প্রতিবেদন : ফ্রি-কিক থেকে বিশ্বমানের গোল করলেন জেসন কামিন্স। মাঝমাঠে দারুণ খেললেন অনিরুদ্ধ থাপা, সাহালরা। উইং দিয়ে বারবার ঝড় তুললেন লিস্টন কোলাসো। তবুও আইএসএলের সেমিফাইনালে জামশেদপুর থেকে ১-২ গোলে হেরে ফিরছে মোহনবাগান (mohun bagan)! পিছিয়ে থেকে সোমবার যুবভারতীতে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামছেন কামিন্সরা।
ম্যাচের সংযুক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে ম্যাচের রং পাল্টে দিলেন জামশেদপুরের স্প্যানিশ মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্ডেজ। যিনি আবার সবুজ-মেরুনের প্রাক্তনী। জাভিকে বল বাড়িয়েছিলেন কিছুক্ষণ আগেই মাঠে নামা ঋত্বিক দাস। শেষ মিনিটে অনিরুদ্ধর শট অসামান্য দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন জামশেদপুরের গোলকিপার আলবিনো। নইলে ম্যাচটা ড্র হয়। জামশেদপুর রক্ষণে পাহাড় হয়ে দাঁড়ালেন এক বঙ্গসন্তান। প্রণয় হালদার। তিনিও সবুজ-মেরুনের প্রাক্তনী। অনভ্যস্ত স্টপার পজিশনে অসাধারণ খেলে প্রায় একাই রুখে দিলেন বাগানের যাবতীয় আক্রমণ।
আরও পড়ুন- রেকর্ড বাংলার, বাণিজ্যিক করে আয় ৬৬ হাজার কোটি
জেমি ম্যাকলারেন ও দিমিত্রি পেত্রাতোসকে প্রথম দলে রাখেননি জোসে মোলিনা। শুরু করেছিলেন কামিন্স ও গ্রেগ স্টুয়ার্টকে দিয়ে। চোটের জন্য আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন মনবীর ও আপুইয়া। তার উপর প্রায় এক মাস পর মাঠে নেমেছিলেন মোলিনার ফুটবলাররা। তাই শুরুতে শুভাশিস বোসদের খেলায় কিছুটা জড়তা ছিল।
সেই সুযোগে ঘরের মাঠে শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপিয়েছিল জামশেদপুর। একের পর এক আক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়ছিল সবুজ-মেরুন রক্ষণে। ৬ মিনিটে জামশেদপুরের মহম্মদ শাননের গোলমুখী শটে বক্সের মধ্যে হাতে লেগেছিল আশিস রাইয়ের। যদিও জামশেদপুরের পেনাল্টির আবেদনে কর্ণপাত করেননি রেফারি। গোলের সুযোগ এসেছিল মোহনবাগানের (mohun bagan) সামনেও। কিন্তু আশিস রাইয়ের পাস কামিন্স ধরার আগেই বল ধরে নেন জামশেদপুর গোলকিপার আলবিনো। তবে ২৪ মিনিটেই গোলে তুলে নেয় জামশেদপুর। মহম্মদ উবাইসের লম্বা থ্রো স্টেফান এজের মাথা ছুইঁয়ে জেভিয়ার সিভেরিওর কাছে আসতেই, তিনি হেডে বল জালে জড়ান।
পিছিয়ে পড়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছিল মোহনবাগানও। ৩৪ মিনিটে স্টুয়ার্টের ফ্রি-কিক থেকে টম অলড্রেডের জোরালো হেড পোস্টে লেগে গোললাইন অতিক্রম করার আগেই কোনও রকমে বল তালুবন্দি করেন আলবিনো। যদিও ৩৭ মিনিটেই কামিন্সের অসাধারণ গোলে ১-১ করে দিয়েছিল মোহনবাগান। জামশেদপুর বক্সের বেশ খানিকটা বাইরে কামিন্সকে ফাইল করেছিলেন আশুতোষ মেহতা। কামিন্সের নেওয়া বাঁ পায়ের ফ্রি-কিক অনেকটা সুইং করে জালে জড়িয়ে যায়। এক কথায় বিশ্বমানের গোল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়েছিল মোহনবাগান। ৫০ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার থ্রু থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট। কিন্তু তাঁর পা থেকে ছোঁ মেরে বল তুলে নেন আলবিনো। পরের মিনিটেই অনিরুদ্ধর শট জামশেদপুরের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে কর্নার হয়। এরপর খেলা যত গড়িয়েছে, ততই দাপট বেড়েছে মোহনবাগানের। কিন্তু শেষ মুহূর্তের ভুলে ম্যাচটা হেরেই মাঠ ছাড়তে হল সবুজ-মেরুনকে।