মুম্বই, ৩১ মার্চ : দিল্লি থেকে মুম্বইয়ে এসে বলিউড মুঠোয় নিয়েছেন শাহরুখ খান। এখনও তিনিই হিন্দি ছবির বেতাজ বাদশা। কিন্তু তাঁর সাধের কেকেআর কলকাতা থেকে মুম্বই এসে বারবার কেঁপে যাচ্ছে। মুম্বইয়ের জল-হাওয়া মাখা কোচ। ঘরোয়া ক্রিকেটে যিনি কোচেদের ডন ব্র্যাডম্যান। অধিনায়কও মুম্বইয়ের। দিন যায়, দিন আসে। এটা আইপিএল ১৮। কিন্তু নাইটদের এই ব্যর্থতার সাতকাহন কিছুতেই যাচ্ছে না।
প্রথম দুই ম্যাচে বল না করা রাসেল যখন বল করতে এসে রোহিত শর্মাকে (১৩) তুলে নিলেন, অদ্ভুত নিস্তব্ধতা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। হর্ষিত ডিপ মিড অনে ক্যাচ নিলেন। তবে কোনও উচ্ছ্বাস নেই। ৫.২ ওভারে ৪৬ তুলে ফেলা মুম্বই জেট গতিতে এগোচ্ছিল। কিন্তু মুম্বইকরদের প্রাপ্তির ভাঁড়ারে কিছুটা অপূর্ণতা থেকে গেল হিটম্যানের আউটে। যাচ্ছিলেন ভাল। একটা ছক্কাও হল। শুধু রাসেলের স্লোয়ারে টপ এজ খেলে ফেললেন।
আরও পড়ুন-হেরেছি ব্যাটিং ব্যর্থতায় : রাহানে
হতাশ রোহিত মাথা নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে গেলেন। ইম্প্যাক্ট সাব শুধু ব্যাট করলেন। কিন্তু রান সেই নেই তো নেই-ই। এমন নয় যে রোহিত ফিরে যাওয়ায় মুম্বই মুশকিলে পড়ল। কেন হবে? নাইটরা মোটে ১১৭ রানের টার্গেট দিয়েছিল। যেটা ৪১ বল আগে তুলে দিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এত কম রান ডিফেন্ড করতে গেলে শুরুতে উইকেট লাগে। নাইটরা পারেনি। না পারার কারণ উইকেট বুঝতে ভুল করা। সিমিং উইকেটে সেই বরুণ-নারিন তাস খেলতে যাওয়া। আর অবশ্যই পণ্ডিতের দলে প্ল্যান বি না থাকা। নরখিয়া এই উইকেটে বসে আছেন, আর স্পেনসার জনসন খেলে যাচ্ছেন! অতএব, এরকমই হওয়ার কথা।
গম্ভীরের জামানায় এই দলে যে জোশ ছিল, সেটা এখন নেই। থাকলে বোর্ডে ১১৬ নিয়েও একটা শেষ চেষ্টায় যেত কেকেআর। কিন্তু এই ম্যাচে যা হল সেটা মুম্বইয়ের একতরফা দাদাগিরি। রাহানে, পন্ডিতরা মুম্বইয়ে খেলেছেন। খারুশ ক্রিকেটীয় আবহে বড় হয়েছেন। কিন্তু লড়াই দূরে থাক, নাইটদের দেখে এদিন মনে হল তারা কতক্ষণে ম্যাচ শেষ করে কলকাতায় ফিরবেন! রাসেল গোটা দুয়েক উইকেট নিলেন। কিন্তু রাইকেলটন (৬২ নট আউট) ও সূর্য (২৭ নট আউট) এত জাঁকিয়ে বসেছিলেন যে ৮ উইকেটে জিতল মুম্বই। এটা তাদের প্রথম জয়।
আগের দিন পণ্ডিত বলছিলেন, গুয়াহাটি থেকে অনেক পজিটিভ নিয়ে এসেছেন। দলের আত্মবিশ্বাসও নাকি বেড়েছে। কিন্তু মুম্বইতে মুম্বইয়ের সামনে পড়লে কী যে হয় কেকেআরের! পণ্ডিতকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, এটা আপনার দ্বিতীয় বছর। বাড়তি কি যোগ করবেন? ভদ্রলোক কী করলেন যে জানে! কিন্তু দুনিয়া দেখল অশ্বিনী কুমার বলে একটা বাচ্চা ছেলের কাছে কীভাবে ১৬.২ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে গেল নাইটরা।
