প্রতিবেদন : নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি কর্মকাণ্ডে এবার নাম বাদ পড়ল গঙ্গাসাগর ভারত সেবাশ্রম সংঘের (Bharat Sevashram Sangha) নিমাই মহারাজের। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারত সেবাশ্রম সংঘে গেলে তাঁর সামনেই মহারাজ বলেন, আমি ৪০ বছর ধরে বাংলায় আছি। এখন এরা আমার নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। শুনানিতে যেতে বলেছিল। আমি কাজ ফেলে— এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী আসছেন তাই যাইনি। অত্যন্ত খেদের সঙ্গে জানালেন মানবসেবায় জীবন উৎসর্গ করা নিমাই মহারাজ। পরে কপিল মুনির মন্দিরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীও বললেন, দেখুন কী অবস্থা! মহারাজের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে! রাজ্য সরকারের রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেটও মানছে না, এই প্রসঙ্গ এলে মুখ্যমন্ত্রী বলে দেন এসব অন্যায় করছে। আমরা মানব না।
ভারত সেবাশ্রম সংঘের (Bharat Sevashram Sangha) মহারাজ বলেন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ আগেও দিদির সঙ্গে ছিল, আজকেও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।
দিদির সঙ্গে আমরাও একমত যে গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলা হিসাবে ঘোষণা করা উচিত। দিদির পরিচয় হল কন্যাশ্রী, দিদির পরিচয় হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে গঙ্গাসাগর মেলায় যাঁরা আসতেন তাঁদের কাছ থেকে একটা ট্যাক্স নেওয়া হত। আমরা সেটা বন্ধ করেছি। পাঁচ লক্ষ টাকা করে বিমার ব্যবস্থা করেছি। ৯ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত যাঁরা মেলায় আসবেন তাঁদের সকলের জন্য।
আরও পড়ুন-পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন সোনালি, শুভেচ্ছা জানাতে ফুল মিষ্টি পাঠাবেন মুখ্যমন্ত্রী
কুম্ভমেলায় কেন্দ্র এত সাহায্য করে, তাও ওখানে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। আমরা অনেকবার অনুরোধ করেছি দিল্লিকে। গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে এক কোটির বেশি মানুষ আসেন। ঠিক আছে যখন দেয়নি তখন ভিক্ষা চাওয়ার লোক আমরা নই।
এরপরই তিনি বলেন, যারা সেতুটা তৈরি করবে তারা নিশ্চয়ই সময়ে কাজ শেষ করবে। তাড়াহুড়ো করতে যাবেন না। একটু ম্যান পাওয়ার বেশি লাগিয়ে কাজ করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, আমি আর আবেদন করতে যাব না। জনগণের আদালতেই এর বিচার হবে। তাই তো বলি আন্তর্জাতিক বিশ্বমেলার স্বীকৃতি পেয়ে গেছে। কপিল মুনির আশ্রমে এসে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। দেখা করেন জ্ঞানদাস মহান্তর সঙ্গেও। সেখানে দাঁড়িয়েই সাংবাদিকদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

