এবার রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chottopadhyay) নিশানায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। দু’দিন আগে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল রাজ্যপালরা ঝুলিয়ে রাখতে পারেন না। শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরে নবান্নের তরফে বিল আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রাজ্যপাল জানিয়েছেন, বেশ কিছু বিলে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার, এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
সাফ বলেছেন, সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের ডেকে পাঠানো বা তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করার অধিকার সংবিধান রাজ্যপালকে দেয়নি। তিনি আরও জানিয়েছেন,”সংবিধানে পরিষ্কার করে লেখা রয়েছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও বিল আটকে রেখে দেওয়ার ক্ষমতা রাজ্যপালের নেই।” মন্ত্রীর কথায়,”বিল সংক্রান্ত আইনগত বিষয় থাকলে রাজ্যপাল চিঠি লিখে সরকারকে জানিয়ে দেবেন। তিনি ডেকে পাঠাবেন, আলোচনা করবেন এ রকম কথা বলা নেই। আমি অনেক বার সংবিধান পড়েছি। কিন্তু বিল পাশ করে দিতে বাধ্য থাকবেন। একান্ত না হলে রাষ্ট্রপতিকে পাঠাতে পারেন।”
আরও পড়ুন- বাংলায় একশো দিনের টাকা বন্ধ কেন? জানতে চাইল হাইকোর্ট
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ে (Sovandeb Chottopadhyay) ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান, রাজ্যপাল ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করছেন। রাজ্যপালের কাছে একের পর এক বিল আটকে রয়েছে। রাজ্যপালের পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। জানিয়েছেন, “বিভিন্ন বিধানসভায় একাধিকবার কথা উঠছে, এই রাজ্যপাল পদটির দরকার নেই। সুপ্রিম কোর্ট সঠিক রায় দিয়েছে। সব রাজ্যপালের তা মানা উচিত। এই রাজ্যপালের কোনও প্রতিক্রিয়া দেখিনি।”
২০১৬ থেকে ২০২৫ সালে বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলের মধ্যে এমন ২৩টি বিল রয়েছে, যেগুলিতে সম্মতি দেননি রাজ্যপাল। এগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিল যেমন, অপরাজিতা বিল, গণপিটুনি বিলও রয়েছে।