রাজ্যে ফের নিপা (Nipah) ভাইরাসের আতঙ্ক। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। দু’জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। বর্তমানে ভেন্টিলেশনে রেখে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় নিপা ভাইরাসের ইঙ্গিত মেলায় নিশ্চিতকরণের জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে পুণের ল্যাবে।
আরও পড়ুন-৭ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার নামে ইআরও অফিস ভাঙচুর বিজেপির
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৎপর রাজ্য প্রশাসন। স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। কীভাবে সংক্রমণ ছড়াল এবং আক্রান্তরা গত কয়েক দিনে কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং। সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা সকলকে কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে ১০টি এমার্জেন্সি শয্যা এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ৬৮টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
আরও পড়ুন-খনিতে ধস নেমে মৃত ৩, আশঙ্কা আটকে একাধিক
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দুই নার্স কিছুদিন আগে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে কার কার সংস্পর্শে তাঁরা এসেছিলেন, তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম জানান, এখনও পর্যন্ত ৪৮ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের ওপর নজরদারি চলছে। গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য স্বাস্থ্য ভবন একটি বিশেষ দল গঠন করেছে। নিপা মোকাবিলায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। বিষয়টি সরাসরি নজরে রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন-দিনমজুরের মৃত্যু, ধিক্কার জানিয়ে মিছিল, অবস্থান
রাজ্য সরকারের তরফে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরামর্শ ও সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বরও। চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাসের প্রধান উৎস ফলখেকো বাদুড়। বাদুড়ের আধখাওয়া ফল বা দূষিত খাবারের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পেটের সমস্যা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই দ্রুত চিকিৎসা ও সর্বোচ্চ সতর্কতাই একমাত্র রক্ষা কবচ বলে মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

