সবুজ স্বর্গ নামে পরিচিত ওয়ানাড (Wayanad)। কেরলের পশ্চিমঘাটে অবস্থিত। দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন গন্তব্য। সবুজ, কুয়াশাচ্ছন্ন। পর্বত এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে দেখা যায় প্রকৃতি এবং সংস্কৃতির নিখুঁত মিশ্রণ। ওয়ানাড মশলা, কফি এবং বন্যমধুর জন্য বিখ্যাত। সারা বছর বহু পর্যটক ভিড় জমান। ঘুরে দেখেন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম মুথাঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। সুলতান বাথেরি থেকে এই অভয়ারণ্য মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে। অভয়ারণ্যের ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণের উপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। এখানকার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হল, জঙ্গলে বেড়ানোর সময় বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী দেখতে পাওয়া যায়। এত বেশি হাতি আছে যে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট সাইট’। বহু মানুষ এখানে হাতি দেখতে আসেন। হাতি ছাড়াও কিছু বানর, হরিণ এবং নানা ধরনের পাখি দেখা যায়। মাঝে মাঝে পাওয়া যায় বাঘের দেখাও। বন্যপ্রাণীদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। নাহলে বিপদ।
ঘুরে আসা যায় কোঝিকোড়ে। এখানকার সমুদ্র সৈকতটি দেখার মতো। পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ে। কোঝিকোড় থেকে ওয়ানাডের (Wayanad) দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। রাস্তাটি বেশ ভাল। বাস এবং ট্যাক্সি দুটোই পাওয়া যায় বলে সহজেই ভ্রমণ করা যায়।
ওয়ানাড জেলার অন্যান্য বেড়ানোর জায়গাগুলো হল মন্থনাবাদী এবং কালপেট্টা। পথে যেতে যেতে চোখে পড়ে নারকেল গাছ, সুপারি গাছ, কফি বাগান, কলা বাগান, চা-বাগান। মাঝে মাঝে কিছু সুন্দর বাংলোও দেখা যায়। সফরের সময় যাত্রীরা কিছুক্ষণ লাক্কিডিতে থামেন। এটা ঘাটের ভিউ পয়েন্ট। ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে এই পয়েন্টটিতে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সহ্যাদ্রি পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য এবং ঘাট রাস্তার বাঁক।
আরও পড়ুন-সিপিএম আর কতদিন মিথ্যে কথা বলবে ?
বনসুর সাগর বাঁধ একটি মনোরম বাঁধ, যার পটভূমিতে রয়েছে পাহাড়। এটা ভারতের বৃহত্তম মাটির বাঁধ এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম। পৌরাণিক চরিত্র বনসুরের নামে নামকরণ করা হয়েছে। এখানকার প্রধান আকর্ষণ নৌকা ভ্রমণ। কাছাকাছি অবস্থিত আরেকটি হ্রদ হল করালাদ হ্রদ। এখানেও নৌকা ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে।
ঘুরে দেখা যায় পুকোড লেক। নিঃসন্দেহে মনোরম। কিন্তু একটু বেশিই ভিড়। কারণ এখানে আছে একটি ছোটদের পার্ক, অ্যাকোয়ারিয়াম, নৌকা ভ্রমণের সুবিধা। এছাড়াও রয়েছে হস্তশিল্প, মশলা, মধু এবং আরও অনেক জিনিসপত্রের দোকান। হ্রদের ধারে হেঁটে গেলেই মন সতেজ হয়ে ওঠে। মাথা দোলায় বিশাল বিশাল গাছপালা। নেচে বেড়ায় বানরের দল। অবশ্যই দেখতে হবে আম্বালাভায়ালের ওয়ানাড হেরিটেজ মিউজিয়াম এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর জৈন মন্দির।
কুরুভা একটি সুরক্ষিত নদী ব-দ্বীপ। নির্জন। নিরিবিলি। ঘুরে বেড়ায় নানা প্রজাতির প্রাণী। এই জায়গার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হল বাঁশগাছ দিয়ে তৈরি সেতু এবং বেশকিছু বিরল গাছ। চারপাশে দেখা যায় বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড, পাখি, ভেষজ উদ্ভিদ। দ্বীপে আসা যায় ভেলায় চড়ে। উপভোগ্য অভিজ্ঞতা। এছাড়াও কেরল পর্যটন বিভাগ নৌকা সরবরাহ করে। দ্বীপগুলিতে ঘুরে বেড়াতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। ইকো-ট্যুরিজম রক্ষার জন্য এখানে পার্টি এবং পিকনিক করা নিষিদ্ধ। তবে প্রকৃতির বুকে অলসভাবে হেঁটে বেড়ানো যায়।
সুলতান বাথেরি থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পুকোড। মিষ্টি জলের হ্রদ। এর গভীরতা ৪০ মিটার এবং ৪০ একর জুড়ে বিস্তৃত। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পুকোডকে সমগ্র ওয়ানাডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র করে তুলেছে। এখানেও প্রচুর বানর এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণী রয়েছে। ফটোগ্রাফারদের জন্য আদর্শ জায়গা।
ইথ্রি থিম পার্ক দক্ষিণ ভারতের প্রথম বহুমুখী বিনোদনমূলক থিম পার্ক। ছোটদের মনোরঞ্জনের জন্য আছে বিভিন্ন উপাদান। মিনমুট্টি হল ওয়ানাডের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক জলপ্রপাত। দুর্দান্ত দৃশ্য এবং শান্ত পরিবেশের জন্য জনপ্রিয়। জলপ্রপাতটি দেখার জন্য অল্প দূরত্ব হেঁটে যেতে হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পরে মনে হয় পরিশ্রম সার্থক। প্রায় ১০০০ ফুট উঁচু থেকে জল নেমে আসে। ৩টি ধাপের মধ্য দিয়ে। এছাড়াও ওয়ানাডের অন্য আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে চেম্ব্রা পিক, নীলিমালা এবং চেথালিয়াম জলপ্রপাত। তবে খুব ছোটদের নিয়ে না যাওয়াই ভাল। সমস্যা দেখা দিতে পারে। শেষ বসন্ত বা গরমের মরশুমে সপরিবার ঘুরে আসতে পারেন।