দিল্লিতেও প্রতিবাদ

দেশের গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ধ্বংসকারী মোদি সরকার ‘পোষা’ এজেন্সি ‘ইডি’কে ব্যবহার করে তৃণমূলের ভোট-স্ট্র্যাটেজি লুঠ করেছে বৃহস্পতিবার।

Must read

প্রতিবেদন : দেশের গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ধ্বংসকারী মোদি সরকার ‘পোষা’ এজেন্সি ‘ইডি’কে ব্যবহার করে তৃণমূলের ভোট-স্ট্র্যাটেজি লুঠ করেছে বৃহস্পতিবার। পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দিল্লির দফতরের সামনে ধরনায় বসেন তৃণমূলের আটজন সাংসদ। সাড়ে চার ডিগ্রির হাড়হিম করা ঠান্ডায় রাজধানীর বুকে চলছিল শান্তিপূর্ণ ধরনা। সেই ধরনায় ন্যক্কারজনক হামলা চালাল দিল্লির পুলিশ। বিজেপির এই ঔদ্ধত্যের প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, আমাদের সংসদ সদস্যদের প্রতি যে লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ করা হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। নিন্দায় সরব হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি লেখেন, এই বিজেপি দেশের লজ্জা! সর্বশক্তি দিয়ে তোমাদের হারাবে বাংলা।

আরও পড়ুন-দিনের কবিতা

এদিন দিল্লিতে ধরনায় বসেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, লোকসভার ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায়, সাংসদ বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, প্রতিমা মণ্ডল, কীর্তি আজাদ, সাকেত গোখেল এবং মহুয়া মৈত্র। প্রশ্ন তুলছিলেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সির অনৈতিক আচরণ নিয়ে। দাবি তুলেছিলেন, গণতন্ত্র হত্যা বন্ধ করো, ইডির অপব্যবহার বন্ধ করো। অমিত শাহ লজ্জা, লজ্জা, শরম করো, শরম করো, স্লোগান দেন তাঁরা। তাঁদের হাতে ছিল পোস্টার। সেখানে লেখা— মোদি-শাহর নোংরা কৌশল প্রত্যাখান করেছে বাংলা। শান্তিপূর্ণ এই ধরনাতেও স্বৈরাচারী আচরণ দেখিয়ে বাধা দেয় দিল্লি পুলিশ৷ বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষস্তরের নির্দেশে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করেন তাঁরা। চ্যাংদোলা করে টেনে-হিঁচড়ে তোলা হয় বাসে। মহিলা সাংসদদের সঙ্গে কদর্য ব্যবহার করা হয়। প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন সাংসদরা। রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। সাংসদদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে ধরনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয় পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়। বসিয়ে রাখা হয় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। কেন তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে, প্রতিবাদে সোচ্চার হন সাংসদরা। এরপর দুপুর সওয়া তিনটে নাগাদ তাঁদের ছাড়া হয় থানা থেকে৷
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, আমাদের সংসদ সদস্যদের প্রতি যে লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ করা হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। সাংসদদের রাস্তায় টেনে-হিঁচড়ে যে ঘটানো হল, তা আইন প্রয়োগ নয়। বরং এটি উর্দি পরা ঔদ্ধত্য। মনে রাখবেন, এটি একটি গণতন্ত্র বিজেপির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। যখন বিজেপি নেতারা প্রতিবাদ করেন, তখন তারা লাল গালিচা ও বিশেষ সুবিধা আশা করেন। আর যখন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আওয়াজ তোলেন, তখন তাঁদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করার জন্য টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, আটক করা হয় এবং অপমান করা হয়। এই দ্বৈত নীতি বিজেপির গণতন্ত্রের ধারণাকেই ভূলুণ্ঠিত করে দেয়।
অভিষেক লেখেন, বিজেপির শাসনে গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হয়। আর অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হয়। এজেন্সিগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচনে কারচুপি করা হয়। প্রতিবাদ জানালে বিক্ষোভকারীদের জেলে ঢোকানো হয়। কিন্তু জামিন দেওয়া হয় ধর্ষকদের। এটাই হল বিজেপির নতুন ভারতের রূপ। অভিষেকের সাফ কথা, বিজেপির এই অপশাসনে দেশের বাকি অংশকে যদি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্যও করা হয়, বাংলা প্রতিরোধ করবে। বিজেপি শুনে রাখো, আমরা সর্বশক্তি দিয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব এবং তোমাদের পরাজিত করব। তোমরা যতই শক্তি প্রয়োগ করো না কেন তোমরা হারবেই, আবার জিতবে বাংলা।

Latest article