চিনের সংস্থা থেকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা তোলার পথে ভারত

Must read

নয়াদিল্লি: ভারত ও চিনের (China_India) সীমান্ত সংঘাতের জেরে গত পাঁচ বছর ধরে চলা বিধিনিষেধ তুলে নিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতের অর্থ মন্ত্রক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পের দরপত্রে চিনা কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত কড়াকড়ি শিথিল করার প্রস্তুতি চলছে। ২০২০ সালে ভারত-চিন সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। সেই সময় নিয়ম করা হয়েছিল যে, চিনের কোনও সংস্থাকে সরকারি কাজে অংশ নিতে হলে একটি সরকারি কমিটির কাছে নিবন্ধন করতে হবে এবং একইসাথে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক ছাড়পত্র নিতে হবে। এই কড়াকড়ির ফলে ভারতের সরকারি খাতের প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রকল্পে চিনা কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিধিনিষেধ আরোপের কয়েক মাস পরেই চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিআরআরসিকে ভারতের (China_India) ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের একটি ট্রেন উৎপাদন চুক্তি থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন-রুশ তেলবাহী জাহাজ দখলে আমেরিকাকে সাহায্য ব্রিটেনের

অর্থ মন্ত্রকের কর্মকর্তারা এখন সীমান্ত সংলগ্ন দেশগুলির দরদাতাদের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের এই শর্তটি বাতিল করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। মূলত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে আসা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বেশ কিছু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, চিনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। প্রাক্তন ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবার নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও এই বিধিনিষেধ শিথিল করার সুপারিশ করেছে। গৌবা বর্তমানে সরকারের একটি শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী সংস্থায় (থিংক ট্যাংক) কর্মরত আছেন, যা এই প্রস্তাবের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও অর্থ মন্ত্রক বা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি, তবে বিশেষজ্ঞ মহলে এটি একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত সরকার এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে। চিনা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ওপর আরোপিত কড়াকড়ি এখনই তুলে নেওয়া হচ্ছে না, কারণ জাতীয় নিরাপত্তা এবং চিনের ওপর মাত্রাতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। পাশাপাশি, ভারতের সাথে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান এখনও স্পষ্ট করেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে ভারত ও চিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

Latest article