পরিষেবায় একই ‘ভুল’! শাহর সাংসদক্ষেত্র গান্ধীনগরে জল খেয়ে হাসপাতালে শতাধিক

Must read

ডবল ইঞ্জিন রাজ্য হলেই সেখানে ‘সোনার’ পরিষেবা। বাংলায় নির্বাচনের দামামা বাজাতে এসে এমনটাই দাবি করেছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। পাল্টা তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, তবে কেন সোনার ত্রিপুরা, অসম, বিহার হচ্ছে না? উত্তরটা দিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ। এবার সেই একই হতশ্রী পরিষেবার উদাহরণ তুলে ধরল গুজরাটের রাজধানী গান্ধীনগর (Water_Gandhinagar)। এটাই সেই সাংসদক্ষেত্র যেখানকার সাংসদ খোদ অমিত শাহ। রাজধানী শহরে পানীয় জলের পাইপে নিকাশীর জল মিশে অসুস্থ বহু। হাসপাতালে ভর্তি করতে হল শতাধিক মানুষকে।

নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য গুজরাট। আর তার রাজধানীর ঝাঁ চকচকে চেহারা লোকসভা ভোটের আগে তুলে ধরে গোটা দেশে প্রচার চালিয়েছিলেন খোদ মোদি। রাস্তা থেকে রেল পরিষেবা, স্মার্ট সিটির পরিষেবার জয়গান শোনানো হয়েছিল। আদতে সেই প্রচার কতটা ফাঁপা প্রমাণ হয়ে গেল পানীয় জল খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায়। পরিষেবার গাফিলতি ঢাকার জন্য টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ভূপেন্দ্র প্যাটেল প্রশাসন। তবে পরিস্থিতি যে গুরুতর প্রমাণিত হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর হস্তক্ষেপে। ১০৪ জনকে সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় হাসপাতালে। পরিবারের লোকেদের থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা করতেও বাধ্য হয় গুজরাট প্রশাসন।

আরও পড়ুন- অক্সিজেনের নল নাকে SIR শুনানি কেন্দ্রে! হয়রানিতে মৃত্যু বৃদ্ধের

গান্ধীনগর অমিত শাহর নিজের সাংসদ ক্ষেত্র। আর সেখানেই জলদূষণ (Water_Gandhinagar) ছড়ানোয় কার্যত নাজেহাল গুজরাটের বিজেপি প্রশাসন। যে সব এলাকায় মানুষ বেশি আক্রান্ত সেখানে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারির পাশাপাশি ক্লোরিন ট্যাবলেট বিতরণও করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে তদন্ত। আর সেই তদন্তে দেখা গিয়েছে পানীয় জলের পাইপ অন্তত তিন জায়গায় ফেটেছে। তার ফলে দূষিত নিকাশীর জল সেই ফাঁটা জায়গা দিয়ে খাবার জলে মিশেছে। স্বাভাবিকভাবে শাহর প্রচার করা টাইফয়েডের ভাঁওতা যে ধোপে টেকেনি তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে গিয়েছে গুজরাটের বিজেপি সরকার।

আর স্বাভাবিকভাবেই এই ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে ছাড়েনি বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, একটি রাজ্য যারা শাসন ব্যবস্থায় মডেল হিসাবে নিজেদের দাবি করে, সেখানে পানীয় জলের সঙ্গে নিকাশীর জল কীভাবে মেশে? এই পাইপ লাইন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার ছিল? সাধারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়া পর্যন্ত কেন লিক মেরামতির কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হল না? কেন বিজেপি শাসিত সরকার মানুষের হাসপাতালে যাওয়া পর্যন্ত নিজেদের ভুল শোধরানোর কাজে এগিয়ে আসে না?

আদতে বিজেপির ক্ষমতায় থাকা রাজ্যগুলিতে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের কাজের খেসারত কীভাবে সাধারণ বাসিন্দাদের দিতে হয়, তা তুলে ধরে তৃণমূলের দাবি, এই অবহেলার মূল্য সাধারণ মানুষকে দিতে হয়েছে। বড় বড় দাবি ফাঁস হওয়া পাইপলাইন এবং বিষাক্ত ট্যাপগুলিকে আড়াল করতে পারে না। যখন মৌলিক শাসনব্যবস্থা ব্যর্থ হয়, তখন কোনও প্রচারই দায় এড়াতে পারে না।

Latest article