প্রতিবেদন : রাজ্যে ট্রাফিক নজরদারি আরও কড়া করতে দু’টি পৃথক প্রকল্পে প্রায় দশ কোটি টাকা বিনিয়োগের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুলিশ। একদিকে রাজ্য পুলিশের ট্রাফিক ও রোড সেফটি শাখা রাজ্য জুড়ে ট্রাফিক কর্মীদের জন্য বডি–ওয়ার্ন ক্যামেরা কিনতে চলেছে, অন্যদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে সিগন্যাল ভাঙার প্রবণতা রুখতে অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
আরও পড়ুন-দিলীপের খুব মন্ত্রিত্বের শখ! তীব্র কটাক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ট্রাফিক ও রোড সেফটি শাখা মোট আট হাজারের বেশি বডি–ওয়ার্ন ক্যামেরা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রকল্পে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি ও বাৎসরিক রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবাও অন্তর্ভুক্ত থাকছে। পুরো প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। ট্রাফিক ডিউটির সময় কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কথোপকথন, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি অডিও–ভিজুয়াল মাধ্যমে নথিভুক্ত করতেই এই ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত। এই উদ্যোগের ফলে ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা কমবে এবং বিতর্ক বা আইনভঙ্গ সংক্রান্ত মামলায় প্রমাণ জোগাড় করা সহজ হবে। ক্যামেরাগুলিতে সাধারণ ছবি তোলার পাশাপাশি উন্নত মানের ভিডিও এবং ইনফ্রারেড প্রযুক্তি থাকবে। যার মাধ্যমে রাতেও রেকর্ড করার সুবিধা হবে। অন্তত আট ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ, হালকা ওজন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় ব্যবহারযোগ্য হওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-শেয়ার বাজারের ৭,৬০৫ কোটি টাকা সরাল বিদেশি বিনিয়োগকারীরা, নতুন বছরের শুরুতেই ধস
অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশ এলাকায় সিগন্যাল ভাঙা গাড়িকে সরাসরি শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। শহরের কুড়িটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এই প্রকল্পের আওতায় আসছে। আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা। প্রতিটি মোড়ে উচ্চ রেজোলিউশনের ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি বসানো হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সিগন্যাল ভাঙার পাশাপাশি হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো, একাধিক যাত্রী নিয়ে দু’চাকার যান চালানো এবং রং সাইডে গাড়ি চালানোর মতো অপরাধও ধরা পড়বে। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে সময়, তারিখ ও অবস্থান-সহ ছবি ও ভিডিও তৈরি হবে। সেই তথ্য সঙ্গে সঙ্গে লালবাজারের কেন্দ্রীয় ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হবে। দিন–রাত এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলেই জানানো হয়েছে।

