স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন সুস্মিতা, অসমে বাঙালি হিন্দুদের ঠকিয়েছে বিজেপি

Must read

প্রতিবেদন: বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে সংসদে গর্জে উঠল তৃণমূল। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স বিল ২০২৫-এর উপর বিতর্কে অংশ নিয়ে বুধবার রাজ্যসভায় মোদি সরকারকে রীতিমতো কোণঠাসা করে দিলেন তৃণমূলের দুই সাংসদ সুস্মিতা দেব এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তীব্র প্রতিবাদ করলেন, কেন্দ্রের ব্যর্থতা ঢাকতে বাংলার ঘাড়ে দোষ চাপানোর চক্রান্তের। সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অমিত শাহর উদ্দেশ্যে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন এদিন। তিনি (Sushmita Dev) চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন এনআরসি, নাগরিকত্ব-সহ বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে কীভাবে সমাজে বিভেদ তৈরির খেলায় নেমেছে বিজেপি। তাঁর খোলাখুলি অভিযোগ, অসমের বাঙালি হিন্দুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সে-রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার। ঠকিয়েছে অসমিয়া হিন্দু এবং ভারতীয় নাগরিকদেরও। সিএএ লাগু হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৫০ জনকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে এর আওতায়। সুস্মিতা দেব প্রশ্ন তোলেন, জনগণের ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা খরচ করার পরেও আজ পর্যন্ত কেন এ-ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তিই জারি করা হল না? তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে সুস্মিতা বলেন, কথায় কথায় বাংলার ঘাড়ে দোষ চাপানো হয়। কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভোটার তালিকার দাবিতে কীভাবে আপসহীন লড়াই করেছিলেন। জানুন, ২১ জুলাইয়ের তাৎপর্য। এই বিল পর্যলোচনার জন্য কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানান তিনি। এদিন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পরিষদীয় আলোচনা ছাড়া এই বিল পাশ করা উচিত নয়। অতিরিক্ত ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করাই আসলে এই বিলের উদ্দেশ্য। সেই কারণেই এই বিলের অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রবল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও উঠে আসছে এখানে। শরণার্থী এবং অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে সূক্ষ সীমারেখা স্পষ্ট করার জন্যে আরও আলোচনা জরুরি। জোর করে বিল পাশ করানোর প্রতিবাদে এদিন ওয়াক আউট করে তৃণমূল-সহ বিরোধীরা।

আরও পড়ুন-ওয়াকফ : ডিভাইড অ্যান্ড রুল চাইছে কেন্দ্র

Latest article