নয়াদিল্লি : মোদি সরকারের নতুন শিক্ষা নীতি (এনইপি)-র বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রথম সোচ্চার হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই কেন্দ্রের নতুন শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সংসদের অধিবেশনে সোচ্চার হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এই নয়া শিক্ষানীতির বিরোধিতায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। এই নতুন শিক্ষানীতি প্রয়োগের আগে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফা সিদ্ধান্ত নিল কীভাবে নিল কেন্দ্রীয় সরকার? প্রশ্ন তোলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। দুটি কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ড আইসিএসসি এবং আইএসসি একজোট হয়ে এই শিক্ষানীতির বিরোধিতা করুক, সোমবার দাবি জানান তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, মোদি সরকারের নয়া শিক্ষানীতি দেশের যুক্তরাষ্ট্র পরিকাঠামোকে ধ্বংস করবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটক সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের নিজস্ব শিক্ষা নীতি রয়েছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ২০২৩ সালেই রাজ্য তাদের নিজস্ব শিক্ষা নীতির বাস্তবায়ন করেছিল। তামিলনাড়ুর শিক্ষানীতি এবং কর্নাটকের খসড়া শিক্ষানীতি ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল, জানান ডেরেক ও ব্রায়েন।
আরও পড়ুন-বিজেপি নেতার নারীবিদ্বেষী মন্তব্যে গর্জে উঠুন মেয়েরা : ঋতব্রত
এদিন ডেরেক ও’ব্রায়েন মোদি সরকারের ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অভিযান বিল’-এর মতো আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর যুক্তি, এই ধরনের পদক্ষেপগুলি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষয় করবে। শিক্ষার ওপর সরকারি ব্যয় কখনও জিডিপির ৬ শতাংশ স্পর্শ করেনি, যা (এনইপি)তে সুপারিশ করা হয়েছে, দাবি করেন তিনি। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন কলকাতার লা মার্টিনিয়ার ফর গার্লস স্কুলে আয়োজিত ভারতের অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের ১০৩তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। ৩০০০টিরও বেশি স্কুলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

