SIR শুনানি আতঙ্কে আত্মঘাতী: চার মৃত্যু রাজ্যে

শুনানির নামে যে পরিমান হয়রানি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election commission), তাতে কমিশনের আসল খেলা প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে অনেক আগেই।

Must read

শুনানির নামে যে পরিমান হয়রানি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election commission), তাতে কমিশনের আসল খেলা প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু যেভাবে ভোটার তালিকা থেকে বিজেপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলার মানুষের নাম বাদ দেওয়ার খেলা খেলছে নির্বাচন কমিশন, তার জেরে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত বাংলায়। এবার এসআইআর আতঙ্কে সুইসাইড নোট লিখে আত্মঘাতী নদিয়ার করিমপুরের এক ব্যক্তি। পাশাপাশি বীরভূমের রামপুরহাটেও এক যুবকের আত্মহত্যার অভিযোগ এই আতঙ্কে।

আরও পড়ুন-মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য এসআই ও বিএলওদের ছাড় চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি

নদিয়ার করিমপুরের বাসিন্দা সিজুর খান এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন শুনানি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন। তার স্ত্রী পারভিন বিবি এসআইআর নোটিশ সংক্রান্ত সমস্যায় ছিলেন। তাঁর এপিক কার্ড ও আধার কার্ডের জন্ম তারিখ দু’রকম ছিল। ফলে এসআইআর শুনানিতে তাঁর ডাক পড়েছিল। কিন্তু তাতেও কোন সুরাহা হয়নি। তা নিয়েই আতঙ্কে ছিলেন স্বামী ফিজুর খান। এরপর সোমবার সকালে তাঁর গলায় ফাঁস লাগানো দেহ উদ্ধার হয়। সেই সঙ্গে উদ্ধার হয়ে একটি সুইসাইড নোট যেখানে তিনি এই শুনানির আতঙ্কের কথাই বলে গিয়েছেন। সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে করিমপুর থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন-প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে বাড়তি সতর্কতা লালবাজারের

অন্যদিকে এসআইআর শুনানির নোটিশ পাওয়ার পরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা বীরভূমের রামপুরহাটে। পুরসভা এলাকার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জনি শেখের দেহ গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হয় সোমবার সকালে। ওই ওয়ার্ডের ১৭৩ জনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি তাদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। আর সেই শুনানির নোটিশ পাওয়ার পরই আত্মঘাতী জনি, পরিবারের অভিযোগ। রেল কলোনি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তাঁরা। কিন্তু বাসস্থানের কাগজে সমস্যা ছিল জনির। সেই আতঙ্কেই আত্মঘাতী হন তিনি, দাবি পরিবারের।

আরও পড়ুন-অসুস্থ বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়, ভর্তি বেসরকারি হাসপাতালে

এই দুটি ঘটনার পাশাপাশি রাজ্যে আরও দুই জায়গায় দুই মৃত্যুতে এসআইআর-এর শুনানিকে দায়ী করেছে তাঁদের পরিবার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে মৃত্যু হয়েছে ছোয়েদ শেখ নামে এক বৃদ্ধের। তার ছেলে আব্দুর রহমান পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। এসআইআর শুনানিতে তাঁর ডাক পড়েছিল। কিন্তু ভিন রাজ্য থেকে আসতে পারবেন না আব্দুর রহমান। তবে কি তার নাম কাটা যাবে, সেই আতঙ্কেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ছোয়েদ শেখের, এমনটাই দাবি পরিবারের।

অন্যদিকে নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সামির আলি শেখ নামে এক বৃদ্ধের। পরিবারের দাবি, এই মৃত্যুর জন্যও এসআইআর শুনানির আতঙ্কই দায়ী। ৫ সন্তানের বাবা সামির আলি। তাঁর পাঁচ সন্তানের নামেই শুনানির নোটিশ এসেছিল। সেই থেকে দুশ্চিন্তায় ছিলেন এবং এরপর তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

Latest article