নির্বাচন কমিশন না কি অসুস্থ ও বৃদ্ধদের বাড়ি গিয়ে শুনানির ব্যবস্থা করছে। আদতে সেই পরিকল্পনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে ভোটার তালিকা তৈরি পর্যন্ত কর্মীদের এগিয়ে নিয়ে যেতে যে কতটা অসম্ভব, তা কমিশন নিজেও জানে। ফলে চুপিচুপি নিজেদের তৈরি করা নিয়ম নিজেরাই ভাঙছে। বৃদ্ধ ও অসুস্থদের সেই শুনানিকেন্দ্রে ডেকে নিয়েই শুনানিতে অংশ নিতে বাধ্য করছে কমিশন। আর সেই হয়রানি এবার মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল এক বৃদ্ধকে। হাসপাতাল থেকে শুনানিতে যোগ এসে জয়নগরের নাজিতুল মোল্লা মারা গেলেন রবিবার।
আরও পড়ুন- বিজেপির হুলিগানিজম! সুকান্তর বর্ষবরণ, সেখানেই ভাঙল সাচেত-পরম্পরার গাড়ির কাঁচ
দক্ষিণ ২৪ পরগণার জয়নগরের উত্তর ঠাকুরেরচক এলাকার বাসিন্দা নাজিতুল মোল্লা (৬৮)। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় আতঙ্কিত ছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ এই নিয়েই বেশ কয়েকদিন ধরেই চিন্তিত ছিলেন তিনি। চিন্তার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে ডায়মন্ড হারবারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই অবস্থায় ৩১ ডিসেম্বর নাজিতুলকে শুনানির জন্য হেয়ারিং সেন্টারে আসতে বলা হয়। অসুস্থ অবস্থায় নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থাতেই নাজিতুল শুনানিকেন্দ্রে হাজির হন। শুনানির পরে বাড়ি ফেরার পরই তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। এরপর ২ জানুয়ারি তাঁকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

