পেটের ভাত, মাথার ছাদ কাড়তে চায়

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি, ১৪ বছর আগের সেই অভিশপ্ত শীতের সকালের বারুদ আর রক্তের গন্ধ আজও যেন মিশে আছে লালগড়ের বাতাসে।

Must read

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম : ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি, ১৪ বছর আগের সেই অভিশপ্ত শীতের সকালের বারুদ আর রক্তের গন্ধ আজও যেন মিশে আছে লালগড়ের বাতাসে। সেই রক্তক্ষয়ী স্মৃতিকে পাথেয় করে বুধবার ঝাড়গ্রাম জেলার নেতাই গ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল ‘নেতাই শহিদ স্মৃতিতর্পণ’ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নেতাই শহিদ স্মৃতিরক্ষা কমিটি।

আরও পড়ুন-সপ্তাহ জুড়ে শীত

অনুষ্ঠানে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি ও শহিদ পরিবারগুলির সদস্যেরা। ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদিকা জয়া দত্ত, মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা ও রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাত, সাংসদ কালীপদ সরেন, বিধায়ক দুলাল মুর্মু, ডাঃ খগেন্দ্রনাথ মাহাত, দেবনাথ হাঁসদা, সুজয় হাজরা, দীনেন রায়, অজিত মাইতি, জেলা সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডি, শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুমন সাহু-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহিদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আহতদের পরিবারের সদস্যরা। শহিদ বেদিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপশি শহিদ পরিবারগুলিকে বস্ত্র দেওয়া হয়। জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনা যেমন মানুষ ভোলেনি, নেতাইয়ের ঘটনাও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কোনওদিন ভুলবে না৷ যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্রয়ে, স্নেহে নিজের রাজনৈতিক জীবন বড় করে তুলেছিলেন, সেই মিরজাফর অধিকারী ইডি-সিবিআই থেকে বাঁচতে বিজেপিতে গিয়েছেন। গত বছর নেতাই দিবসের দিন এখানে তিনি মিটিং করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ওই গদ্দারকে মানুষ এখানে জায়গা দেয়নি বলে লালগড়ে মিটিং করে ফিরে যান। এবছর আর সে সাহসও দেখাননি। বিজেপি বাংলার মনীষীদের অসন্মান, বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভোটার লিস্টে নাম বাদ দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। ভোট দেওয়ার যে গণতান্ত্রিক অধিকার সেটা কেড়ে নেবে বলছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, একটি বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে লড়াই হবে। ১০০ দিনের কাজের টাকা, বাংলার বাড়ির টাকা বন্ধ করে দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার। পেটের ভাত আর মাথার ছাদ দুটোই কেড়ে নিতে চাইছে বিজেপি। অন্যদিকে মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, প্রতি বছর আমরা এই দিনটিতে শহিদদের প্রতি সম্মান জানাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে যারা বাংলাকে ভাগ করার চেষ্টা করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সকাল থেকে সন্ধে অপমান করছে, তাদের যতক্ষণ না উপড়ে ফেলতে পারি ততক্ষণ আমরা শহিদদের ঠিকমতো মর্যাদা দিতে পারব না। আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে বাংলার বুক থেকে উপড়ে ফেলব একজোট হয়ে। এছাড়াও বক্তব্য পেশ করেন সাংসদ কালীপদ সরেন, রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাত-সহ অন্যরা। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি লালগড়ের নেতাই গ্রামে সিপিএম নেতা রথীন্দ্র দণ্ডপাঠের বাড়িতে থাকা সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর গুলিতে ৯ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। আহত হন ২৮ জন। তারপর থেকেই প্রতিবছর নেতাই গ্রামে এই দিনে শহিদ স্মৃতিরক্ষা কমিটির উদ্যোগে শহিদ তর্পণ অনুষ্ঠান করা হয়।

Latest article