প্রায়শই অর্ধেক আকাশের কথা ওঠে। বলা হয় নারী-পুরুষ সমানাধিকারের কথা। তবে সবই মৌখিক। বাস্তবে নানাভাবে মহিলাদের অপদস্থ করা হয়। ক্ষমতাসীন পুরুষদের দ্বারা। ঔদ্ধত্যের কারণে মহিলাদের প্রতি তাদের আচরণ আশ্চর্যরকম বদলে যায়। ফলে বিছানার চেনা মানুষটি হয়ে যায় ভীষণরকম অচেনা। দীর্ঘদিন ধরে মৌখিক নিগ্রহ একজন নারীকে ভিতর থেকে মানসিক ভাবে শেষ করে দেয়। এর ফলে সমাজে ও সংসারে সে সবার মধ্যে একা হয়ে যায়। ভুগতে থাকে চরম হীনমন্যতায়। সেই গল্পই ফুটে উঠেছিল ‘লজ্জা’ সিরিজে। কোনওরকম শারীরিক নির্যাতন নয়। কথার বিষ যে মানুষকে কতখানি গ্লানি দিতে পারে তা ‘লজ্জা’র জয়াকে দেখে উপলব্ধি করেছেন দর্শকেরা। চোখের উপরে দেখেছেন জয়ার বেঁচে থেকেও একটু একটু করে মরে যাওয়ার করুণ কাহিনি। দেখানো হয়েছে আপাত দৃষ্টিতে সুখী দাম্পত্যজীবন তার। বাড়ি, গাড়ি, টাকা, স্বামী, সন্তান, শাশুড়ি-সংসারে সব রয়েছে। নেই শুধু শান্তি। স্বামীর কথা অসহনীয় হয়ে ওঠে। বিষকথা শূলের মতো বিঁধে যায় জয়ার শরীরে, মনে। কারও মুখের উপর উত্তর দিতে পারে না সে। কারণ সমাজ বলে নীরব থাকো। সয়ে যাও অপমান। সবার কথা সহ্য করা যেন তাঁর নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েও মায়ের সঙ্গে থাকতে চায় না। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ায় তার এনজিও-সহকর্মী মৌ এবং তার উকিল বন্ধু। এক কঠিন লড়াইয়ের সূচনার মধ্যে দিয়ে সিরিজের শেষ হয়েছিল। আর সেখান থেকেই বহু দর্শক আশা করেছিলেন যে, এর দ্বিতীয় সিজন নিশ্চয়ই আসবে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি হইচইয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয় যে, দর্শকদের প্রত্যাশামতো ‘লজ্জা ২’ (‘Lojja 2’) আসছে। পয়লা বৈশাখের আগেই। কিছুদিন আগেই প্রকাশ্যে এল সিরিজের ট্রেলার। পাশাপাপাশি নির্মাতাদের পক্ষ থেকে সিরিজ মুক্তির দিনক্ষণও প্রকাশ করা হল।
আরও পড়ুন-ডিএলএড পাশ না করেও প্রাথমিকে ২৩০০ জন চাকরি পাবেন: সুপ্রিম কোর্ট
মনে হচ্ছে, সিরিজের দ্বিতীয় সিজনে আরও তীব্র এবং চিন্তামূলক গল্প তুলে ধরা হবে। ট্রেলারে দেখা গিয়েছে প্রথম সিজনে কাহিনির মূল চরিত্র জয়া যাদের পাশে পেয়েছিল, এবার তারাও ভুল বুঝে আঙুল তুলেছে জয়ার দিকে। দূরে সরে গেছে। ফলে জয়া আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উত্তাল সমুদ্রের মাঝখানে একাকী দ্বীপের মতো। হয়েছে কোণঠাসা। তার বিরুদ্ধে উঠেছে মিথ্যা অভিযোগ। এমন কিছুর জন্য তাকে দোষ দেওয়া হচ্ছে, আসলে যা সে করেনি। অথচ তাকে অপমানিত হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অকারণে তিরবিদ্ধ হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জয়ার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। কেবল মৌখিক নির্যাতন নয়, মানুষের কিছু কিছু কাজও আর একটা মানুষকে ক্ষত-বিক্ষত করতে পারে। তবে ট্রেলারে দেখা গেছে যে, এতকিছুর পরও জয়া লড়াই করে। ঘুরে দাঁড়ায়। কারণ এবার সে মোটেও মুষড়ে নেই। এবার সে আরও কঠিন। তবু প্রশ্ন থেকেই যায়, কঠিন এই পথে বাকি লড়াইটা কীভাবে একা এগিয়ে নিয়ে যাবে সে? তা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে সিরিজ মুক্তির। ১১ এপ্রিল বহুল প্রতীক্ষিত ‘লজ্জা’র নতুন সিজন ‘লজ্জা ২’ (‘Lojja 2’) আসছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের পর্দায়।
পরিচালক অদিতি রায় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘লজ্জা’র দ্বিতীয় সিজনের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং ন্যায়বিচারের জটিলতার গভীরে প্রবেশ করছি। জয়ার চরিত্রে বিরাট পরিবর্তন দেখতে পাবেন দর্শকেরা৷ সিরিজের পরতে পরতে থাকবে এমন সব অনুভূতি যা সকলকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দেবে৷
এবার তিনি গল্প সাজিয়েছেন আরও শক্ত বাঁধনে। জয়াকে ভুল বুঝছে তার দাদা, বউদি এবং গোটা সমাজ। কটুকথা ঘর ছেড়ে আজ রাস্তাতেও অপেক্ষা করে জয়ার জন্য। পরিচালক গল্পের কেন্দ্রে রেখেছেন ইন্দ্রাশিস রায় ও প্রিয়াঙ্কা সরকারকে। আইনজীবী শৌর্যর চরিত্রে দেখা গিয়েছে ইন্দ্রাশিসকে। জয়ার ভূমিকায় আছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। ইন্দ্রাশিস বেশ ভাল। তাঁর চরিত্রে আলো আছে, অন্ধকার আছে। তবে প্রিয়াঙ্কা এই সিরিজে এককথায় অসাধারণ। রীতিমতো নজর কেড়েছেন ট্রেলারে। বৈপরীত্য রয়েছে তাঁর চরিত্রে। কখনও কোমল, কখনও কঠিন। চোখমুখের অভিব্যক্তির মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি বড় মাপের অভিনেত্রী। ‘চিরকালই তুমি যে আমার’-এর সেই মেয়েটি আজ অনেকটাই পরিণত। নিজেকে ভেঙেছেন। বদলেছেন। বলা যায়, এই সিরিজের মুখ তিনিই। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীপঙ্কর দে, নমিতা চক্রবর্তী, স্নেহা চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রজিৎ মজুমদার, শাঁওলি মিত্র, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। আশা করা যায় সিরিজটি দর্শকদের মন জয় করবে।