প্রতিবেদন : এসআইআর নিয়ে দুর্ভোগ শুধু ভোটারদেরই হচ্ছে না, হচ্ছে বিএলওদেরও (BLO mass resignations)। প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন নির্দেশ আসছে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে, তাও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। এমনিতে অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর কাজ করতে হচ্ছে, তার ওপর ভোটার এবং কমিশনের কর্তা দু’দিকের চাপে বিএলওরা জেরবার। অনেকে তো আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন। এই চাপের মধ্যে পড়েই বিভিন্ন জায়গায় বিএলওরা গণইস্তফা দিতে শুরু করেছেন। শনিবার নন্দীগ্রামের দু’নম্বর ব্লকে গণইস্তফা দিলেন ৭০ জন বিএলও। সেই সঙ্গে মোট ১০৭ বিএলওর মধ্যে এই ৭০ জন বিডিওর কাছে নিজেদের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বীরভূমের ইলামবাজার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে গিয়ে সেখানেও একযোগে ৭০ জন ইস্তফাপত্র জমা দেন। অভিযোগ, শুরুতে তাঁদের দায়িত্ব ছিল ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের ডেকে শুনানি এবং তথ্য যাচাই করা। সেই কাজ শেষ করার পর হঠাৎ ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে কোথাও বাবা-মায়ের নামের অমিল, কোথাও পরিবারের সদস্যসংখ্যা ইত্যাদি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠানো হচ্ছে। এমনকী কার কত সন্তান, পরিবারে অতিরিক্ত সদস্য কত ইত্যাদিও জানতে নির্দেশ দিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন বিএলওরা। কোথাও মানসিক ও শারীরিক হেনস্থাও করা হচ্ছে তাঁদের। বিএলওদের (BLO mass resignations) স্পষ্ট দাবি— হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো কোনও মৌখিক নির্দেশ তাঁরা আর মানবেন না। বিডিও-র তরফে লিখিত ও স্পষ্ট নির্দেশিকা না পাওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এই দাবিতেই নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের ৭০ জন বিএল গণইস্তফা দিলেন। বিভিন্নভাবে হয়রানি ও মানসিক চাপের অভিযোগ তুলে বীরভূমের ইলামবাজারে গণইস্তফা দিলেন প্রায় ৭০ জন বিএলও। এইভাবে গণইস্তফা দিলে এসআইআরের শেষপর্বের কাজ কীভাবে হবে, তাই নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ইলামবাজারের বিডিও অনির্বাণ মজুমদার বলেন, বিএলওরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। কাজের চাপ অত্যধিক হলেও সকলকে অনুরোধ করেছি, যাতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায়।

