মিত এক্সারসাইজ করান। শরীর সুস্থ থাকলে ওর মনের জোর ও বাড়বে। সবার সাথে খেলাধূলো করার ইচ্ছাও তৈরি হবে।
নতুন বছরে এই কয়েকটি ছোট ছোট পরিবর্তন করে ফেলুন আপনাদের অভিভাবকত্বের পদ্ধতিতে। আপনার সন্তানের মন থাকবে শান্ত এবং আনন্দময়। আপনারাও আনন্দের সাথে আপনাদের অভিভাবকত্বকে এগিয়ে নিয়ে যান। ভাল থাকুন সকলে।

Latest article