SIR! SIR!! আর নেই দরকার

ইডি হোক বা ইসি, বিজেপির পোষ্য সরমেয়গুলোর অবস্থা দেখে হাসিও পায়, কষ্টও লাগে। বেচারারা বুঝতেই পারছে, যতই করুক হামলা, জিতবে আবার বাংলা। লিখছেন আকসা আসিফ

Must read

এসআইআরের (SIR) মাধ্যমে এক কোটি রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দিয়ে সাফসুতরো ভোটার তালিকা বানানোর ‘শপথ’ নেওয়া পদ্মপার্টি এখন বেশ বেকায়দায়।
কোথায় রোহিঙ্গা?
আর কোথায়ই বা ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের আধিক্য?
উল্টে এসআইআর (SIR) পর্বে এখনও পর্যন্ত যত সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাতে বেকায়দায় বিজেপি। আর তাই ‘মহারাষ্ট্র-দিল্লি মডেলে’ ভিন রাজ্যের মানুষকে বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়ে পালে হাওয়া তোলার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে রাজ্যের শিল্পাঞ্চল এলাকা আসানসোল-দুর্গাপুর, বারাকপুর এবং হুগলির বিভিন্ন কেন্দ্রে যেখানে বড় সংখ্যক হিন্দিভাষী মানুষ রয়েছেন, সেখানেই এই ছক রূপায়ণে জোর দেওয়া হয়েছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ এমনকী হরিয়ানার বাসিন্দাদের ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করিয়ে জমা দিচ্ছে পদ্মপার্টি। আর এরমধ্যে কোনও ‘অন্যায়’ দেখছে না বিজেপি।
দেখবে কেন?
গত ১১ জানুয়ারি বিজেপির দলীয় স্তরে একটা নির্দেশ জারি করেছে, যাতে বলা হয়েছে, সমস্ত সভা, সমিতি এবং পদযাত্রা বাতিল করে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে ৬ নম্বর এবং ৭ নম্বর ফর্ম নিয়ে। তা পূরণ করতে হবে। আর সঙ্গে সঙ্গে জমাও দিতে হবে।
ফন্দিটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। ভ্যানিশ কুমারের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী ছিল ১৫ জানুয়ারি। তাই, মরিয়া গেরুয়া শিবির নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ‘বিরোধী’ ভোটারের নাম বাদ দিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এর সঙ্গে আছে, ৮ নম্বরি দু’নম্বরি। অর্থাৎ, ৮ নম্বর ফার্মের অপব্যবহার। হরিয়ানায় ভোট দিয়ে কোনও ‘বহিরাগত’ যদি বাংলাতেও ইভিএমের সামনে দাঁড়াতে চান, তাহলে স্থানান্তরিত ভোটার হিসাবে তাঁকে এই ফর্ম পূরণ করতে হবে।
স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বহিরাগত’দের বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ এনেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। সেটা করেছেন ওই ৮ নম্বর ফর্ম পূরণের হিড়িক দেখে।
সোজা কথায়, ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে, এখানে মহারাষ্ট্র-দিল্লি মডেলের কায়দায় ভোট চুরি করতে চাইছে বিজেপি। অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ভ্যানিশ কুমারের কমিশন সে দাবিতে কর্ণপাত করবে না।
করবে কী করে? নির্বাচন কমিশন তো বিজেপির বিএলএ-র ভূমিকা পালন করতে নেমেছে।
যত দূর জানা গিয়েছে, বাংলায় এসআইআর (SIR) ঘোষণার দিন যখন ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়, তখন পর্যন্ত নতুন ভোটারের আবেদন বকেয়া ছিল ৩ লক্ষ ৩১ হাজার ৭৫টি। ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর গত বুধবার পর্যন্ত বাংলায় ভোটার হতে আরও ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ১৬৩টি আবেদন জমা পড়েছে। এক মাসে। কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই, এই আবেদনের একটা বড় সংখ্যা ভিন রাজ্যের। গত কয়েক বছরে যেখানে নতুন ভোটারের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে, সেখানে এক মাসে এই লাফ দিয়ে বৃদ্ধি মোটেই ভোটার তালিকা সংশোধনের ইঙ্গিত নয়। বরং ভোটার তালিকায় বেনো জল ঢোকানোর চেষ্টা।
এর মধ্যেই এই এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় মৃত্যুমিছিল ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে।

