বুধবার মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগরে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে সাগরসঙ্গম। ভোররাত থেকেই শুরু হয় মকরস্নান, যা বেলা গড়ানো পর্যন্ত চলে। সাগরমেলা ঘিরে মেলা-চত্বরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতায় নির্বিঘ্নে চলেছে পুণ্যস্নান ও মেলা-সংক্রান্ত যাবতীয় আয়োজন।
গত কয়েক দিন ধরেই একাধিক মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা গঙ্গাসাগরে ঘাঁটি গেড়েছেন। বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas) গত তিন দিন ধরে মেলা-চত্বরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন। মেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত খুঁটিনাটি বিষয় পর্যন্ত তাঁর কড়া নজর ছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কার্যত একার কাঁধেই মেলার দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন তিনি।
বুধবার সকাল থেকেই ব্যস্ত ছিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। কখনও জেলা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। সেই বৈঠকে বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে বিদ্যুৎ দফতরের কন্ট্রোল রুমে গিয়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি বিভাগীয় কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
মেলার ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে ভারত সেবাশ্রম সংঘের শিবিরেও যান বিদ্যুৎমন্ত্রী। সেখানে পরিকাঠামো ও পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিজে ঘুরে দেখেন। এক ফাঁকে শিবিরের রান্নার কাজেও হাত লাগান তিনি। সকাল থেকে বিভিন্ন দফতর ও শিবিরে ঘুরে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়। এর পাশাপাশি কপিল মুনির আশ্রমেও যান অরূপ বিশ্বাস। সেখানে মহারাজের আশীর্বাদ নেন তিনি। মেলা-প্রাঙ্গণ জুড়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এভাবেই দফায় দফায় ঘুরে নজরদারি চালান বিদ্যুৎমন্ত্রী। চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যেই গোটা দিন কাটান তিনি বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

