নারী-বিদ্বেষী বিজেপি: মহুয়াকে কু-কথা সোচ্চার তৃণমূল

Must read

প্রতিবেদন : বিজেপি (shame on BJP) যে চূড়ান্ত নারী-বিদ্বেষী তা ফের একবার প্রমাণ হল। নইলে একজন মহিলা সাংসদকে এতটা কদর্য ভাষায় আক্রমণ শানাতে পারে! বিজেপি নেতা রমেশ বিধুরী যে ভাষা ব্যবহার করেছেন সেটাকে চূড়ান্ত অশোভন, নোংরা, অশ্লীল, কদর্য বললেও কম বলা হয়। প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে তৃণমূল। তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপির এই নারী-বিদ্বেষ তো আর নতুন নয়! এটাই ওদের আসল ভাষা। বিজেপির উপরমহলে যাঁরা বসে আছেন, তাঁদের কি সাহস আছে, রমেশ বিধুরীর মতো নেতাদের নিন্দা করার? নেই। কারণ দলটাই অসভ্য! এদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অসভ্যতা। মহিলাদের সম্পর্কে কু-কথা বিজেপির সংস্কৃতিরই অঙ্গ। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই এই পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি বাংলায় এসে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারবার সুর করে ‘দিদি’ বলেছিলেন, তা ছিল শ্রুতিকটূ। তাঁরই দেখানো পথে রমেশ বিধুরী যে চলবেন তা বলাই বাহুল্য। মহিলা সাংসদের প্রতি বিজেপি সাংসদের করা কটূক্তি নারী-বিদ্বেষী, ঘৃণামূলক ও নর্দমার রুচিসম্পন্ন।

আরও পড়ুন- ভাষাসন্ত্রাসের প্রতিবাদে গর্জে উঠল তৃণমূল কিষাণ-খেতমজদুর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে মহুয়া মৈত্র যে বক্তব্য রেখেছিলেন তার ব্যাকরণগত ত্রুটি নিয়ে ব্যাখ্যা আগেই দেওয়া হয়েছে দলের তরফে। তা সত্ত্বেও কু-কথার রাজনীতি থেকে সরে আসতে পারল না বিজেপি। মুখে না আনার ভাষায় মহুয়াকে আক্রমণ শানাল। তৃণমূলের প্রশ্ন, বিজেপি কি এর জন্য শাস্তি দেবে সাংসদকে? নাকি এটাও সেই অমিত শাহর বসিয়ে রাখা অপরিশোধিত মুখপাত্র? শনিবার উলুবেড়িয়ায় হাওড়া গ্রামীণ মহিলা তৃণমূলের এক কর্মিসভায় এসে সাংবাদিক বৈঠকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বিজেপি (shame on BJP) শুধু মহিলাদের অপমান করে। বিন্দুমাত্র সম্মান দেয় না। মহিলাদের কদর্য ভাষায় আক্রমণ করার পরও বিজেপিতে তাদের কোনও শাস্তি হয় না। উল্টে দলে এদের গুরুত্ব বাড়ে। বিজেপি এদের শাস্তি না দিলেও মহিলাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা এমন মন্তব্যকারীদের দলকে যোগ্য শাস্তি দেবেন বাংলার মানুষ। এদিন চন্দ্রিমা আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যে সম্মান প্রদর্শন করেছেন তা দেশের কোনও দলই দেয়নি। এই জন্য মহিলারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবসময় সমর্থন করেছেন। তাঁর পাশে থেকেছেন। এদিনের সভায় মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ছাড়াও দুই বিধায়ক বিদেশ বসু, ডাঃ নির্মল মাজি, হাওড়া গ্রামীণের মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী কাকলি সিংহ, হাওড়া জেলা (গ্রামীণ) যুব তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যরা। এদিন হাওড়া সদর মহিলা তৃণমূলের উদ্যোগে উত্তর হাওড়ায় এক কর্মিসভা হয়। সেখানেও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এছাড়াও ছিলেন হাওড়া সদর তৃণমূলের সভাপতি ও বিধায়ক গৌতম চৌধুরি, হাওড়া সদর মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী ও বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরি, হাওড়া সদর আইএনটিটিইউসির সভাপতি অরবিন্দ দাস প্রমুখ।

Latest article