আরও পড়ুন-৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফার্স্ট স্ট্যাটিউট’ কার্যকর

গতকালই সামশেরগঞ্জ থানার রামেশ্বপুর নামোচাচন্ড গ্রামের পুটু শেখ, বয়স ৬০ বছর, এসআইআর-এর কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। ভোটার তালিকায় বৃদ্ধ পুটু শেখের নামের বানান ভুল ছিল। পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে এসেছে এসআইআরে শুনানির নোটিশ। যে কারণে পরিবারের সকলেই শুনানিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। বৃদ্ধ ঘরে একাকী ছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম ভুল থাকায় আতঙ্কে ছিলেন বৃদ্ধ। এর মধ্যে বাড়িতে অন্যদের নামে এসআইআর নোটিশ আসে। সেই আতঙ্কে তাঁর মৃত্যু হয়।
এরকম ঘটনা অহরহ হয়ে চলেছে। বিজেপির দালাল কমিশন নির্বিকার।
বিজেপির কথায় চলতে গিয়ে রোজ নিজেদের নির্দেশ নিজেরাই খারিজ করে দিচ্ছে ভ্যানিশ কুমারের অসার কমিশন। ক্ষণে ক্ষণে নতুন নির্দেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন খোদ BLO-রা। এই নিবন্ধটি যখন লেখা হচ্ছে, তখনই কমিশনের নয়া নির্দেশিকা সামনে এল। SIR-এর তথ্য হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গণ্য হবে না বলে জানিয়ে দিল তারা। এতদিন অনেকেই নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন। হঠাৎ করে সেই অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে গৃহীত হবে না বলায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইডি লেলিয়ে দিয়েছিল এদের সকলের প্রভু, মো – শা সরকার। নিজের তৈরি করা দলের আগামী নির্বাচনে রণকৌশল হাতাতে আইপ্যাকের কলকাতার অফিসে হানা দেয় সারমেয় বাহিনী।
রায়বাঘিনি নেত্রী ঝাঁপিয়ে পড়ায় ল্যাজ গুটিয়ে কেটে পড়ে। তারপর তাই নিয়ে ওদেরই করা মামলায় বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে ল্যাজে গোবরে।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে ইডির আইনজীবী বলেন, ভাবতে পারবেন না, কলকাতা হাইকোর্টে জাস্টিস শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এ নিয়ে মামলা চলার সময় কী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়! বারবার মাইক্রোফোন মিউট করে দেওয়া হচ্ছিল। জাস্টিস মিশ্র সাফ বলে দেন, তাতে কিছু প্রমাণ হয় না। কারণ, মাইক্রোফোন নিয়ন্ত্রণ আদালতের নিজস্ব দায়িত্ব। সেটা এজলাসে উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা করতে পারেন না। এর পর উল্টে জাস্টিস মিশ্র ইডির কাছে জানতে চান, সেদিন কী উদ্দেশ্যে তারা আইপ্যাকের অফিসে হানা দিয়েছিল? কোন তদন্তের ভিত্তিতে তাদের ওই হানা?
ইডি কিন্তু এই প্রশ্নের কোনও জবাব দিতে পারেনি। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী-তালিকা নিয়ে সটকে পড়ার জন্যই যে তারা সেদিন লাউডন স্ট্রিট ও গোদরেজ ওয়াটার সাইডে হানা দিয়েছিল, সেকথা ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরে, প্রশ্নটা এড়িয়ে গিয়ে শুধু বলেছে, ‘আমরা এসআইআর-এর নথি নিতে যাইনি।’
‘ঠাকুর ঘরে কে? আমি তো কলা খাইনি’, কেস আর কী!
এদের অবস্থা দেখে হাসিও পায়, কষ্টও লাগে। বেচারারা বুঝতেই পারছে, যতই করুক হামলা, জিতবে আবার বাংলা।

Latest article