প্রতিবেদন : এসআইআর (SIR) আতঙ্কে মৃত্যুমিছিল থামছেই না। শুক্রবারও দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। একজন হাসনাবাদের ভেবিয়া এলাকার, নাম ফিরোজ মোল্লা (৩৮)। দ্বিতীয়টি ডোমজুড় বিধানসভার বালি-জগাছা ব্লক অফিসে। মৃতের নাম মদন ঘোষ (৬৫)।
বছর ৩৮-এর যুবক ফিরোজ মোল্লার ২০০২-এর ভোটার লিস্টের হার্ড কপিতে বাবা-মায়ের নাম আছে, অনলাইনে নেই। তা থেকেই দুশ্চিন্তায় মৃত্যু বলে অভিযোগ। কমিশন হিয়ারিংয়ে ডাকে ৩ জানুয়ারি। বাবা মোবাক মোল্লা ও মা জরিনা মোল্লার সঙ্গে নামের মিল হচ্ছিল না। তাই তাঁর নাম বাদ পড়ছিল। ফলে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। শুক্রবার তার জেরেই অসুস্থ হয়ে মারা যান বলে অভিযোগ। স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান অলিউল মণ্ডল খবর পাওয়ামাত্রই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। আরেক ঘটনায় এসআইআর শুনানিতে এসে মারা গেলেন বালি-জগাছা ব্লকের বৃদ্ধ মদন ঘোষ, শুক্রবার দুপুরে। বালি-জগাছা ব্লক অফিসের এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে। পরিবারের অভিযোগ, এদিন বেলা ১১টা নাগাদ শুনানিতে এসেছিলেন। কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেরক্স করে নিয়ে এসে লাইনে দাঁড়ানোর কয়েক মুহূর্ত পরেই মাথা ঘুরে পড়ে যান। তাঁকে কোনা গ্রামীণ হাসপাতাল, সেখান থেকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ছেলে দীপঙ্কর বলেন, এসআইআরের কারণে বাবা বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। প্রায়ই বলতেন তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে। এই ভয় এবং আতঙ্ক থেকে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন। স্থানীয় বিধায়ক কল্যাণ ঘোষের অভিযোগ, ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়। এই মৃত্যুর জন্য পুরোপুরি দায়ী নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুন- হয় মতুয়াদের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব, নইলে মোদি-শাহ গদি ছাড়ো: হুঙ্কার অভিষেকের

