কিলবিল সোসাইটি

পয়লা বৈশাখের আগেই মুক্তি পাচ্ছে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি 'কিলবিল সোসাইটি'। ২০১২-তে মুক্তি পাওয়া তাঁর অন্যতম ডার্ক কমেডি 'হেমলক সোসাইটি'র সিক্যুয়েল এই ছবিটি। মুখ্যভূমিকায় রয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং কৌশানী মুখোপাধ্যায়। লিখছেন শর্মিষ্ঠা ঘোষ চক্রবর্তী

Must read

সেই আনন্দ করকে মনে আছে যে আত্মহত্যা কীভাবে করতে হয় তাঁর প্রশিক্ষণের জন্য একটি সংস্থা খুলেছিলেন যার নাম ‘হেমলক সোসাইটি’। আরে ওই যে মেঘনা না কী যেন একটা নাম ছিল না মেয়েটির যে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ওষুধের দোকানে গিয়েছিল ঘুমের ওষুধ কিনতে এবং ওখানেই তাঁর আনন্দ করের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আনন্দ কর তখন মেঘনাকে আত্মহত্যা করতে না দিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তাঁর হেমলক সোসাইটিতে। আনন্দর ‘হেমলক সোসাইটি’র শিক্ষক, শিক্ষিকাদের ছিল বিচিত্র নাম। সেই নাম অনুসারেই তাঁরা কোর্স করাতো। পরে বোঝা গিয়েছিল আসলে আনন্দ আত্মহত্যা করার ট্রেনিং দিত না সে নিরাশ, হতাশ, অবসাদগ্রস্ত আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষকে জীবনের প্রতি ভালবাসা অনুভব করাতে এবং আত্মহত্যা আটকাতে তার কাছে নিয়ে আসত। ঠিকই ধরেছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘হেমলক সোসাইটি’র কথাই বলছি। ছবিটা ২০১২ সালের জুন মাসে মুক্তি পায়। এ তো গৌরচন্দ্রিকা করলাম তাঁর কারণ হল ২০২৫-এ আবার ফিরছেন সেই আনন্দ কর। এবার নাম বদলে তিনি হয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় কর। ঠিক ১৩ বছর পর পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় নিয়ে এলেন ‘হেমলক সোসাইটি’র সিক্যুয়েল যার নাম ‘কিলবিল সোসাইটি’ (Killbill Society)। ‘হেমলক সোসাইটি’ ছবিতে আনন্দ কর-এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং মেঘনার চরিত্রে কোয়েল মল্লিক। সিক্যুয়েলেও থাকছেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তবে মেঘনার চরিত্রে এবারে আর নেই অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তিনি এখন তাঁর দ্বিতীয় সন্তানকে নিয়ে বেশ ব্যস্ত। কোয়েলের পরিবর্তে এবার রয়েছেন অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়। ‘কিলবিল সোসাইটি’ (Killbill Society) সিক্যুয়েল হলেও আনন্দ ওরফে মৃত্যুঞ্জয় কর কিন্তু আর আগের মতো নেই। আগের মতো হাসি–খুশি, মজার মানুষ আর সে নয়। বরং এবার সে অনেক ঠান্ডা, কঠিন। কেন এমন পরিবর্তন হল তাঁর? যে মৃত্যুর অ্যানাটমি সবার থেকে ভাল বুঝত, এবার সে অন্যরকম চেহারায় হাজির হবে দর্শকদের সামনে। আইডিয়ালিস্ট আনন্দের বদলে এই ছবিতে দেখা যাবে ঠান্ডা, শান্ত, ক্ষুরধার মৃত্যুঞ্জয়কে। আর ছবি জুড়ে থাকবে অনেক টুইস্ট।

‘কিলবিল সোসাইটি’তে অভিনেতাদের ছড়াছড়ি। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং কৌশানী মুখোপাধ্যায় ছাড়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে এই ছবিতে অভিনয় করবেন বিশ্বনাথ বসু, সন্দীপ্তা সেন, অরিজিতা মুখোপাধ্যায়, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। শোনা গেছে এই ছবিতে থাকছেন অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাও। একটি বিশেষ অর্থাৎ ক্যামিও চরিত্রে সৃজিতের এই ছবিতে ধরা দেবেন অঙ্কুশ।তবে কেবল অঙ্কুশ হাজরা নন। কিলবিল সোসাইটিতে থাকবে একাধিক ক্যামিও। সেই বিশেষ চরিত্রগুলোতে দেখা যাবে ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই খ্যাত’ অভিনেত্রী অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। থাকবেন সোমক ঘোষ, নীলাঞ্জনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া ক্যামিও হিসেবে থাকছেন অঙ্গনা রায়, শ্রুতি দাস, রোশনি ভট্টাচার্যও। প্রসঙ্গত ‘হেমলক সোসাইটি’তেও কিন্তু একাধিক ক্যামিও চরিত্রে দেখা গিয়েছিল বরুণ চন্দ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সোহাগ সেন, ব্রাত্য বসু, শিলাজিৎ মজুমদার, জিৎ, রাজ চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা সরকার, সব্যসাচী চক্রবর্তীকে।

