নয়াদিল্লি: বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতার পাশাপাশি শুল্ক সংক্রান্ত টানাপোড়েন অব্যাহত। তবে ভারতের আমদানি ব্যয়ের উচ্চগতির কারণে ডিসেম্বর মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২ লক্ষ ২৭ হাজার ২৮৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই ঘাটতি ছিল প্রায় ১,৮৭,২৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২১ শতাংশ বেড়েছে।
আরও পড়ুন-সুস্থ মার্টিনকে ফের টানছে সমুদ্রসৈকত
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতের পণ্য রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ১.৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩,৪৯,৫৫৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, আমদানি ৮.৮ শতাংশ লাফিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মূলত ইলেকট্রনিক্স, স্বর্ণ এবং যন্ত্রপাতির আমদানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ফলেই এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর আগস্টের শেষ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপের পর ডিসেম্বরে ভারতের রফতানি ১.৮৩ শতাংশ কমে প্রায় ৬২ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা হয়েছে। এই বিষয়ে বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়ালের বক্তব্য, আমেরিকার বাজারে আমরা এখনও শক্ত অবস্থানে আছি। শুল্ক কম এমন পণ্যগুলোতে আমাদের রফতানিকারকরা বেশি নজর দিচ্ছেন। আর যেখানে শুল্ক বেশি, সেখানেও তারা দক্ষতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ধরে রেখেছেন।
আরও পড়ুন-কসবা এলাকায় বাড়িতে বিস্ফোরণ!
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বাণিজ্য সচিব জানান, বর্তমানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনা চলছে এবং অবশিষ্ট অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (এপ্রিল-ডিসেম্বর) ভারতের পণ্য রফতানি ২.৪৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির মূলে ছিল ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ (ফার্মাসিউটিক্যালস), মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য। বাণিজ্য সচিবের আশা, চলতি অর্থবছরে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে মোট রফতানি প্রায় ৭৭ লক্ষ ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা গত অর্থবছরের প্রায় ৭৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬২৪ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। রফতানি গন্তব্য হিসেবে আমেরিকা এখনও ভারতের শীর্ষ তালিকায় অবস্থান বজায় রেখেছে। এপ্রিল-ডিসেম্বর সময়ে সেদেশে ভারতের রফতানি ছিল ৬৫.৮৮ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং তৃতীয় স্থানে চিন। লক্ষণীয়, চিনের বাজারে ভারতের রফতানি গত অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাণিজ্য সচিবের মতে, বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থার যে পরিবর্তন বা ‘রিক্যালিব্রেশন’ চলছে, তারই সুবিধা পাচ্ছে ভারত। এদিকে, ইরান থেকে তেল বা পণ্য আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকির বিষয়ে রাজেশ আগরওয়াল জানান, কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

