আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির মুখে চাবাহার আমেরিকার সঙ্গে দরকষাকষিতে ভারত

নয়াদিল্লি: ইরানের চাবাহার বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ভারতের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের বর্ধিত নিষেধাজ্ঞা মকুবের মেয়াদ নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। উল্লেখ্য, এই মকুবের মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় এবং চাবাহার বন্দর নিয়ে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ইঙ্গিত দেওয়ায় ভারত এই প্রকল্প থেকে পিছু হটছে কি না, তা নিয়ে জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে ভারত চাবাহার প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এই প্রতিবেদনটি সরাসরি নিশ্চিত করেননি, তবে তিনি জানিয়েছেন যে আমেরিকা এই ছাড়ের বিষয়ে কিছু শর্ত আরোপ করেছে এবং ভারত সেই শর্তাবলী নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

আরও পড়ুন-ডিসেম্বরে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে হয়েছে ২.২৭ লক্ষ কোটি টাকা

চাবাহার বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল)-এর বোর্ড থেকে সরকারি পরিচালকদের গণ-পদত্যাগ এবং সংস্থার ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে অবশ্য বিদেশ মন্ত্রক কোনো মন্তব্য করেনি। একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে কর্মকর্তাদের বাঁচাতে এবং আর্থিক দায়বদ্ধতা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকী ভারত ওই বন্দরের জন্য বরাদ্দ ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্পূর্ণ অর্থ ইতিমধ্যেই ইরানকে হস্তান্তর করে দিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে, যাতে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লে ভারতের ওপর কোনও আর্থিক দায় না থাকে এবং ইরান সেই অর্থ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারে। এক সময় আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় সরাসরি প্রবেশের জন্য পাকিস্তানকে এড়িয়ে চাবাহার বন্দরকে ভারতের জন্য কৌশলগত সংযোগস্থল বা ‍‘কানেক্টিভিটি হাব’ হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ বদলে যেতে শুরু করেছে। ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এখন এক অস্থির সময় চলছে। রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ভারতীয় পণ্যের ওপর আমেরিকা ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে এবং বাণিজ্য আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। এর ওপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি দিল্লির ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারত ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকির বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারের কঠোর দমননীতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত তার নাগরিকদের ইরান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং সেখানে অবস্থানরত প্রবাসীদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছে। তবে ইরানকে কি ভারত বন্ধু হিসেবে ত্যাজ্য করছে? এই প্রশ্নের উত্তরে মুখপাত্র জানান যে, তেহরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং নয়াদিল্লি সেই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তবে শর্তসাপেক্ষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আর ট্রাম্পের কড়া নীতির মুখে ভারত কীভাবে এই ভারসাম্য বজায় রাখে, এখন সেটাই দেখার।

Jago Bangla

Recent Posts

সত্যিই আসন্ন মোদির বিদায়বেলা? বয়স নিয়ে খোঁচা গড়করির

নাগপুর : এবারে কি সত্যিই ঘনিয়ে এল মোদির বিদায়বেলা? দলের অন্দর থেকেই সুস্পষ্ট বার্তা, অনেক…

9 hours ago

জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই, কিশতওয়ারে শহিদ জওয়ান

শ্রীনগর : সেনাবাহিনীর (Indian Army) সঙ্গে কিশতওয়ারের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের গুলির লড়াই শুরু হয়েছিল…

9 hours ago

ট্রাম্পের শুল্কতোপের মুখেও অনড় ইউরোপের ঐক্য, পাল্টা পরিকল্পনা

ওয়াশিংটন: ইউরোপের দেশগুলির উপর শুল্কের ভার চাপিয়ে গ্রিনল্যান্ড (Greenland_America) দখল করার কৌশল নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট…

9 hours ago

সাহিত্য অ্যাকাডেমির পাল্টা জাতীয় পুরস্কার ঘোষণা করলেন স্ট্যালিন

নয়াদিল্লি : কেন্দ্রীয় সরকারের সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অভিনব পদক্ষেপ নিলেন তামিলনাড়ুর…

10 hours ago

চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা, বলছে জনতা

সংবাদদাতা, বারাসত : জনসুনামির সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসত। সোমবার বারাসতের কাছারি…

10 hours ago

কমিশনের অমানবিকতার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে সরব তৃণমূল, হিয়ারিং হয়রানির প্রতিবাদে মিছিল করে স্মারকলিপি প্রদান

ব্যুরো রিপোর্ট: শুনানির নামে হয়রানির প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে গর্জে উঠেছে তৃণমূল (ECI_TMC)। সোমবার মালদহ, কোচবিহার, রায়গঞ্জে…

10 hours ago