বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইডির তল্লাশি শুরু হয়েছে আইপ্যাক (IPAC) দফতরে। সকাল ৬টা থেকে ৯ ঘণ্টা ধরে চলছে তল্লাশি। এদিন দুপুর ৩টে নাগাদ প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান ইডি আধিকারিকরা। এরপরই প্রতীক জৈনের স্ত্রী শেক্সপিয়র সরণি থানায় ইডির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরিবারের তরফে অভিযোগ, তাঁদের বাড়ি থেকে জরুরি নথি চুরি করেছে ইডি। ইডি অফিসারেরা বেরিয়ে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান প্রতীক জৈন। কালো কাঁচে ঢাকা গাড়ির ভিতর পর্দা লাগানো ছিল। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বেরিয়েছেন তিনি এবং গিয়েছেন আই-প্যাকের অফিসে। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সল্টলেকের অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক পরই তাঁরা সেখান উপস্থিত হন। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সেখানে তিনি কেন গেলেন সেটা যদিও জানা যায় নি। আইপ্যাকের দফতরে ইডির হানা এবং তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আরও পড়ুন-১৫টির বেশি রাজ্যে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা
প্রসঙ্গত, প্রতীক জৈন রাজ্য রাজনীতিতে ‘মেঘনাদে’র ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল তৈরি থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত সবেতেই তাঁর সংস্থার অবদান রয়েছে। বৃহস্পতিবারের পর যদিও তিনি রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা প্রতীক আইআইটি বম্বে থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং করেন। ২০০৮ সালে বম্বের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল সায়েন্স নিয়ে বি.টেক করেছেন। কিছুদিন অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে ইন্টার্নশিপ করে ২০১২ সালে তথ্য ও প্রযুক্তি সংস্থা ডেলয়েটে কাজ শুরু করেন তিনি।
আরও পড়ুন-পরিযায়ী শ্রমিকদের আশ্বাস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, চালু হেল্প লাইন
২০১৩ সালে গুজরাতে সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন তিনি। প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় সেই থেকেই। প্রশান্ত কিশোরকে সামনে রেখেই ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আইপ্যাক তৈরি করেছিলেন প্রতীক। ২০১৫ থেকে প্রতীকের সংস্থা আই-প্যাক বিভিন্ন রাজ্যে যেমন বিহার, দিল্লি, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং বাংলাতে ভোটকুশলী হিসাবে কাজ করছে।

