জাতীয়

দূষণের মধ্যে খেলাধুলো করার অর্থ শিশুদের গ্যাস চেম্বারে রাখার ব্যবস্থা

নয়াদিল্লি: শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নয়া নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত। রাজধানী দিল্লিতে ক্রমশ খারাপ হতে থাকা বায়ুদূষণ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, স্কুলগুলির খেলাধুলার কার্যক্রম দূষণমুক্ত মাসগুলিতে স্থানান্তরিত করতে হবে। বুধবার আদালতের পক্ষ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দূষণের মাত্রা যখন শীর্ষে থাকে, সেই নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিশুদের বাইরে খেলাধুলা করার অনুমতি দেওয়া মানে তাদের ‘গ্যাস চেম্বারে’ ঠেলে দেওয়া। প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। অ্যামিকাস কিউরি অপর্ণা সিং আদালতকে জানান, দিল্লি সরকার ঠিক এই চরম দূষণের সময়েই ১৬ বছরের কম এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তঃ-জোনাল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুরা দূষণের প্রতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং সর্বোচ্চ দূষণের মরসুমে আউটডোর খেলাধুলার ফলে তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুন-এবার ইন্টারপোলের দ্বারস্থ ইউনুস সরকার

সুপ্রিম কোর্টের এই সাম্প্রতিক নির্দেশটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন শীর্ষ আদালত দু সপ্তাহ আগে এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিশনকে একটি হলফনামা দাখিল করতে বলেছিল, যাতে দিল্লি-এনসিআর-এ বায়ু দূষণ আরও বেড়ে যাওয়া রুখতে নেওয়া পদক্ষেপগুলির বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। আদালত আগেই সতর্কতা দিয়েছিল যে কর্তৃপক্ষকে নিষ্ক্রিয় না থেকে আগে থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে দূষণের মাত্রা ‘গুরুতর’ পর্যায়ে না পৌঁছায়। গত সপ্তাহে দিল্লিতে এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স ‘গুরুতর’ শ্রেণিতে নেমে যাওয়ায় অ্যামিকাস কিউরি গত ১২ নভেম্বরের শুনানিতে আদালতে বলেন, দূষণের মাত্রা ক্রমাগত খারাপ হওয়া সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ এবং নীতিগত প্রয়োগের জন্য বাস্তব প্রমাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বেঞ্চকে বলেন, আমি গত ২০ বছর ধরে এই বিষয়টি দেখছি। সরকার এসেছে এবং চলে গেছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কিছুই বদলায়নি। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল আদালতের কাছে সর্বশেষ দাবি করেন যে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এনসিআর জুড়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, নির্মাণ-ধুলো, যানবাহনের নির্গমন এবং অন্যান্য দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, এবং এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিশন ও সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড উভয়ই একাধিক নির্দেশ দিয়েছে। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল স্বীকার করেন যে, নীতিগতভাবে ব্যবস্থাগুলি ইতিমধ্যেই আছে, কেবল বাস্তবায়নই একটি সমস্যা। দীর্ঘমেয়াদি নীতি ২০১৮ সাল থেকে এবং গ্র্যাপ কাঠামো ২০২০ সাল থেকে বিদ্যমান থাকলেও এই পরিকল্পনাগুলো কেবল কাগুজে অস্তিত্ব নিয়েই রয়েছে, কারণ রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডগুলিতে পর্যাপ্ত কর্মী নেই এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাগুলি কর্মহীন পড়ে আছে। প্রধান বিচারপতি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী নীতির বিষয়ে সহমত পোষণ
করলেও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

Jago Bangla

Recent Posts

হাড় নিরাময়কারী আঠা

অর্থোপেডিক সার্জারির এক নতুন দিগন্ত। হাড় বা অস্থি, দেহের অন্যতম শক্ত অংশ যা আমাদের শরীরের…

1 minute ago

স্মৃতিদের পাঁচে পাঁচ

বরোদা, ১৯ জানুয়ারি : ডব্লুপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর স্বপ্নের দৌড় অব্যাহত। সোমবার গুজরাট জায়ান্টসকে ৬১…

37 minutes ago

দিনের কবিতা

‘জাগোবাংলা’য় (Jago Bangla) শুরু হয়েছে নতুন সিরিজ— ‘দিনের কবিতা’ (poem of the day)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের…

46 minutes ago

মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবারে সেবাশ্রয়-২ পরিদর্শনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

মানুষের ছোট ছোট অসুবিধাগুলিকে দূর করে তাদের জীবন সহজ করা। সেবার মধ্যে দিয়ে কঠিন বাধা…

1 hour ago

সত্যিই আসন্ন মোদির বিদায়বেলা? বয়স নিয়ে খোঁচা গড়করির

নাগপুর : এবারে কি সত্যিই ঘনিয়ে এল মোদির বিদায়বেলা? দলের অন্দর থেকেই সুস্পষ্ট বার্তা, অনেক…

11 hours ago

জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই, কিশতওয়ারে শহিদ জওয়ান

শ্রীনগর : সেনাবাহিনীর (Indian Army) সঙ্গে কিশতওয়ারের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের গুলির লড়াই শুরু হয়েছিল…

11 hours ago