বিরাট মঞ্চে হাতছাড়া একদিনের সিরিজও

নিউজিল্যান্ড ৩৩৭/৮ (৫০ ওভার) ভারত ২৯৬ (৪৬ ওভার)

Must read

ইন্দোর, ১৮ জানুয়ারি : রাতের দিকে যখন টপাটপ বল উড়ছে বাউন্ডারিতে, একজনের কথা নিশ্চয়ই ইন্দোরের মনে পড়েছে। প্রয়াত হয়েছেন অনেকদিন। কিন্তু এখনও মারকাটারি ব্যাটিং মানেই মুস্তাক আলি। অন্তত তাঁর শহরের লোকজনেরএমনই মনোভাব। ডন ব্র্যাডম্যান একবার শচীনকে দেখে বলেছিলেন, এ তো আমার মতোই ব্যাট করে। মুস্তাক নির্ঘাl বিরাটকে দেখলে একই কথা বলতেন!
বিরাট এদিন জেতাতে পারেননি ভারতকে (new zealand vs india)। ক্লার্ককে যে উঁচু শটটা মারলেন সেটা সোজা লং অনে চলে গেল মিচেলের হাতে। ১০৮ বলে ১২৪। উল্টো দিকে কুলদীপকে দেখে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু নৌকো তীর ছোঁয়ার আগেই থামল। শেষমেশ ৪৬ ওভারে ২৯৬। এই শহরে কোনও দল ৩০০ করে জেতেনি। মিথ অটুট। নিউজিল্যান্ড ভারতে এসে টেস্ট সিরিজ ৩-০ করেছিল। একদিনের সিরিজ ২-১। এখানে ৪১ রানে হেরে সিরিজ হাতছাড়া ভারতের। আর নিউজিল্যান্ডের এই ফরম্যাটে প্রথম ভারতের মাটিতে।

তবে ম্যাচের রেজাল্ট যা হয় হোক, হোলকার স্টেডিয়াম একটা সময় লাফাচ্ছিল। একটা বল লেগ স্ট্যাম্পের উপর সামান্য শর্ট। অনায়াস ফ্লিকে স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে গ্যালারিতে। তারপর ইনসাইড আউট। এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে মাখনের মত চার। এই শটগুলোর জন্যই তিনি বিরাট কোহলি। তখনও ১২০-২২ রান বাকি। হাতে চার উইকেট। ইকুয়েশন বলছে হবে না। হয়ওনি। কিন্তু যতক্ষণ ২২ গজে রাজা, কুছ ভি হো সকতা হ্যায়।
গ্যালারি ততক্ষণে কোহলিয়ানায় মজেছে। হর্ষিত স্কোয়ার ড্রাইভে বাউন্ডারির সঙ্গে ৫০ রানের পার্টনারশিপ সেরে ফেললেন। এবার সিঙ্গলস। স্ট্রাইকে বিরাট। তারপর? ফোকসকে মিড অনে পুশ করে একটা রান ও সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৮ ইনিংসে সপ্তম শতরান। কমেন্ট্রি করতে গিয়ে একজন বললেন, গ্যালারি ভাগ্যবান। ওরা পরে বলতে পারবে আমি বিরাটকে সেঞ্চুরি করতে দেখেছি।

আরও পড়ুন-দাম্ভিক মোদি, উন্নয়নের কথা কোথায়! সিঙ্গুর থেকেও প্রতিবাদ

কিন্তু ৭১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত একসময় চাপের মধ্যে পড়েছিল। রো-কো ব্যাপারটা এই সিরিজে আধাআধি জমেছে। বিরাট রান করলেও রোহিত ঝিমিয়ে থাকলেন। রবিবার তাঁর জবাব দেওয়ার দিন ছিল। জবাব রায়ান টেন দুশখাতেকে। তিনি রোহিতের ফর্ম নিয়ে দু-চার কথা বলেছিলেন। জবাবও পেয়েছেন। রোহিতের পাঁচ শতাংশ খেলেছেন? কিন্তু অন্যের থেকে। ব্যাটটা ছিল জবাবের জন্য। রোহিত আউট হয়ে গেলেন ১১ করে। তারপর শুভমন ২৩, শ্রেয়স ৩, রাহুল ১।

