প্রতিবেদন : শুনানির নামে নিষ্ঠুর কমিশনের ষড়যন্ত্রে বাংলার সাধারণ মানুষ থেকে বিশিষ্টদের হেনস্থা-হয়রানি অব্যাহত। ছাড় পাচ্ছেন না ষাটোর্ধ্ব থেকে শতায়ু প্রবীণরাও। দেশের নাম উজ্জ্বল করা বিশিষ্টরাও ডাক পাচ্ছেন এসআইআরের হিয়ারিংয়ে (SIR Hearing)। সাংসদ-বিধায়কদের মতো জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি দেশের হয়ে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন থেকে জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লা কিংবা মোহনবাগান রত্ন টুটু বোস, শুনানির ডাকে বাদ যাচ্ছেন না কেউই। গ্রামে-গ্রামে বাসিন্দাদের হেনস্থা করতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে সিংহভাগ গ্রামবাসীকেই। চূড়ান্ত অসুস্থতাকেও উপেক্ষা করে হাসপাতালের বেড থেকে অক্সিজেনের সিলিন্ডার হাতে শুনানিতে ছুটতে হচ্ছে। আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন বহু, অসুস্থও অনেক। বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে দলদাস নির্বাচন কমিশনের অপরিকল্পিত এসআইআরের নামে এই চূড়ান্ত হেনস্থা-হয়রানির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে বাংলার নাগরিক সমাজ। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে এই নিয়ে ডেপুটেশন জমা দিল বাংলা একতা মঞ্চ। সিইও-র কাছে সংগঠনের সাফ দাবি, এসআইআর পদ্ধতি আরও মানবিক হোক! বাংলার মানুষকে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় কারণে অপমান না করে যথাযথ সময় নিয়ে সবকিছু বিবেচনা করা হোক। শুনানিতে আসা মানুষের থেকে নথি নিয়ে কোনও রিসিভড কপি দিচ্ছে না কমিশন। পরবর্তীতে কারও নাম বাদ গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে সঠিক নথি দেয়নি, সেটা কীভাবে প্রমাণ করা সম্ভব— কমিশনের কাছে এই প্রশ্নও জানতে চেয়েছে বাংলা একতা মঞ্চ। সিইও-র কাছে দরিদ্র প্রান্তিক মানুষ থেকে সমাজের বিখ্যাত মানুষদের হয়রানি কিংবা ট্রান্সজেন্ডার ও যৌনকর্মীদের অসুবিধার কথাও তুলে ধরেছে নাগরিক মঞ্চ। বাংলা একতা মঞ্চের তরফে সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে ডেপুটেশন জমা দেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, তন্ময় ঘোষ, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, অভিষেক রায়, অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, তাড়াহুড়ো করে এসআইআরের (SIR Hearing) নামে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসআইআরের সঙ্গে নাগরিকত্ব জুড়ে দিয়ে আরও বড় বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-‘অন্যায় ভাবে নাম কাটলে রুখে দাঁড়ান’ — এসআইআর নিয়ে নবান্নে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