আরও পড়ুন- রাজ্যের সাত নতুন পণ্য পেল জিআই স্বীকৃতি

মুক্তি পাবার আগেই ‘কিলবিল সোসাইটি’ (Killbill Society) বেশ বিতর্কিত। কারণ ছবিটির প্রচারের জন্য কিছুদিন আগেই একটি কৌতূহলোদ্দীপক বিজ্ঞাপনী পোস্টার প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল যেখানে লেখা ‘অসহায় লাগছে? হোয়াটসঅ্যাপ করুন। মৃত্যুঞ্জয় কর।’ বলে নিচে একটি ফোন নম্বর দেওয়া। এহেন পোস্টার দেখে খেপেছেন নেটিজেনরা। তাঁদের মতে, যে-দেশে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়াটাই মানুষ লজ্জার মনে করেন এবং ভয় পান সেখানে এমন বিভ্রান্তিকর এবং অসংবেদনশীল বিজ্ঞাপন রাস্তায় কীভাবে শোভনীয়। অবসাদগ্রস্ত, হতাশ বা আত্মহত্যাপ্রবণ কোনও মানুষ যদি সত্যিই ওই নম্বরে যোগাযোগ করার পরে বিফল মনোরথ হন, তা হলে তাঁর মনের অবস্থা কেমন হবে সেটা কি কেউ ভেবে দেখেছেন? যদিও এই বিতর্ক প্রসঙ্গে পরিচালক বলেছেন যে ‘কিলবিল সোসাইটি’র প্রচারের ক্রিয়েটিভ কোনও কিছুতে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। হেমলক সোসাইটির মতোই এটা ভীষণ ভাবেই জীবনমুখী একটি সিনেমা। এই ছবির বার্তা খুব পজিটিভ।

‘হেমলক সোসাইটি’র পোস্টারটিও খুব ইন্টারেস্টিং ছিল। আগের বারের বার্তা ছিল ‘মরবে মরো ছড়িও না’ আর এবারের বার্তা ‘মরতে হলে বাঁচতে হবে’। ছবিতে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় মাথা কামিয়ে একেবারে নতুন লুকে। অন্যরকম লুকে থাকবে কৌশানী মুখোপাধ্যায় ওরফে ছবির নায়িকা পূর্ণা আইচও। তাঁদের এইরকম লুকের পোস্টার দর্শকদের কৌতুহল অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। কেমন এই নতুন মৃত্যুঞ্জয়? পূর্ণা আইচ-ই বা কে ?যিনি লাগামছাড়া এক নারী। দুঃসাহসী। তাই যা তাঁর মন চায় তিনি সেটাই করেন। পরোয়া করে না। এহেন অবাধ্য পূর্ণার জীবনে একদিন সবকিছু হঠাৎ ওলটপালট হয়ে যায়। দুঃসাহসী পূর্ণা হয়ে ওঠেন ভিতু। কিন্তু কেন এমনটা হল? এবার তো আর আনন্দ কর কাউকে বাঁচাবে না। তাহলে কী করবে পূর্ণা? সে কি চরম সিদ্ধান্ত নেবে নাকি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে? এই প্রশ্নগুলোই আপাতত ঘুরপাক খাবে দর্শক, সমালোচকদের মনের মধ্যে। আর উত্তর জানতে হলে যেতে হবে ছবিটা দেখতে। কারণ খুব বেশিদিন বাকি নেই আগামী ১১ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে ‘কিলবিল সোসাইটি’। ছবির প্রযোজক শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস। কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার সৃজিতই। সুরকার অনুপম রায়, রণজয় ভট্টাচার্য এবং তমালিকা গোলদার। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর করেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। সম্পাদনায় সংলাপ ভৌমিক।

Latest article