জাদেজার আর একটা খারাপ দিন গেল। বল হাতে কিছু নেই। ব্যাটে ১২। বিশ্বকাপে জায়গা থাকবে? কঠিন। কিন্তু এত সমালোচনার পর নীতীশ এদিন ৫৩ রান করে গেলেন। জুটিটা বেশ জমেছিল। তবে আসল জমাটা শুরু হল হর্ষিত আসার পর। তাঁকে অলরাউন্ডার বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। রবিবার মনে হল ভুল কিছু নেই। তিনি এসে বিরাটকে পিছনে ফেলে দিলেন। ৪১ বলে হাফ সেঞ্চুরি। শেষপর্যন্ত ওই রানেই ফোকস ফেরালেন হর্ষিতকে। এটাই ম্যাচের নাটকীয় মোড়। কারণ পরের বলেই সিরাজ আউট। ম্যাচ কার্যত ওখানেই শেষ।
বিস্তর চাপ নিয়ে রবিবার মাঠে নেমেছিলেন শুভমনরা। এই চাপ ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেটে আধিপত্য রাখার জন্য। টেস্টেও এই জায়গাটা একসময় ছিল। এখন নেই। নিউজিল্যান্ড আর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দেশের মাঠে টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর এখন সবেধন হল সাদা বলের ক্রিকেট। এই জায়গাটা এতদিন ধরে রাখতে পেরেছিল ভারত। এবার গেল!

চাপ ছিল নিউজিল্যান্ডেরও (new zealand vs india)। যেহেতু তারা কখনও ভারতের মাটিতে একদিনের সিরিজ জেতেনি। শুরুতে চাপেই পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সেই চাপ কাটিয়ে দিয়ে আবার সেই ড্যারেল মিচেল সেঞ্চুরি করলেন। দলের রানকেও পৌঁছে দিলেন ৩৩৭/৮-এ। ১৩১ বলে ১৩৭ রান করেছেন মিচেল। ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার রাজকোটে সেঞ্চুরি করে ইন্দোরে আসেন। এখানেও সেঞ্চুরি। সঙ্গী গ্লেন ফিলিপসও ৮৮ বলে ১০৬ । পার্টনারশিপে ওঠে ২১৯।
শুভমন টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে আগে ব্যাট করতে দিয়েছিলেন। আর টস জেতার পর ভাল শুরুও করেন ভারতীয় সিমাররা। দুই ওভারে ৫ রানের মধ্যে তিন উইকেট চলে গিয়েছিল কিউইদের। প্রথমে হেনরি নিকোলাসকে (০) ফিরিয়ে দেন অর্শদীপ। সেটা প্রথম ওভারে। দ্বিতীয় ওভারে হর্ষিত ড্রেসিংরুমে পাঠান ডেভন কনওয়েকে (৫)।
উইল ইয়ং (৩০) আর মিচেলের ২১৯ রানের জুটিটা কিন্তু দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। ৫৩ রানও উঠেছিল। কিন্তু হর্ষিত জুটি ভেঙে দেন ইয়ংকে তুলে নিয়ে। কিন্তু সেটা হলে কী হবে মিচেল ততক্ষণে ওয়েল সেট। অদ্ভুত একটা ব্যাপার আছে মিচেলের। ভারতকে পেলেই রান করেন। আগের দিন একাই ম্যাচ বের করে নিয়েছিলেন। এদিনও ভয় ধরাতে শুরু করেন প্রথম বল থেকে।
শেষমেশ ভয়টাই সত্যি হয়ে গেল। ছোট মাঠ বলে বাড়তি স্পিনারের পরিকল্পনায় যায়নি ভারত। তবে অর্শদীপ এলেন প্রসিধ কৃষ্ণর জায়গায়। প্রসিধের বাদ পড়াটা প্রত্যাশিত ছিল। প্রাক্তনদের অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন প্রসিধ কেন? সমালোচনার মধ্যে তাঁকে বসিয়ে নিতে হল অর্শদীপকে। যেহেতু তাঁর বাইরে থাকার ব্যাপারটা ক্ষোভ ছড়াচ্ছিল প্রাক্তনদের মধ্যে।
নিউজিল্যান্ড ইনিংসে অর্শদীপ ৬৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। হর্ষিতেরও ৮৪ রানে ৩ উইকেট। এছাড়া ১টি করে উইকেট সিরাজ ও কুলদীপের। রবীন্দ্র জাদেজার খারাপ ফর্ম অব্যহত থাকল এখানেও। ৬ ওভারে ৪১ রান দিয়ে তিনি উইকেটের মুখ দেখেননি। অতএব, দুশ্চিন্তা কিন্তু থেকেই গেল বিশ্বকাপের আগে।

Latest article