প্রতিবেদন : র্যাঙ্ক জাম্প ১২১২। ওএমআরে অসঙ্গতি ৪০৯১ জনের। সাকুল্যে ৫৩০৩ জনকে নিয়ে সমস্যা। তাহলে বাকি ২০,৪৫০ জনের চাকরি গেল কেন? দোষ না করেই কেন চাকরি হারাতে হল এতজন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের! কেন? এর দায় কি এড়াতে পারে সিবিআই? তারা এতদিন নিয়োগ মামলায় তদন্ত করেছে কীসের জন্য? যদি যোগ্যদের সুবিচারই না দিতে পারে? সিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্টকে তো পাত্তাই দেওয়া হল না। কার্যত সিবিআই তদন্ত রিপোর্টকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে ২৫৭৫৩ জনের চাকরি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ২৫,৭৫২ জনের চাকরি। যোগ্য ও অযোগ্য সবাই বাতিল!
কিন্তু কেন যোগ্য ও অযোগ্য আলাদা করা গেল না? সিবিআই যেমন এই দায় এড়াতে পারে না, তেমনই ওএমআর শিট নিয়েও যে রহস্য রয়ে গিয়েছে, তার কিনারাও করতে পারেনি সিবিআই। ওএমআর শিটের দায়িত্বে থাকা গাজিয়াবাদের কোম্পানি নাইসার কর্মী পঙ্কজ বনশলকে কেন সামনে আনা হল না, তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল। নিয়োগ মামলার তদন্ত করছিল সিবিআই। সেই সিবিআই তদন্তকে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম-রায়ে। শিক্ষক নিয়োগে কিছু অনিয়ম সামনে এসেছিল। তা নিয়ে মামলা করেন কয়েকজন। সেই মোতাবেক তদন্ত শুরু হয়। তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের কাঁধে। সিবিআইয়ের তদন্তেই উঠে আসে ১২১২ জনের র্যাঙ্ক-জাম্প হয়েছে, অর্থাৎ তালিকায় দূরবর্তী স্থানে থাকা প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দিয়ে চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছে। আর ৪০৯১ জনের ওএমআর শিটে গন্ডগোল দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ ওএমআর শিট মিস ম্যাচ করছে। তাঁদের প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে ওএমআরশিটের মিল নেই। এই রিপোর্ট কে দিয়েছে? সিবিআই দিয়েছে। স্বভাবতই ধরে নিতে হবে এসএসসি এবং ওএমআর শিট তৈরির দায়িত্বে থাকা কোম্পানি নাইসার সঙ্গে কথা বলেই এই তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে সিবিআই। কিন্তু সেই রিপোর্টকে কোনও গুরুত্বই দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআই রিপোর্টকে উপেক্ষা করেই ঘোষিত হয়েছে রায়।
আরও পড়ুন-চক্রান্ত! কে এই ইউপিবাসী পঙ্কজ বনশল? বাংলায় সংকট তৈরির পরিকল্পিত চিত্রনাট্য
উল্লেখ্য, ওএমআর শিট এক বছর রাখতে হয়। তারপর তা নষ্ট করে দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশ হয় ২০১৮ সালের ১২ মার্চ। ২০১৯ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়। আর অনিয়ম অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২১ সালে। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি কর্মী, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম। কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় একাধিক মামলা। একটি মামলায় প্রথম সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এরপরও অন্যান্য মামলাতেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শুরুর পর যতরকমভাবে তথ্য দেওয়া সম্ভব দিয়েছে এসএসসি। এরপর হাইকোর্টে সিঙ্গল বেঞ্চ থেকে ডিভিশন বেঞ্চ। তারপর সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষিপ্ত ভাবে একাধিক মামলা দায়ের হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কলকাতা হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল ২৮২ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করে। তারপর সেই মামলা চলে যায় সুপ্রিম কোর্টে। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় স্থগিতাদেশ দিলেও শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বে নতুন বেঞ্চ ২৫৭৫২ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ বহাল রাখে।