প্রতিবেদন: বিজেপি সরকারের ব্যর্থতা এবং জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে উদাসীনতা কতটা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে তা প্রমাণিত হল গেরুয়া মধ্যপ্রদেশেই। এই রাজ্যে পানীয় জলের তিন ভাগের এক ভাগই পানের অযোগ্য। গভীর উদ্বেগজনক এই বিষয়টি উঠে এসেছে কেন্দ্রের মোদি সরকারের রিপোর্টেই। কেন্দ্রের জলজীবন মিশন প্রকল্পের সম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় মোট পানীয় জলের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি জল মানুষের ব্যবহারের পক্ষে বিপদজনক। অথচ রোজ ওই জলই পান করছেন এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ। রিপোর্ট বলছে ওই রাজ্যের জলের নমুনা ৩৬.৭ শতাংশই পানের অযোগ্য। প্রচুর পরিমাণে ব্যাক্টেরিয়া এবং রাসায়নিক এই দূষণের কারণ। প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যের বিজেপি সরকার তাহলে করছেটা কী?
আরও পড়ুন-প্রকাশ্যে হেয় করছেন ট্রাম্প, মুখ বুজে মানছেন “বিশ্বগুরু” মোদি!
সম্প্রতি বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশে জলে বিষক্রিয়ার কারণে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর কারণ জলে বিষক্রিয়া। এই তথ্য খাস কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টে উঠে এসেছে। অথচ ভোটের আগে রাজ্যবাসী পরিশ্রুত জল সরবারাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি।আজ তা বাস্তবের মাটিতে দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ইন্দোরের মত বড় শহরে পানীয় জলে ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিক মিশে রয়েছে তা কেন্দ্রীয় রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এতে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি কোনরকম হেলদোল দেখা যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রদেশে সরকারি হাসপাতাল গুলির পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। রিপোর্ট অনুযায়ী সেখানে মাত্র ১২ শতাংশ জল পানের যোগ্য। যেখানে জাতীয় গড় ৮৩.১ শতাংশ। অর্থাৎ ৮৮ শতাংশ সরকারি হাসপাতালের পানীয় জল বিষাক্ত। কেন্দ্রীয় সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী বিষাক্ত পদার্থ ও ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত পানীয় জল অস্তিত্ব মিলেছে স্কুল গুলিতেও। রিপোর্টে ইন্দোর জেলায় ১০০ শতাংশ বাড়িতে পানীয় জলের অস্তিত্বের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মাত্র ৩৩ শতাংশ পতিবার পরিস্রুত জল পায়। বাকি পরিবার বিষাক্ত জল পান করে অসুস্থ হয়েছে। প্রসঙ্গত কিছুদিন আগে ইন্দোরের পানীয় জলে বিষক্রিয়ার কারনে মৃত্যুর ঘটনা গোটা দেশে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল শতাধিক মানুষকে। শুধুমাত্র ইন্দোর নয় ভাগীরথী পুরসভার পানীয় জলের একই বেহাল অবস্থা।