ভাবুন একবার, এই দলে ২৩.৭৫ কোটির ভেঙ্কটেশ আইয়ার আছেন (৩)। কুইন্টন ডি’কক (১), রিঙ্কু সিং (১৭), অজিঙ্ক রাহানে (১১) আছেন। কিন্তু একমাত্র অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে (২৬) দেখে মনে হল রান করতে পারেন। বাকিরা অশ্বিনীর বলে নাস্তানাবুদ হলেন। তার মানে অবশ্য এমন নয় যে, এখানে বল মারাত্নক সিম করল। লাল মাটিতে বাউন্স ছিল এই যা। কিন্তু এটা নাইটদের হারাকিরির একমাত্র কারণ হতে পারে না।
টসের সময় শাস্ত্রী উইকেটে ঘাসের কথা তোলেন। রাহানেকে তিনি বলছিলেন, এখানে এত খেলেছ। কী বুঝছ? কেকেআর অধিনায়ক অবশ্য ঘাসকে বাড়তি গুরুত্ব দেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, মাঠে এত হাওয়া যে উইকেট বোঝা কঠিন। তবে এই হাওয়ায় রাতে শিশির আর সমস্যা করতে পারবে না। টসে জিতলে তিনিও আগে বল করতেন জানিয়ে রাহানের দাবি ছিল, তাঁদের যা বোলিং লাইন আপ তাতে যে রান তুলবেন
সেটা ডিফেন্ড করার ক্ষমতা রাখেন। আসলে সামনে এল অন্য চিত্র।
আরও পড়ুন-দাও ভালবাসা সম্প্রীতি, সূর্যমুখী ফুলের ধীর, বর্ণভেদ ভুলে মানুষ ভজো, জড়াজড়ি হও বীর
প্রত্যাশিতভাবে এই ম্যাচে নাইটরা ফিরিয়ে আনল সুনীল নারিনকে। অসুস্থতার জন্য গুয়াহাটিতে তিনি খেলেননি। এতে বসতে হল মঈন আলিকে। ডি’ককের সঙ্গে পিঞ্চ হিটার হিসাবে ইনিংস শুরু করলেন নারিন। মুম্বই শূন্য পয়েন্ট নিয়ে এই ম্যাচে নেমেছিল। হার্দিক বললেন, এটা লম্বা টুর্নামেন্টে। শুধু ছন্দে ফিরতে হবে। হার্দিক অবশ্য শুরুতে সুইং পাওয়ার আশায় ছিলেন। যেটা হল তৃতীয় বলেই। ট্রেন্ট বোল্টের ভিতরে আসা বলে বোল্ড হয়ে গেলেন নারিন (০)। বোর্ডে তখন।১ রান। আর ১ রান যোগ হতেই ফিরলেন ডি’কক। ব্যাস, সেই শুরু!
আইপিএল ইতিহাসে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবথেকে বেশি উইকেট পেলেন অশ্বিনী। ৪ উইকেট নিয়ে নাইটদের আটকে দিলেন। তাঁর এই সাফল্যের পিছনে সবথেকে বড় কারন ঠিক জায়গায় বল রাখা। মুম্বই এভাবেই নতুনদের তুলে আনে। যেভাবে এবার পুথুরকে তুলে এনেছে। তবে এমন নয় যে অশ্বিনীকে খেলা যাচ্ছিল না। কিন্তু কেউ যদি ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে-র মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে, তাহলে এমনই হওয়ার কথা।
একটা পার্টনারশিপ তৈরি হয়নি কেকেআরের। মাঝখানে মণীশ পাণ্ডে (১৯), শেষদিকে রামনদীপ সিং (২২) চেষ্টা করেছেন। ডি’কক গুয়াহাটিতে রান পেয়েছেন। এখানে তিনি রান পাননি। কিন্তু বাকিরা? পোড়খাওয়া রাসেলকে বাচ্চা ছেলে অশ্বিনী যেভাবে বোকা বানালেন, সেটা না বললেই নয়। হার্দিক তাঁকে ঠুকতে বলেছিলেন। অর্থাৎ শর্ট বাউন্সার। অশ্বিনী পরপর দুটো ঠোকার অধৈর্য ড্রে রস উইকেট দিয়ে চলে গেলেন। আইপিএলে তিন ম্যাচ হয়ে গেল। রাসেলের অবদান এদিনের দুটি উইকেট। যার কোনও প্রভাব হারের ম্যাচে পড়েনি।